দেশে চলমান বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকট নিয়ে জাতীয় সংসদে ব্যাপক আলোচনা হয়েছে। সংকট মোকাবিলায় সরকার ও বিরোধী দলের সদস্যদের সমন্বয়ে একটি টাস্কফোর্স গঠনের প্রস্তাব দিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। একই সঙ্গে সংকট সমাধানে সরকারকে সহযোগিতারও আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের অধিবেশনে ‘তীব্র জ্বালানি ও গ্যাস সংকটের কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত হওয়া, শিল্প-কারখানা বন্ধ হয়ে বেকারত্ব সৃষ্টি এবং জাতীয় অর্থনীতিতে মারাত্মক বিপর্যয় রোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ’ শীর্ষক সাধারণ আলোচনায় এসব বিষয় উঠে আসে।
বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকট এখন মানুষের জীবনযাত্রা ও অর্থনীতিতে সরাসরি প্রভাব ফেলছে। কোথাও কোথাও ১২ থেকে ১৪ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ থাকছে না। এতে শিল্প-কারখানার উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। তাই শুধু আশ্বাস নয়, সংকট মোকাবিলায় সরকারের সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ প্রয়োজন।
তিনি বিদ্যুৎ খাতের ক্যাপাসিটি চার্জের সমালোচনা করে বলেন, জনগণের অর্থে বিদ্যুৎকেন্দ্র বসিয়ে রাখার ব্যবস্থা বন্ধ করতে হবে। সরকার ও বিরোধী দলের সদস্যদের নিয়ে টাস্কফোর্স গঠন করে সম্মিলিতভাবে সংকট মোকাবিলা করা যেতে পারে বলেও জানান তিনি।
জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, দীর্ঘদিনের দুর্বলতা ছয় মাসে পুরোপুরি দূর করা সম্ভব নয়। তবে সংকট সমাধানে সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে। নতুন করে অনুমোদন দেওয়া তিনটি রেন্টাল বিদ্যুৎকেন্দ্রে কোনো ক্যাপাসিটি চার্জ থাকবে না। বিদ্যুৎ উৎপাদন না হলে কোনো অর্থ দেওয়া হবে না—‘নো পাওয়ার, নো মানি’ নীতিতে এগুলো পরিচালিত হবে।
তিনি বলেন, আগের সময়ে গ্যাসের উৎস নিশ্চিত না করেই একের পর এক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ এবং দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধানের পরিবর্তে আমদানিনির্ভরতা বাড়ানো হয়েছে। পুরোনো বিদ্যুৎ আমদানি চুক্তি রাতারাতি বাতিল করাও সম্ভব নয় বলে জানান তিনি।
এদিকে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত চলমান সংকটের জন্য দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, বর্তমান বাস্তবতা আড়াল করার সুযোগ নেই। ভুল নীতি, দীর্ঘদিনের পরিকল্পনার ঘাটতি এবং আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতার প্রভাব মিলিয়ে সংকট তৈরি হয়েছে।
তিনি জানান, মেয়াদ শেষে অবসরে যাওয়া পাঁচটি বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে ক্যাপাসিটি চার্জ ছাড়াই ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে। পাশাপাশি এইচএফওভিত্তিক কেন্দ্র থেকে সর্বোচ্চ ৪ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে। চলতি সপ্তাহে রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের বন্ধ থাকা ৬৬০ মেগাওয়াটের একটি ইউনিট চালুর সম্ভাবনাও রয়েছে।
গ্যাস সংকট মোকাবিলায় ১০৬টি কূপ খননের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী। এর মধ্যে ৩০টির কাজ চলছে। পাশাপাশি নতুন এফএসআরইউ স্থাপন ও মাতারবাড়ীতে স্থলভিত্তিক এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সংসদে আলোচনায় জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান মোমেন বিদ্যুৎ ও গ্যাসকে জনগণের অধিকার হিসেবে উল্লেখ করে মিটার ভাড়া ও ডিমান্ড চার্জ বন্ধের দাবি জানান। পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ আবদুর রহিম সাকি স্থানীয়ভাবে গ্যাস উৎপাদন ও নবায়নযোগ্য জ্বালানির ওপর গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলেন।
সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়নের মাধ্যমে বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকট থেকে বেরিয়ে আসার চেষ্টা চলছে।
কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশের সময়: মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ । ১২:২৪ পূর্বাহ্ণ