প্রতিদিনের ব্যস্ত জীবনে এমন কিছু অভ্যাস আমরা নিয়মিতই করি, যেগুলোকে খুব একটা ক্ষতিকর মনে হয় না। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে এসব অভ্যাস চালিয়ে গেলে ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়তে পারে। ধূমপান থেকে শুরু করে শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা, অস্বাস্থ্যকর খাবার কিংবা অতিরিক্ত রোদে থাকা—বিভিন্ন পরিচিত ঝুঁকির সঙ্গে ক্যানসারের সম্পর্ক রয়েছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) তথ্য অনুযায়ী, ক্যানসারের উল্লেখযোগ্য একটি অংশ প্রতিরোধযোগ্য ঝুঁকির সঙ্গে সম্পর্কিত। তাই জীবনযাপনে কিছু পরিবর্তন এনে ঝুঁকি কমানো সম্ভব।
১. ধূমপান ও তামাক ব্যবহার
ক্যানসারের অন্যতম প্রধান প্রতিরোধযোগ্য ঝুঁকি তামাক। সিগারেট, বিড়ি বা অন্যান্য তামাকজাত পণ্য ব্যবহারের সঙ্গে ফুসফুসসহ বিভিন্ন ধরনের ক্যানসারের সম্পর্ক রয়েছে। শুধু ধূমপায়ী নন, পরোক্ষ ধূমপানের সংস্পর্শে থাকা ব্যক্তিরাও ঝুঁকিতে পড়তে পারেন।
২. নিয়মিত শরীরচর্চা না করা
সারাদিন বসে থাকা, হাঁটাচলা কম করা এবং নিয়মিত ব্যায়াম না করার অভ্যাস স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা অতিরিক্ত ওজনসহ বিভিন্ন সমস্যার ঝুঁকি বাড়াতে পারে, যা পরোক্ষভাবে কিছু ক্যানসারের ঝুঁকির সঙ্গেও যুক্ত।
৩. অতিরিক্ত ওজন
অতিরিক্ত ওজন ও স্থূলতার সঙ্গে কয়েক ধরনের ক্যানসারের সম্পর্ক রয়েছে। তাই স্বাস্থ্যকর ওজন ধরে রাখা কেবল হৃদ্যন্ত্র বা ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমানোর জন্য নয়, ক্যানসার প্রতিরোধের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ।
৪. অস্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া
প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় ফল, শাকসবজি ও আঁশযুক্ত খাবারের পরিবর্তে অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত ও অস্বাস্থ্যকর খাবার রাখা দীর্ঘমেয়াদে স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। বিশেষ করে প্রক্রিয়াজাত মাংস বেশি খাওয়ার বিষয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা।
৫. অ্যালকোহল পান
অ্যালকোহল সেবনের সঙ্গে মুখ, গলা, খাদ্যনালি, লিভার, বৃহদান্ত্র ও স্তনসহ বিভিন্ন ক্যানসারের সম্পর্ক রয়েছে। পরিমাণ যত বাড়ে, ঝুঁকিও তত বাড়তে পারে।
৬. অতিরিক্ত রোদে থাকা
সূর্যের অতিবেগুনি বা UV রশ্মির দীর্ঘসময় সংস্পর্শ ত্বকের ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। বিশেষ করে তীব্র রোদে দীর্ঘসময় অবস্থান করলে ত্বককে সুরক্ষিত রাখা জরুরি।
৭. বায়ুদূষণের মধ্যে দীর্ঘসময় থাকা
বায়ুদূষণও ক্যানসারের একটি পরিচিত ঝুঁকি। বিশেষ করে দীর্ঘদিন দূষিত বায়ুর সংস্পর্শে থাকলে ফুসফুসের ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়তে পারে।
তবে এসব অভ্যাস থাকলেই কারও ক্যানসার হবে—এমন নয়। ক্যানসার একটি জটিল রোগ, যার পেছনে বয়স, বংশগত কারণ, সংক্রমণ, পরিবেশসহ একাধিক বিষয় কাজ করতে পারে।
তাই ঝুঁকি কমাতে ধূমপান ও তামাক বর্জন, নিয়মিত শরীরচর্চা, স্বাস্থ্যকর খাবার গ্রহণ, স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখা এবং অতিরিক্ত রোদ ও দূষণ থেকে নিজেকে সুরক্ষিত রাখা গুরুত্বপূর্ণ। শরীরে কোনো অস্বাভাবিক পরিবর্তন দীর্ঘদিন থাকলে নিজে থেকে সিদ্ধান্ত না নিয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ।
কালের আলো/এসএ

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশের সময়: শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ । ৬:৩৬ অপরাহ্ণ