হরমুজ প্রণালিতে সৌদি তেলবাহী জাহাজে ইরানের হামলার অভিযোগ, নিহত কয়েক ক্রু

আ
প্রকাশের সময়: বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ । ১১:৩৭ পূর্বাহ্ণ

হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাওয়ার সময় সৌদি আরবের একটি তেলবাহী জাহাজে ইরান হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ করেছে রিয়াদ। ‘সিদর’ নামের ওই জাহাজে হামলায় কয়েকজন ক্রু নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে সৌদি আরব।

বুধবার সৌদি আরবের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানায়। জাহাজে হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে রিয়াদ বলেছে, হরমুজ প্রণালির মতো গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক নৌপথে এ ধরনের সামরিক কর্মকাণ্ড আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক নিরাপত্তার জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করছে।

সৌদি আরব একই সঙ্গে জর্ডান, বাহরাইন ও কুয়েতসহ মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য দেশে ইরানের সামরিক হামলারও নিন্দা জানিয়েছে। এসব দেশের সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষায় তারা যেসব পদক্ষেপ নেবে, তার প্রতি সমর্থন জানিয়েছে রিয়াদ।

সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, হরমুজ প্রণালিতে সামরিক উত্তেজনা শুধু আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য নয়, পুরো বিশ্বের জন্যই ঝুঁকিপূর্ণ। কারণ, গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ দিয়ে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের পাশাপাশি বিপুল পরিমাণ জ্বালানি পরিবহন করা হয়।

রিয়াদ সমুদ্রপথে নিরাপদ ও অবাধ বাণিজ্য এবং বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সরবরাহের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপর জোর দিয়েছে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক আইন, জাতিসংঘ সনদ এবং রাষ্ট্রগুলোর সার্বভৌমত্বের প্রতি সম্মান দেখানোর আহ্বান জানিয়েছে।

সৌদি আরব বর্তমান সামরিক উত্তেজনা বন্ধ করে সংঘাতের সমাধানে শান্তিপূর্ণ কূটনৈতিক আলোচনায় ফিরে যাওয়ার জন্য সব পক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে। পাশাপাশি সর্বোচ্চ সংযম দেখানোরও আহ্বান জানিয়েছে দেশটি।

সিদর জাহাজে হামলার ঘটনায় নিন্দা জানিয়েছে কাতার। দোহা বলেছে, জাহাজটিতে হামলা এবং কয়েকজন ক্রুর নিহত হওয়ার ঘটনা আন্তর্জাতিক আইন ও সমুদ্রপথে অবাধ নৌ চলাচলের নীতির লঙ্ঘন।

হরমুজ প্রণালিকে কোনো পক্ষের ওপর চাপ তৈরির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা উচিত নয় বলে মন্তব্য করেছে কাতার। গুরুত্বপূর্ণ এই আন্তর্জাতিক জলপথ অবিলম্বে ও কোনো শর্ত ছাড়াই আবার খুলে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে দেশটি।

কাতার আরও বলেছে, ইরানের উচিত প্রতিবেশী আরব দেশগুলোর সম্পদের ওপর হামলা বন্ধ করা। একই সঙ্গে সৌদি আরবের প্রতি পূর্ণ সংহতি প্রকাশ করেছে দোহা এবং সৌদি আরব তার নিরাপত্তা, সম্পদ ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় যেসব পদক্ষেপ নেবে, তার প্রতি সমর্থন জানিয়েছে।

সিদর জাহাজে হামলার ঘটনায় কুয়েতও নিন্দা জানিয়েছে। দেশটি সতর্ক করে বলেছে, সমুদ্রে হামলা ও সামরিক উত্তেজনা অব্যাহত থাকলে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সরবরাহ এবং অবাধ নৌ চলাচল মারাত্মক হুমকির মুখে পড়তে পারে।

কুয়েতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় হরমুজ প্রণালিতে স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং সামরিক উত্তেজনা দ্রুত বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে। আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলা ও অবাধ নৌ চলাচলের অধিকার নিশ্চিত করার ওপরও জোর দিয়েছে দেশটি।

সৌদি তেলবাহী জাহাজে হামলার অভিযোগ এমন এক সময়ে সামনে এলো, যখন মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা আরও বেড়েছে।

এর আগে ইরানের বিপ্লবী গার্ড জর্ডান, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত, বাহরাইন এবং ইরাকের স্বায়ত্তশাসিত কুর্দিস্তান অঞ্চলে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে হামলা চালানোর দাবি করেছে।

তেহরানের দাবি, এসব হামলা যুক্তরাষ্ট্রের আগের সামরিক অভিযানের জবাবে চালানো হয়েছে। ইরানের ভাষ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের ওই অভিযানে ১৮ জন নিহত হয়েছেন।

হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হওয়ায় সেখানে সামরিক উত্তেজনা দীর্ঘায়িত হলে আন্তর্জাতিক তেলবাজার, জাহাজ চলাচল এবং বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের প্রভাব পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

সূত্র: এএনআই

কালের আলো/এসএ

প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক: মো: শামসুল আলম খান | ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: এম. আব্দুল্লাহ আল মামুন খান | কপিরাইট © কালের আলো সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন