সুগন্ধি চাল রফতানির কোটা অর্ধেকে নামাল সরকার

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশের সময়: মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ । ৯:০২ অপরাহ্ণ

দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে চালের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা, খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সম্ভাব্য মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণে সুগন্ধি চাল রফতানির অনুমোদিত কোটা ৫০ শতাংশ কমিয়েছে সরকার।

মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের রফতানি-২ শাখা থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, আগে অনুমোদিত ২৭৮টি প্রতিষ্ঠানের সুগন্ধি চাল রফতানির বরাদ্দ অর্ধেকে পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে। সংশোধিত বরাদ্দ অবিলম্বে কার্যকর হবে এবং এর মেয়াদ থাকবে ৩১ ডিসেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত।

এর আগে দুই দফায় ২৭৮টি প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে মোট ৪৫ হাজার ২৭০ মেট্রিক টন সুগন্ধি চাল রফতানির অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। তবে ৩০ আগস্ট পর্যন্ত ১২৯টি প্রতিষ্ঠান মাত্র ২ হাজার ৪১৯ মেট্রিক টন চাল রফতানি করতে পেরেছে।

নতুন সিদ্ধান্তের ফলে সংশ্লিষ্ট রফতানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো আগের অনুমোদিত বরাদ্দের সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ পর্যন্ত সুগন্ধি চাল রফতানি করতে পারবে। নির্ধারিত সীমার বেশি রফতানির সুযোগ থাকবে না।

এদিকে রফতানি কার্যক্রমে নজরদারি ও জবাবদিহিতা বাড়াতে ১০টি শর্ত আরোপ করেছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। প্রতিটি চালান রফতানির আগে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ পণ্যের মান ও সত্যতা যাচাই করবে। জাহাজীকরণের পর সংশ্লিষ্ট নথিপত্রও মন্ত্রণালয়ে জমা দিতে হবে।

এ ছাড়া ভবিষ্যতে নতুন রফতানি অনুমোদনের আবেদন করলে আগের বরাদ্দের বিপরীতে প্রকৃত রফতানির পূর্ণাঙ্গ তথ্য ও প্রমাণ দিতে হবে। অনুমোদন অন্য প্রতিষ্ঠানের কাছে হস্তান্তর বা সাব-কন্ট্রাক্টের মাধ্যমে রফতানির সুযোগও থাকছে না।

আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যের মূল্য সুরক্ষায় সুগন্ধি চালের সর্বনিম্ন এফওবি রফতানিমূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে প্রতি কেজি ১ দশমিক ৬০ মার্কিন ডলার। পাশাপাশি রফতানি আয় দেশে ফেরত আনার প্রমাণ হিসেবে প্রসিডস রিয়ালাইজেশন সার্টিফিকেট (পিআরসি) দাখিল বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, রফতানি থেকে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন গুরুত্বপূর্ণ হলেও খাদ্যপণ্যের ক্ষেত্রে দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে সরবরাহ ও মূল্যস্থিতিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। তাই সুগন্ধি চাল রফতানি পুরোপুরি বন্ধ না করে নিয়ন্ত্রিত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক: মো: শামসুল আলম খান | ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: এম. আব্দুল্লাহ আল মামুন খান | কপিরাইট © কালের আলো সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন