বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের রেকর্ড ভবন নির্মাণ প্রকল্পে কাজের কোনো ভৌত অস্তিত্ব না থাকা সত্ত্বেও প্রায় ৬ কোটি ৩২ লাখ টাকা বিল পরিশোধের প্রাথমিক সত্যতা পেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। একই সঙ্গে নিয়মবহির্ভূতভাবে প্যাকেজ বিভাজন এবং ই-জিপি টেন্ডারে কারসাজিরও প্রমাণ পেয়েছে সংস্থাটি।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) দুদকের প্রধান কার্যালয়ের একটি এনফোর্সমেন্ট টিম ঢাকা গণপূর্ত বিভাগ-৪-এ অভিযান চালায়। এ সময় বিভিন্ন নথিপত্র পর্যালোচনা ও সংশ্লিষ্টদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।
দুদক সূত্রে জানা যায়, ‘বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের জন্য রেকর্ড ভবন নির্মাণ (১ম সংশোধিত)’ প্রকল্পের প্রাক্কলিত ব্যয় ২৭৯ কোটি ৫৮ লাখ টাকা। প্রকল্পের অনুমোদিত ডিপিপি ও আরডিপিপিতে একটি প্যাকেজ থাকার কথা ছিল। এর মধ্যে ডব্লিউ-১ প্যাকেজটি ২০২৩ সালের ১৬ নভেম্বর ১৫৫ কোটি ৭০ লাখ টাকায় মেসার্স ন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট ইঞ্জিনিয়ার্স লিমিটেডকে কার্যাদেশ দেওয়া হয়।
তবে পরবর্তী সময়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ও ডিপিপির অনুমোদন ছাড়াই ২০২৩-২৪ অর্থবছরে আরও আটটি পৃথক প্যাকেজ তৈরি করা হয়। ই-জিপি টেন্ডারের মাধ্যমে আটটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে এসব প্যাকেজের কার্যাদেশ দেওয়া হয়।
দুদকের তথ্যমতে, এসব প্যাকেজের বিপরীতে মোট ৬ কোটি ৩১ লাখ ৯৭ হাজার টাকা বিল পরিশোধ করা হয়েছে। অভিযানে দেখা যায়, আটটি প্যাকেজের মধ্যে চারটির ক্ষেত্রে কাজের কোনো ভৌত অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। এসব কাজের চুক্তিপত্র কিংবা কাজের পরিমাপ বইও পাওয়া যায়নি।
অন্যদিকে, বাকি চারটি প্যাকেজে কাজের অস্তিত্ব পাওয়া গেলেও দুদকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সেগুলো মূল ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট ইঞ্জিনিয়ার্স লিমিটেডের মাধ্যমেই সম্পন্ন করা হয়েছে।
দুদকের অনুসন্ধানে ঢাকা গণপূর্ত বিভাগ-৪-এর তৎকালীন নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সাইফুজ্জামানকে এসব অনিয়ম ও অর্থ আত্মসাতের ঘটনায় মূল অভিযুক্ত হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারীর দায়-দায়িত্ব নির্ধারণে পূর্ণাঙ্গ অনুসন্ধানের সুপারিশ করেছে এনফোর্সমেন্ট টিম। অনুসন্ধান শেষে সংশ্লিষ্টদের দায়-দায়িত্ব নির্ধারণ করে প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে দুদক।
কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশের সময়: বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ । ৫:৩৭ অপরাহ্ণ