OpenAI-এর বিরুদ্ধে গোপন তথ্য চুরির চাঞ্চল্যকর অভিযোগ Apple-এর

তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক
প্রকাশের সময়: বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ । ৩:০২ অপরাহ্ণ

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) প্রতিষ্ঠান OpenAI-এর বিরুদ্ধে চলমান ট্রেড সিক্রেট মামলায় নতুন ও গুরুতর অভিযোগ এনেছে প্রযুক্তি জায়ান্ট Apple। আদালতে দাখিল করা নতুন নথিতে Apple দাবি করেছে, তাদের এক সাবেক কর্মী OpenAI-তে যোগ দেওয়ার পরও গোপন Apple প্রযুক্তিগত তথ্য ব্যবহার করেছেন। এমনকি তদন্তের বিষয়টি জানতে পেরে তিনি এক সহকর্মীর সহায়তায় প্রমাণ নষ্ট করার চেষ্টা করেছেন বলেও অভিযোগ করেছে Apple।

মামলার নতুন দাখিল করা নথির কেন্দ্রে রয়েছেন চ্যাং লিউ নামের এক সাবেক Apple কর্মী, যিনি বর্তমানে OpenAI-তে কাজ করছেন। Apple-এর দাবি, চলতি মাসের শুরুতে লিউয়ের পুরোনো অফিসের ল্যাপটপ পরীক্ষা করার জন্য নেওয়া হয়। সেই ডিভাইস বিশ্লেষণ করে কোম্পানিটি এমন তথ্য পেয়েছে, যা তাদের অভিযোগকে আরও জোরালো করেছে।

Apple বলছে, লিউ OpenAI-তে কাজ করার সময় একটি গোপনীয় Apple সার্কিট স্কিম্যাটিক ব্যবহার করেছেন। ওই নকশাটি Apple-এর অভ্যন্তরীণ প্রকৌশল কার্যক্রমের সঙ্গে সম্পর্কিত এবং কোম্পানির গোপন প্রযুক্তিগত তথ্যের অংশ বলে দাবি করা হয়েছে।

এছাড়া লিউ এমন একটি সফটওয়্যার টুলও ব্যবহার করেছেন বলে অভিযোগ করেছে Apple, যার নাম Apple-এর একটি অভ্যন্তরীণ ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যাপ্লিকেশনের সঙ্গে মিলে যায়। কোম্পানিটির দাবি, OpenAI লিউয়ের Apple-এর তথ্য ও সিস্টেমে অব্যাহত প্রবেশাধিকারের বিষয়টি সম্পর্কে অবগত ছিল।

Apple-এর অভিযোগের সবচেয়ে গুরুতর অংশ হলো—তদন্তের বিষয়টি জানতে পারার পর লিউ নাকি OpenAI-এর এক সহকর্মী ইউ-টিং পেংয়ের সহায়তায় প্রমাণ ধ্বংস করার চেষ্টা করেন।

Apple-এর দাবি, জুন মাসে লিউ জানতে পারেন যে তার কর্মকাণ্ড নিয়ে তদন্ত চলছে। এরপর তিনি পেংকে প্রমাণ নষ্ট করতে সহায়তা করার জন্য যুক্ত করেন। আদালতে দেওয়া নথিতে Apple বলেছে, তারা কোনো ভিত্তিহীন অনুসন্ধান বা ‘ফিশিং এক্সপেডিশন’ চালাচ্ছে না; বরং তাদের বাণিজ্যিক গোপন তথ্য ব্যবহার করা হয়েছে এবং সেই তথ্য চুরির প্রমাণ ধ্বংসের চেষ্টা হয়েছে।

এই অভিযোগ প্রমাণিত হলে মামলাটি Apple ও OpenAI-এর মধ্যকার প্রযুক্তিগত ও আইনি বিরোধকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।

তবে Apple-এর অভিযোগের বিষয়ে OpenAI-এর অবস্থান ভিন্ন। প্রতিষ্ঠানটি আগে জানিয়েছে, লিউ Apple ছাড়ার পর কিছু Apple ফাইল অ্যাক্সেস করেছিলেন সাবেক সহকর্মীদের সহায়তা করার জন্য। ওই সহকর্মীরা তার কাছে সাহায্য চেয়েছিলেন বলেও OpenAI-এর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে।

OpenAI-এর যুক্তি হলো, কর্মীরা প্রতিষ্ঠান ছাড়ার পরও যদি Apple-এর অভ্যন্তরীণ সিস্টেম বা তথ্য অ্যাক্সেস করতে পারেন, তাহলে সেটি Apple-এর নিজস্ব সিস্টেম অ্যাক্সেস ব্যবস্থাপনার দুর্বলতার বিষয়ও তুলে ধরে।

অন্যদিকে Apple দাবি করেছে, লিউ একটি বিরল ধরনের authentication bug বা পরিচয় যাচাই-সংক্রান্ত ত্রুটিকে কাজে লাগিয়ে Apple-এর তথ্য ও সিস্টেমে প্রবেশাধিকার ধরে রেখেছিলেন।

মামলায় Apple শুধু ক্ষতিপূরণ চাওয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। কোম্পানিটি আদালতের কাছে preliminary injunction বা প্রাথমিক নিষেধাজ্ঞা চেয়েছে।

এই নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমে OpenAI যেন Apple-এর প্রযুক্তির ওপর ভিত্তি করে কোনো হার্ডওয়্যার উন্নয়ন বা সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম চালাতে না পারে, সেটি নিশ্চিত করতে চাইছে Apple।

Apple-এর প্রাথমিক মামলার নথি অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটির ৪০০-এর বেশি সাবেক কর্মী বর্তমানে OpenAI-তে কাজ করছেন। ফলে সাবেক কর্মীদের মাধ্যমে Apple-এর গোপন প্রযুক্তি বা বাণিজ্যিক তথ্য OpenAI-তে পৌঁছানোর সম্ভাবনা নিয়ে কোম্পানিটির উদ্বেগের বিষয়টিও মামলায় গুরুত্ব পাচ্ছে।

Apple ও OpenAI-এর মধ্যকার এই আইনি লড়াই প্রযুক্তি খাতে মেধাস্বত্ব, কর্মীদের তথ্য-অ্যাক্সেস এবং প্রতিদ্বন্দ্বী প্রতিষ্ঠানে যোগ দেওয়ার পর গোপন প্রযুক্তিগত তথ্য ব্যবহারের সীমা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। তবে আদালতে উত্থাপিত Apple-এর এসব অভিযোগ এখনো চূড়ান্তভাবে প্রমাণিত হয়নি।

কালের আলো/এসএ

প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক: মো: শামসুল আলম খান | ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: এম. আব্দুল্লাহ আল মামুন খান | কপিরাইট © কালের আলো সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন