পদ্মার ভয়াবহ ভাঙনে বিলীন হচ্ছে ঘরবাড়ি-রাস্তা-ফসলি জমি

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশের সময়: বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ । ১০:১৯ পূর্বাহ্ণ

কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার সীমান্তঘেঁষা পদ্মা নদীর তীরবর্তী কয়েকটি এলাকায় ভয়াবহ নদীভাঙন দেখা দিয়েছে। প্রবল স্রোতে বসতবাড়ি, ফসলি জমি, চলাচলের রাস্তা ও বৈদ্যুতিক খুঁটি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাওয়ায় আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন নদীপাড়ের বাসিন্দারা।

উপজেলার চিলমারী ইউনিয়নের উদয়নগর, আতারপাড়া ও ডিগ্রীরচর এলাকায় প্রায় এক কিলোমিটার এলাকাজুড়ে গত কয়েক দিন ধরে ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করেছে। স্থানীয়দের দাবি, গত দুই-তিন দিনে নদীর স্রোত অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় ভাঙনের মাত্রাও দ্রুত বেড়েছে।

বাসিন্দারা জানান, প্রায় ১০ থেকে ১৫ দিন আগে পদ্মায় নতুন করে পানি প্রবেশের পর ভাঙন শুরু হয়। তবে সাম্প্রতিক সময়ে স্রোতের চাপ বেড়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে উঠেছে। এরই মধ্যে বেশ কিছু বসতভিটা, কৃষিজমি, রাস্তা ও বৈদ্যুতিক খুঁটি নদীতে চলে গেছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, রাজশাহীর বাঘা উপজেলার আলাইপুর এলাকায় বেড়িবাঁধ নির্মাণের ফলে পদ্মার স্রোতের চাপ তাদের এলাকায় বেশি পড়ছে। এতে ভাঙনের তীব্রতা আরও বেড়েছে বলে দাবি তাদের।

স্থানীয় বাসিন্দা রাসেল সরকার বলেন, প্রায় এক সপ্তাহ ধরে ভাঙন চলছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে এর তীব্রতা অনেক বেড়েছে। নদীর স্রোত একের পর এক বসতভিটা, রাস্তা ও ফসলি জমি ভেঙে নিয়ে যাচ্ছে। ভাঙন অব্যাহত থাকলে কয়েক দিনের মধ্যেই আতারপাড়া, উদয়নগর ও ডিগ্রীরচর গ্রাম অস্তিত্ব হারানোর আশঙ্কা রয়েছে।

চিলমারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল মান্নান বলেন, পদ্মায় নতুন করে পানি প্রবেশ করায় প্রবল স্রোতের সৃষ্টি হয়েছে। এতে ওই তিন এলাকার বাড়িঘর, ফসলি জমি ও বৈদ্যুতিক খুঁটি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।

দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অনিন্দ্য গুহ জানান, ভাঙনকবলিত এলাকায় পানি উন্নয়ন বোর্ড, ফায়ার সার্ভিসসহ সংশ্লিষ্টদের নিয়ে বৈঠক করা হয়েছে। দুর্গম সীমান্তবর্তী চরাঞ্চল হওয়ায় সেখানে দ্রুত কাজ করা কিছুটা কঠিন।

তিনি বলেন, ভাঙনকবলিত মানুষের জন্য শুকনা খাবার, বিশুদ্ধ পানি ও চিকিৎসাসেবার ব্যবস্থা করা হয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের সঙ্গে আলোচনা করে জরুরি ভিত্তিতে জিও ব্যাগ ফেলে ভাঙন নিয়ন্ত্রণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

এদিকে স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া না হলে পদ্মার ভাঙনে আরও বিস্তীর্ণ এলাকা নদীগর্ভে চলে যেতে পারে। এতে বহু পরিবার বসতভিটা ও জীবিকার প্রধান অবলম্বন হারানোর আশঙ্কায় রয়েছে।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক: মো: শামসুল আলম খান | ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: এম. আব্দুল্লাহ আল মামুন খান | কপিরাইট © কালের আলো সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন