নতুন পে-স্কেল নিয়ে যখন সরকারি চাকরিজীবীদের মধ্যে বেতন বাড়ার হিসাব-নিকাশ চলছে, তখন বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের জন্যও আসছে বড় সুখবর। সরকারের নবম পে-স্কেলের আওতায় ছয় লাখের বেশি এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীকে অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ফলে সরকারি চাকরিজীবীদের মতো তারাও নতুন বেতন কাঠামো অনুযায়ী বর্ধিত মূল বেতন পাওয়ার সুযোগ পেতে পারেন।
সরকারের উচ্চপর্যায়ের একটি সূত্র জানিয়েছে, বর্তমানে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা যে গ্রেডে রয়েছেন, নতুন বেতন কাঠামোতেও সেই গ্রেড ধরে তাদের মূল বেতন সমন্বয় করা হবে। এর সঙ্গে নির্ধারিত ১৫ শতাংশ বাড়িভাড়াসহ সংশ্লিষ্ট কিছু ভাতাও বাড়তে পারে। এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে সরকারের অতিরিক্ত ব্যয় হতে পারে প্রায় সাড়ে ১২ হাজার কোটি টাকা।
শিক্ষামন্ত্রী এহছানুল হক মিলনের বক্তব্যেও বিষয়টির ইতিবাচক ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় তিনি বলেন, এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা ও সুযোগ-সুবিধার বিষয়টি সরকার বিবেচনায় নিয়েছে। শিক্ষকদের মূল কাজ শ্রেণিকক্ষে পাঠদান করা উল্লেখ করে তিনি বলেন, তাদের সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর দায়িত্ব সরকারের এবং এ নিয়ে কাজ চলছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও বিষয়টি অবগত আছেন বলে জানান তিনি। এর আগে খুলনা ও চাঁদপুরে পৃথক অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী আরও স্পষ্ট করে বলেন, শিক্ষকরা পে-স্কেল অনুযায়ী বেতন-ভাতা পাবেন। ফলে দীর্ঘদিন ধরে বেতন কাঠামো নিয়ে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের যে অনিশ্চয়তা ছিল, তা অনেকটাই কাটতে শুরু করেছে।
ছয় লাখের বেশি শিক্ষক-কর্মচারীর হিসাব
মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) সূত্রে জানা গেছে, দেশে বর্তমানে ছয় লাখের বেশি এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারী রয়েছেন। এর মধ্যে মাউশির অধীনে প্রায় চার লাখ, মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীনে প্রায় পৌনে দুই লাখ এবং কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীনে ২৩ হাজারের বেশি শিক্ষক-কর্মচারী রয়েছেন। নতুন পে-স্কেল ঘোষণার পর সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তরগুলোতে শিক্ষক-কর্মচারীদের সর্বশেষ তথ্য এবং বেতন-ভাতার হিসাব হালনাগাদের কাজ চলছে। এর অর্থ, শুধু নীতিগত সিদ্ধান্ত নয়—বাস্তবায়নের প্রস্তুতিও শুরু হয়েছে। তবে এখানেই রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য যেভাবে সব ভাতা একই সময়ে ও একই হারে কার্যকর হয়, এমপিওভুক্তদের ক্ষেত্রে অতীতে তেমনটি হয়নি। এবারও বাড়িভাড়া, চিকিৎসা, উৎসবসহ অন্যান্য ভাতা কোন হারে এবং কখন থেকে কার্যকর হবে, তা পৃথক সরকারি আদেশের মাধ্যমে নির্ধারণ করা হতে পারে।
অষ্টম পে-স্কেল দেখাচ্ছে সম্ভাব্য পথ
এবারের সিদ্ধান্ত বুঝতে ২০১৫ সালের অষ্টম পে-স্কেলের অভিজ্ঞতা গুরুত্বপূর্ণ। সে সময় শুরুতে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের নতুন বেতন কাঠামোয় অন্তর্ভুক্তির বিষয়টি স্পষ্ট ছিল না। পরে বিশেষ পরিপত্র জারি করে তাদের নতুন পে-স্কেলের সঙ্গে সমন্বয় করা হয়। ২০১৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা ব্যাংকের মাধ্যমে বর্ধিত মূল বেতন পেতে শুরু করেন।
তবে অন্যান্য ভাতা সমন্বয়ের কাজ শেষ হতে আরও সময় লাগে; ২০১৭ সালে এ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। এবারও একই ধরনের প্রক্রিয়া অনুসরণের সম্ভাবনা রয়েছে। নবম পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশের পর অর্থ বিভাগ ও শিক্ষা মন্ত্রণালয় যৌথভাবে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের জন্য পৃথক পরিপত্র জারি করতে পারে। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেকও বিষয়টিকে সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ের সিদ্ধান্ত হিসেবে উল্লেখ করে বলেছেন, এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা হতাশ হবেন না এবং বিষয়টি নিয়ে কাজ চলছে।
কালের আলো/এম/এএইচ

কালের আলো রিপোর্ট:
প্রকাশের সময়: বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ । ৭:২৯ পূর্বাহ্ণ