সরকারি অর্থের অপচয় মেনে নেওয়া হবে না : অর্থমন্ত্রী

চট্টগ্রাম প্রতিবেদক
প্রকাশের সময়: মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ । ৩:৩০ অপরাহ্ণ

সরকারি অর্থের অপচয় মেনে নেওয়া হবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেছেন, ‘যেকোনো সরকারি প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে করদাতার টাকার সঠিক ব্যবহার ও প্রতিদান নিশ্চিত করতে হবে। চারটি নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ না করলে কোনো প্রকল্পই অনুমোদন দেওয়া হবে না ।’

মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) দুপুর আড়াইটায় চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) ২৪তম বিশ্ববিদ্যালয় দিবস (প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী) উপলক্ষ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘আমি বাণিজ্যমন্ত্রী থাকার সময়, আজ থেকে প্রায় ২৪ বছর আগে ঢাকায় প্রথম একটি আইটি ইনকিউবেটর করেছিলাম। তবে পরবর্তী সময়ে সরকারগুলোর ধারাবাহিক উদ্যোগ ও তদারকির অভাবে তা থেকে পুরোপুরি সুবিধা নেওয়া যায়নি। চুয়েটেও আইটি ইনকিউবেটরে একটি বড় অবকাঠামোগত বিনিয়োগ হয়েছে। কিন্তু এই বিনিয়োগ থেকে আমরা আদৌ কোনো ভালো ফলাফল পাচ্ছি কিনা, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।’

প্রকল্প অনুমোদনের ক্ষেত্রে চার শর্তের কথা উল্লেখ করে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘অর্থমন্ত্রী হিসেবে কোনো প্রজেক্ট পাস করার আগে আমি চারটি বিষয় নিশ্চিত করি। প্রথমত সেখানে অর্থের সঠিক মূল্য আছে কিনা; দ্বিতীয়ত এই বিনিয়োগ থেকে কী রিটার্ন বা প্রতিদান আসছে; তৃতীয়ত এটি কর্মসংস্থান তৈরি করছে কিনা এবং চতুর্থত পরিবেশগত দিক রক্ষা করা হচ্ছে কিনা। এই চার শর্ত পূরণ না করলে আমার কাছে কোনো প্রজেক্ট আনবেন না, আমি ফেরত পাঠিয়ে দেব। কারণ এগুলো বাংলাদেশের সাধারণ করদাতাদের টাকা, কোনো অবস্থাতেই এই টাকার অপচয় মেনে নেওয়া হবে না।’

তিনি বলেন, ‘একটি প্রতিষ্ঠানের ওপর বিশ্ববিদ্যালয়, আইসিটি মন্ত্রণালয় ও ইউজিসি- এই তিনটির নিয়ন্ত্রণ থাকলে সেখানে কাজ হয় না। এটা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের ভেতরের বিষয়, তাই এটি চুয়েটের নিজেরই পরিচালনা করা উচিত এবং এখান থেকে কী আউটপুট আসবে, তার পরিকল্পনাও চুয়েটকেই করতে হবে। ঢাকায় ফিরে আমি আইসিটি মন্ত্রণালয় ও ইউজিসির সঙ্গে কথা বলব এবং চুয়েট ভিসিকেও ঢাকায় এসে বৈঠক করে এই জটিলতার স্থায়ী সমাধান করার পরামর্শ দিচ্ছি।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের উদ্যোগ ও চ্যালেঞ্জ নেওয়ার মানসিকতার প্রশংসা করে মন্ত্রী আরও বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের অগ্রগতির জন্য চুয়েট উপাচার্যের বেশ কিছু ভালো ধারণা রয়েছে এবং তিনি চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করতে প্রস্তুত। আশা করি বিজনেস-অ্যাজ-ইউজুয়াল ধারার বাইরে গিয়ে অল্প সময়ে চুয়েটকে তারা আরও অনেক দূর এগিয়ে নিয়ে যাবেন।’

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক: মো: শামসুল আলম খান | ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: এম. আব্দুল্লাহ আল মামুন খান | কপিরাইট © কালের আলো সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন