অর্থঋণ আদালতের মাধ্যমে বিচারিক নিলামে বিক্রি হওয়া স্থাবর সম্পত্তির মূল্যের ওপর ১৫ শতাংশ মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) আরোপ অবৈধ ঘোষণা করেছেন হাইকোর্ট।
বিচারপতি সরদার রাশেদ জাহাঙ্গীর ও বিচারপতি জিয়াউল হকের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় দেন। মঙ্গলবার আদালত রায় দিলেও বৃহস্পতিবার বিষয়টি নিশ্চিত করেন নিলাম ক্রেতাদের আইনজীবী ব্যারিস্টার সাকিব মাহবুব।
মামলার নথি অনুযায়ী, একটি ঋণগ্রহীতা প্রতিষ্ঠান ব্যাংকের ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক অর্থঋণ আদালতে মামলা করে। পরে অর্থঋণ আদালত আইন, ২০০৩-এর ৩৩(১) ধারার অধীনে ঋণের বিপরীতে বন্ধক রাখা সম্পত্তি নিলামে তোলে।
নিলামে আবেদনকারীরা সর্বোচ্চ ২৪ কোটি টাকা দর দিয়ে সম্পত্তিটি কিনে নেন। তাদের দর অনুমোদনের পর সম্পূর্ণ অর্থ জমা দেওয়া হলেও অর্থঋণ আদালত নিলামমূল্যের ওপর ১৫ শতাংশ ভ্যাট ও প্রয়োজনীয় স্ট্যাম্প ডিউটি জমা দেওয়ার নির্দেশ দেয়।
ওই নির্দেশ চ্যালেঞ্জ করে নিলাম ক্রেতারা হাইকোর্টে রিট করেন। শুনানি শেষে আদালত রুল ও সম্পূরক রুল চূড়ান্ত ঘোষণা করে রায় দেন।
রায়ে হাইকোর্ট বলেন, নিলাম ক্রেতাদের নিলামমূল্যের ওপর উৎসে ১৫ শতাংশ ভ্যাট পরিশোধের নির্দেশ দিয়ে অর্থঋণ আদালত যে আদেশ দিয়েছিল, তা আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত এবং এর কোনো আইনগত কার্যকারিতা নেই।
একই সঙ্গে স্থাবর সম্পত্তির ক্রেতাকে ‘পণ্যের নিলাম ক্রেতা’ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা বিতর্কিত এসআরওর সংশ্লিষ্ট অংশকেও আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করেন আদালত।
আইনজীবীদের মতে, এই রায়ের ফলে অর্থঋণ আদালতের মাধ্যমে বিচারিক নিলামে কেনা স্থাবর সম্পত্তির মূল্যের ওপর ১৫ শতাংশ ভ্যাট আরোপের সুযোগ থাকছে না। দেশের বিভিন্ন অর্থঋণ আদালতে ডিক্রি বাস্তবায়নের জন্য পরিচালিত বিচারিক নিলাম এবং নিলামে স্থাবর সম্পত্তি কেনার ক্ষেত্রে এ রায় গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে।
কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশের সময়: বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ । ১০:৫১ পূর্বাহ্ণ