সমন্বিত ও দক্ষ জনসেবাই ডিজিটাল রূপান্তরের মূল লক্ষ্য: আইসিটি মন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশের সময়: মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ । ৩:১১ অপরাহ্ণ

ডিজিটাল রূপান্তরের লক্ষ্য শুধু প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো বা সরকারি সেবা ডিজিটাল করা নয় বরং সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও সমন্বিত, দক্ষ ও জবাবদিহিমূলক করে উন্নত জনসেবা নিশ্চিত করা বলে মন্তব্য করেছেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম।

মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর হোটেল প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁওয়ে ‘ই-ইফেকটিভ ই-গভারমেন্টস: এসেলারটিং ই-গভারমেন্ট অ্যান্ড ডিজিটাল পাবলিক সার্ভিসেস ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

জাতীয় ডেটা গভর্ন্যান্স, ডিজিটাল রূপান্তর এবং ন্যাশনাল রিসপনসিবল ডেটা এক্সচেঞ্জ (এনআরডিইএক্স) প্ল্যাটফর্ম নিয়ে এ সেমিনারের আয়োজন করে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ। ই-গভর্ন্যান্স একাডেমির (ইজিএ) সহযোগিতায় এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের Global Gateway Initiative-এর অর্থায়নে সেমিনারটি অনুষ্ঠিত হয়।

মন্ত্রী বলেন, বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানের আলাদা আলাদা ডিজিটাল ব্যবস্থা থাকলেই ডিজিটাল সরকার প্রতিষ্ঠিত হয় না। একই তথ্য নাগরিকের কাছ থেকে বারবার সংগ্রহ এবং একই ধরনের প্রযুক্তি সক্ষমতা একাধিক প্রতিষ্ঠানে তৈরি না করে Common Capability, Interoperability ও National Data Exchange ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করতে হবে। একই সঙ্গে সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সমন্বয় বাড়ানো জরুরি।

ফকির মাহবুব আনাম বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার একটি সমন্বিত ডিজিটাল ইকোসিস্টেম গড়ে তুলতে কাজ করছে। নাগরিকদের কাছ থেকে একই তথ্য বারবার না নিয়ে সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে নিরাপদ ও অনুমোদিত উপায়ে তথ্য বিনিময়ের ব্যবস্থা করতে হবে।

তিনি বলেন, Interoperability শুধু প্রযুক্তিগত বিষয় নয়। এর সঙ্গে সুশাসন, অভিন্ন মানদণ্ড, জবাবদিহিতা ও প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতার বিষয়ও জড়িত। তাই একই ধরনের ডিজিটাল ব্যবস্থা বারবার তৈরি না করে অভিন্ন অবকাঠামো ও পুনর্ব্যবহারযোগ্য ডিজিটাল সক্ষমতা গড়ে তুলতে হবে।

তথ্য বিনিময়ের ক্ষেত্রে নিরাপত্তা, দায়িত্বশীলতা ও সুস্পষ্ট নীতিমালা নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্ব দেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, ডিজিটাল প্রকল্পে পুনরাবৃত্তি কমিয়ে যৌথভাবে ব্যবহারযোগ্য জাতীয় সক্ষমতা গড়ে তুলতে হবে।

ফকির মাহবুব আনাম বলেন, নাগরিকের কাছে সরকার কোনো বিচ্ছিন্ন মন্ত্রণালয় বা ডেটাবেজের সমষ্টি নয়, বরং একটি সমন্বিত সেবা ব্যবস্থা। এ কারণে সরকারি ডিজিটাল ব্যবস্থাগুলোকে Connected Ecosystem হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।

তিনি আরও বলেন, সমন্বিত ডিজিটাল ব্যবস্থা সরকারি সেবায় দক্ষতা ও স্বচ্ছতা বাড়ানোর পাশাপাশি নাগরিকের আস্থাও বৃদ্ধি করবে। এ ক্ষেত্রে দায়িত্বশীল ডেটা ব্যবস্থাপনা, আন্তঃপ্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয় এবং নিরাপদ তথ্য বিনিময় গুরুত্বপূর্ণ।

সেমিনারে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রীর ডাক, টেলিযোগাযোগ ও আইটি বিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ বলেন, আগামী পাঁচ বছরে আইন ও নীতিমালা, নিরাপদ কানেক্টিভিটি, ডিজিটাল পাবলিক ইনফ্রাস্ট্রাকচার (DPI), কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও সাইবার নিরাপত্তা, দক্ষ জনশক্তি এবং ইলেকট্রনিকস উৎপাদনকে অগ্রাধিকার দিয়ে সরকার কাজ করবে।

তিনি বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বাংলাদেশের জন্য বড় সুযোগ তৈরি করেছে। শক্তিশালী ডিজিটাল অবকাঠামো, নিরাপদ ডেটা বিনিময় ও উন্মুক্ত API নিশ্চিত করে তরুণ প্রজন্মকে প্রযুক্তি উদ্ভাবনে যুক্ত করা হবে। পাশাপাশি স্টার্টআপ খাতে প্রতি বছর ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সঠিক নীতি, দক্ষ জনশক্তি ও বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করা গেলে বাংলাদেশ বৈশ্বিক ইলেকট্রনিকস উৎপাদনের অন্যতম কেন্দ্রে পরিণত হতে পারে বলেও জানান তিনি।

সেমিনারে সমন্বিত ডিজিটাল রূপান্তর, ডিজিটাল সরকারের ক্ষেত্রে ডেটার মালিকানা, দায়িত্বশীলতা ও আস্থা এবং বাংলাদেশের ডিজিটাল রূপান্তরের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও কৌশলগত অগ্রাধিকার নিয়ে আলোচনা হয়।

অনুষ্ঠানে ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাংলাদেশস্থ প্রতিনিধি দলের হেড অব ইউনিট ও হেড অব কো-অপারেশন মাইকেল ক্রেইজা, বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলের নির্বাহী পরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) ও e-ffective e-governance প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক নাহিদ সুলতানা মল্লিক, e-Governance Academy Management Board-এর সদস্য ইনগ্রিড টুনেকুর্গ, eGA-এর Head of Digital Architecture and Solutions Competence Centre আরভো অট, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সমন্বয় ও সংস্কার সচিব ফারাহ শাম্মী এনডিসি এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সচিব মো. মামুনুর রশীদ ভূঁইয়াসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক: মো: শামসুল আলম খান | ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: এম. আব্দুল্লাহ আল মামুন খান | কপিরাইট © কালের আলো সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন