হংকংয়ের বিনিয়োগ আকর্ষণে অর্থনৈতিক অঞ্চলে বিশেষ সুবিধার প্রস্তাব

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশের সময়: বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ । ১২:১৪ পূর্বাহ্ণ

হংকংয়ের বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশে বিনিয়োগে আকৃষ্ট করতে দেশের অর্থনৈতিক অঞ্চল ও রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকায় (ইপিজেড) বিশেষ সুবিধা দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে সরকার। তৈরি পোশাকের পাশাপাশি উচ্চপ্রযুক্তি, সবুজ প্রযুক্তি, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, হালকা প্রকৌশল, জুতা ও তথ্যপ্রযুক্তি খাতে হংকংয়ের বিনিয়োগ বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) হংকংয়ে বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেল অফিসে হংকং জেনারেল চেম্বার অব কমার্সের (এইচকেজিসিসি) চেয়ারম্যান ড. জ্যাকব কাম-এর সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে এসব প্রস্তাব তুলে ধরেন বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।

বৈঠকে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও শিল্পায়নের নতুন সুযোগ কাজে লাগাতে বিদেশি বিনিয়োগকে আরও উৎসাহিত করছে সরকার।

বিশেষ করে চট্টগ্রামের আনোয়ারায় চীনা অর্থনৈতিক ও শিল্প অঞ্চল (সিইআইজেড)সহ দেশের বিভিন্ন অর্থনৈতিক অঞ্চল ও ইপিজেডে বিনিয়োগকারীদের জন্য দীর্ঘমেয়াদি সুবিধা দেওয়া হচ্ছে।
এসব সুবিধার মধ্যে রয়েছে ১০ বছরের কর অবকাশ, শুল্কমুক্ত মূলধনি যন্ত্রপাতি আমদানির সুযোগ এবং ওয়ান-স্টপ সার্ভিস।

এসব সুবিধার ফলে বিদেশি উদ্যোক্তারা তুলনামূলক সহজে ব্যবসা শুরু ও পরিচালনা করতে পারবেন বলে বৈঠকে তুলে ধরা হয়।
পোশাকের বাইরে নতুন খাতে নজর
বৈঠকে তৈরি পোশাকের বাইরে উচ্চপ্রযুক্তি, সবুজ প্রযুক্তি, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, হালকা প্রকৌশল, জুতা ও তথ্যপ্রযুক্তি খাতে হংকংয়ের বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান জানানো হয়।

পাশাপাশি বাংলাদেশ থেকে হংকংয়ে সরাসরি পণ্য রপ্তানি বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা হয়।
কৃষিপণ্য, ফল, পাটজাত পণ্য, হালকা প্রকৌশল পণ্য ও প্রযুক্তিনির্ভর পণ্যের জন্য হংকংয়ের বাজারকে আরও কার্যকরভাবে কাজে লাগানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

বর্তমানে বাংলাদেশের মোট প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগের (এফডিআই) ৭ দশমিক ২ শতাংশ আসে হংকং থেকে। এর ফলে বাংলাদেশে হংকং ষষ্ঠ বৃহত্তম বিনিয়োগকারী হিসেবে অবস্থান করছে। দুই দেশের মধ্যে দ্বৈত কর পরিহার চুক্তি কার্যকর রয়েছে। পাশাপাশি বিনিয়োগ সুরক্ষা ও উন্নয়ন চুক্তি (আইপিপিএ) স্বাক্ষরের প্রস্তুতিও এগিয়ে চলছে।

২০০ কোটি ডলারের তহবিলে অংশগ্রহণের আহ্বান
হংকংয়ের পুঁজিবাজারকে কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশের অবকাঠামো, পরিবেশবান্ধব জ্বালানি ও শিল্প খাতে বিনিয়োগের জন্য প্রস্তাবিত ২০০ কোটি মার্কিন ডলারের বাংলাদেশ তহবিলে হংকংয়ের বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণের আহ্বান জানানো হয় বৈঠকে।

হংকং জেনারেল চেম্বার অব কমার্সের চেয়ারম্যান ড. জ্যাকব কাম বলেন, বাংলাদেশে হংকংয়ের ব্যবসা ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণে সংগঠনটি আগ্রহী। ১৮৬১ সালে প্রতিষ্ঠিত এই সংগঠনটি হংকংয়ের ব্যবসায়িক স্বার্থ রক্ষা, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সম্প্রসারণ ও বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরিতে কাজ করে আসছে।

বৈঠকে বাংলাদেশের ব্যবসায়ী সংগঠন এফবিসিসিআই, এমসিসিআই ও ডিসিসিআইয়ের সঙ্গে হংকংয়ের ব্যবসায়ী চেম্বারগুলোর সমন্বয়ে একটি প্ল্যাটফর্ম গঠনের প্রস্তাব দেওয়া হয়। পাশাপাশি ২০২৭ সালের শুরুতে হংকংয়ের একটি উচ্চপর্যায়ের ব্যবসায়ী প্রতিনিধি দলকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।

উল্লেখ্য, ১৯৭৬ সালে হংকংয়ে বাংলাদেশের ট্রেড কমিশন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে দুই পক্ষের বাণিজ্যিক সম্পর্কের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়। চলতি বছরের ডিসেম্বরে বাংলাদেশ-হংকং বাণিজ্যিক সম্পর্কের ৫০ বছর পূর্ণ হতে যাচ্ছে।

এর আগে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়াতে পাকিস্তানের বাণিজ্যমন্ত্রী জাম কামাল খান, কাতারের বৈদেশিক বাণিজ্যবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ড. আহমেদ বিন মোহাম্মদ আল-সায়েদ এবং ইনভেস্ট হংকংয়ের মহাপরিচালক আলফা লাউয়ের সঙ্গে বৈঠক করেন বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।

সন্ধানী বার্তা/এএএন/এমএসআইপি

প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক: মো: শামসুল আলম খান | ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: এম. আব্দুল্লাহ আল মামুন খান | কপিরাইট © কালের আলো সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন