২১ দেশে বছরে ২ কোটি শিশু অনলাইনে যৌন নির্যাতনের শিকার: ইউনিসেফ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশের সময়: বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ । ১১:২২ পূর্বাহ্ণ

বিশ্বের ২১টি দেশে প্রতি বছর প্রায় দুই কোটি শিশু অনলাইনে অন্তত এক ধরনের যৌন শোষণ বা নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। জাতিসংঘের শিশু সংস্থা ইউনিসেফের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, জরিপে অংশ নেওয়া ১২ থেকে ১৭ বছর বয়সী শিশুদের প্রায় প্রতি পাঁচজনের একজন অনলাইনে যৌন শোষণ বা নির্যাতনের অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছে। আফ্রিকা, এশিয়া, লাতিন আমেরিকা ও পূর্ব ইউরোপের ২১টি দেশের তথ্যের ভিত্তিতে এই হিসাব করা হয়েছে।

ইউনিসেফের হিসাবে, প্রায় দেড় কোটি শিশু অনিচ্ছাকৃতভাবে যৌন বিষয়বস্তুর মুখোমুখি হয়েছে। প্রায় ৯০ লাখ শিশুকে যৌন আলাপ বা যৌন ছবি শেয়ার করতে চাপ দেওয়া হয়েছে। আর প্রায় ৪০ লাখ শিশুর যৌন ছবি তাদের সম্মতি ছাড়াই অন্যদের কাছে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।

ইউনিসেফ আশঙ্কা করছে, বিশ্বজুড়ে এ ধরনের নির্যাতনের প্রকৃত শিকার শিশুর সংখ্যা কয়েক কোটি হতে পারে। কারণ, অনেক শিশু ভয়, লজ্জা কিংবা সামাজিক চাপের কারণে এসব ঘটনা প্রকাশ করে না বা কর্তৃপক্ষকে জানায় না।

প্রতিবেদনে ২০২০ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে ২১টি দেশে প্রায় ২১ হাজার ইন্টারনেট ব্যবহারকারী শিশুর ওপর পরিচালিত জাতীয় প্রতিনিধিত্বশীল জরিপের তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়েছে। দেশগুলোর মধ্যে কেনিয়া, পাকিস্তান, ব্রাজিল ও সার্বিয়াও রয়েছে।

ইউনিসেফের তথ্য অনুযায়ী, অনলাইনে শিশুদের যৌন শোষণ ও নির্যাতনের প্রায় ৬০ শতাংশ ঘটনাই ঘটেছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। এসব ঘটনার মধ্যে ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ, ইনস্টাগ্রাম, স্ন্যাপচ্যাট ও টিকটকের মতো প্ল্যাটফর্মের ব্যবহার রয়েছে। এ ছাড়া প্রায় ১৪ শতাংশ ঘটনা ঘটেছে অনলাইন গেমিং প্ল্যাটফর্মে।

তবে মেটার এক মুখপাত্র ইউনিসেফের জরিপের তথ্যের বড় একটি অংশ পুরোনো বলে দাবি করেছেন।

মেটা জানিয়েছে, কিশোরদের সুরক্ষায় তাদের প্ল্যাটফর্মগুলোতে ইতোমধ্যে বেশ কিছু ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে কিশোরদের অ্যাকাউন্ট স্বয়ংক্রিয়ভাবে ব্যক্তিগত রাখা এবং অপরিচিত প্রাপ্তবয়স্কদের কাছ থেকে বার্তা আসা ঠেকানোর ব্যবস্থা রয়েছে।

কোম্পানিটির দাবি, শিশুদের যৌন শোষণ প্রতিরোধে তাদের সব প্ল্যাটফর্মে কঠোরভাবে কাজ চলছে। পাশাপাশি শিশু নির্যাতনের সঙ্গে জড়িত অপরাধীদের শনাক্ত ও বিচারের আওতায় আনতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সহযোগিতা করা হচ্ছে।

কালের আলো/এসএ

 

প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক: মো: শামসুল আলম খান | ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: এম. আব্দুল্লাহ আল মামুন খান | কপিরাইট © কালের আলো সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন