দেশে সারের কোনো ঘাটতি নেই; বরং আগামী কয়েক মাসের চাহিদার তুলনায় সরকারের হাতে অতিরিক্ত সার মজুত রয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদে এক জরুরি জনগুরুত্বপূর্ণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি বলেন, বিগত সরকারের আমলে নিয়োগ পাওয়া কিছু ডিলার পলাতক থাকায় সারের বিতরণব্যবস্থায় সমস্যা তৈরি হয়েছে। এ সুযোগে কেউ কেউ সরকারকে বিব্রত করতে কৃত্রিম সংকট ও গুজব ছড়ানোর চেষ্টা করছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
প্রতিমন্ত্রী জানান, অক্টোবর ২০২৬ থেকে ফেব্রুয়ারি ২০২৭ পর্যন্ত দেশে ইউরিয়া, টিএসপি, ডিএপি ও এমওপি সারের মোট চাহিদা প্রায় ৩৫ লাখ ৮৭ হাজার মেট্রিক টন। এর বিপরীতে সরকারের হাতে প্রায় ৫১ লাখ ৭১ হাজার মেট্রিক টন সার জোগানের প্রস্তুতি রয়েছে। ফলে চাহিদার তুলনায় প্রায় ১৫ লাখ ৮৪ হাজার মেট্রিক টন অতিরিক্ত সার মজুত থাকবে।
তিনি বলেন, বিগত সরকারের সময়ে নিয়োগ পাওয়া প্রায় ৩ হাজার ৭৫৯ জন সার ডিলার বর্তমানে পলাতক থাকায় অনেক বিতরণ পয়েন্ট শূন্য রয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সরকার সারা দেশে নতুন করে প্রায় ৪ হাজার ৯১৮ জন ডিলার নিয়োগের উদ্যোগ নিয়েছে। নতুন ডিলাররা প্রত্যেকে দুজন করে খুচরা ডিলার নিয়োগ করতে পারবেন।
সারের কৃত্রিম সংকট ও অতিরিক্ত মজুতের অভিযোগে ব্যবস্থা নেওয়ার তথ্য তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ২৯ আগস্ট থেকে ৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন স্থানে ২২টি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটেছে। এ সময়ে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ২০৪টি মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে প্রায় ৩৫ লাখ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে।
এ ছাড়া বাংলাদেশে সারের দাম তুলনামূলক কম হওয়ায় পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত ও মিয়ানমারে সার পাচারের কিছু তথ্য পাওয়া গেছে বলেও জানান তিনি। এসব ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার এবং সার জব্দ করা হয়েছে।
সার বিতরণে সংসদ সদস্যদের সরাসরি সম্পৃক্ত না করার সিদ্ধান্তের পক্ষেও অবস্থান নেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, সার বিতরণের দায়িত্ব ডিলারদের নিয়ম অনুযায়ী পালন করা উচিত। একই সঙ্গে কৃষকদের জন্য ‘কৃষক কার্ড’ বিতরণের কাজ চলছে জানিয়ে তিনি বলেন, আগামী ডিসেম্বর-জানুয়ারির মধ্যে প্রায় দুই কোটি কৃষকের কার্ড বিতরণ ও জরিপের কাজ সম্পন্ন করার লক্ষ্য রয়েছে।
কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশের সময়: বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ । ১১:৪১ অপরাহ্ণ