যুক্তরাষ্ট্রের সর্বশেষ হামলার পর কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের ওপর নজরদারি ও নিয়ন্ত্রণ আরও জোরদার করেছে ইরান। এরই মধ্যে প্রণালিটি দিয়ে চলাচলের ক্ষেত্রে কালো তালিকাভুক্ত জাহাজের সংখ্যা ৫০টির বেশি করেছে দেশটি।
আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে কোন জাহাজ চলাচল করতে পারবে, তা ইরান বেছে বেছে নির্ধারণ করছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। গত রাতে পরিস্থিতি তুলনামূলক শান্ত থাকলেও যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের পাল্টাপাল্টি বক্তব্যে উত্তেজনা কমার কোনো ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি।
মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট বলেছেন, হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী বাণিজ্যিক জাহাজে ইরানের হামলা বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত ওয়াশিংটন তেহরানের সঙ্গে আলোচনায় ফিরবে না।
অন্যদিকে ইরানের ভাইস প্রেসিডেন্ট জানিয়েছেন, সর্বশেষ মার্কিন হামলা ইরান নীরবে মেনে নেবে না। এর জবাব অসমমিত ও বহুস্তরীয় কৌশলে দেওয়া হবে বলেও তিনি জানিয়েছেন।
বর্তমানে স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল কমে গেলেও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, এতে কোনো সমস্যা নেই। তবে ইরানের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, গত কয়েক দিনের হামলা ও পাল্টা হামলার মধ্যেও তেল পরিবহন অব্যাহত রয়েছে।
আল জাজিরার প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, উপসাগরীয় দেশগুলোর তেলবাহী ট্যাংকারের তুলনায় ইরাকের বাণিজ্যিক জাহাজগুলো তুলনামূলক কম বাধার মুখে হরমুজ প্রণালি পার হতে পারছে। এর ফলে ইরান নির্দিষ্ট কিছু জাহাজকে বেছে বেছে প্রণালি পার হওয়ার সুযোগ দিচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ইরান ইতোমধ্যে যেসব জাহাজের চলাচল নিষিদ্ধ বা সীমিত করেছে, সেই তালিকা ৫০টির বেশি জাহাজে উন্নীত করেছে। এতে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের ক্ষেত্রে ইরানের নির্ধারিত শর্তগুলো ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, তেহরানের অবস্থান অনেকটা এমন—হরমুজ প্রণালি দিয়ে কোন জাহাজ চলাচল করবে, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ইরানই নেবে এবং এতে দেশটির নিজস্ব শর্ত কার্যকর থাকবে।
সূত্র: আল জাজিরা
কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশের সময়: শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ । ৩:৫২ অপরাহ্ণ