সমালোচনা, পদত্যাগের দাবি এবং সম্ভাব্য আইনি জটিলতার মধ্যেও ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো ২০২৭ সালের নির্বাচনে আবারও সভাপতি পদে লড়ার সিদ্ধান্তে অটল রয়েছেন।
আলজাজিরার প্রতিবেদনের বরাতে জানা গেছে, আগামী বছরের নির্বাচনে অংশ নেওয়ার পরিকল্পনায় কোনো পরিবর্তন আনেননি ইনফান্তিনো। ফিফার এক মুখপাত্রও বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেছেন, গত এপ্রিলেই তিনি ২০২৭ সালের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ঘোষণা দিয়েছিলেন এবং সেই সিদ্ধান্ত বহাল রয়েছে।
পোল্যান্ডে চলমান অনূর্ধ্ব-২০ নারী বিশ্বকাপের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হলেও নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে সরাসরি কোনো মন্তব্য করেননি ইনফান্তিনো। তবে এর কয়েক ঘণ্টা পরই ফিফার পক্ষ থেকে তার নির্বাচনে অংশ নেওয়ার বিষয়টি পুনরায় নিশ্চিত করা হয়।
চতুর্থ মেয়াদে প্রার্থী হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে অবশ্য ফিফা সভাপতির বিরুদ্ধে সমালোচনা বাড়ছে। ফিফার বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী, একজন সভাপতি সর্বোচ্চ তিন মেয়াদ বা ১২ বছর দায়িত্ব পালন করতে পারেন। কিন্তু ইনফান্তিনো দাবি করেছেন, ২০১৬ সালে সেপ ব্লাটারের পদত্যাগের পর তিনি যে অসমাপ্ত মেয়াদ পূরণ করেছিলেন, সেটি তার নিজস্ব মেয়াদের অংশ হিসেবে গণনা করা উচিত নয়। এই আইনি ব্যাখ্যার ভিত্তিতেই চতুর্থ মেয়াদে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার পথ খোলা রেখেছেন তিনি।
তার এই অবস্থানের বিরোধিতা করেছেন সমালোচক ও মানবাধিকার সংগঠনগুলোর অনেকে। ইনফান্তিনোকে নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণার বিষয়টি খতিয়ে দেখার জন্য ফিফার গভর্ন্যান্স, অডিট অ্যান্ড কমপ্লায়েন্স কমিটির কাছেও দাবি উঠেছে।
বিশ্বকাপের বাণিজ্যিক স্বত্ব ও ফিফার আয় বাড়ানোর বিভিন্ন পরিকল্পনা নিয়েও সাম্প্রতিক সময়ে বিতর্কে জড়িয়েছেন ইনফান্তিনো। বিশেষ করে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে তার প্রকাশ্য ঘনিষ্ঠতা এবং ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে ট্রাম্পের হাতে ফিফা পিস প্রাইজ তুলে দেওয়ার ঘটনা ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দেয়।
এর পাশাপাশি ফিফার বাণিজ্যিক স্বত্ব নতুন সহযোগী প্রতিষ্ঠান ‘ফিফা ফরোয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ’-এর কাছে হস্তান্তরের পরিকল্পনা নিয়েও বিরোধ তৈরি হয়েছে। এ বিষয়ে ইউরোপীয় ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা উয়েফা যুক্তরাষ্ট্রের একটি ফেডারেল আদালতে নথিপত্র চেয়ে আবেদন করেছে। ভবিষ্যতে ইনফান্তিনো ও ফিফার অন্য কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে সুইজারল্যান্ডে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করছে বলেও উয়েফার আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
ফিফা অবশ্য উয়েফার এই পদক্ষেপকে ‘অযৌক্তিক তথ্য খোঁজার চেষ্টা’ বলে অভিহিত করেছে। সংস্থাটির দাবি, সুইজারল্যান্ড বা অন্য কোথাও এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক ফৌজদারি মামলা হয়নি।
ফিফা সভাপতির পরবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে ২০২৭ সালের ১৮ মার্চ মরক্কোর রাবাতে। প্রার্থীদের আগামী ১৮ নভেম্বরের মধ্যে নিজেদের প্রার্থিতা আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করতে হবে। নির্বাচনে ফিফার ২১১ সদস্য দেশের ভোট থাকবে এবং বিজয়ী হতে প্রয়োজন হবে অন্তত ১০৬ ভোট।
সব বিতর্ক ও চাপের মধ্যেও ইনফান্তিনোর চতুর্থ মেয়াদের লড়াইয়ে নামার সিদ্ধান্ত তাই আগামী মাসগুলোতে ফিফার অন্যতম আলোচিত বিষয় হয়ে থাকছে।
সুত্রঃ আল জাজিরা
কালের আলো/এসএ

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশের সময়: সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ । ৬:০৪ অপরাহ্ণ