ইতিহাসের সাক্ষী প্যারিসের বাস্তিল চত্বর। ফরাসি বিপ্লব ও স্বাধীনতার প্রতীকের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা এই চত্বরেই এবার দেখা যাচ্ছে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের পতাকা। সারি সারি বাঁশের দণ্ডে উড়ছে ১৯৫টি দেশ ও পর্যবেক্ষক রাষ্ট্রের পতাকা। সেই সারিতে রয়েছে বাংলাদেশের লাল-সবুজ পতাকাও।
তবে এই পতাকাগুলো সাধারণ নতুন কাপড় দিয়ে তৈরি নয়। প্রতিটি পতাকা তৈরি হয়েছে ব্যবহৃত ও পরিত্যক্ত পোশাকের কাপড় থেকে। পুনর্ব্যবহৃত বস্ত্রকে শিল্পের মাধ্যমে নতুন পরিচয় দেওয়াই এই স্থাপনাশিল্পের মূল বার্তা।
‘লা রে-প্রিসে দে লা বাস্তিল’
‘লা রে-প্রিসে দে লা বাস্তিল’ নামের এই বিশাল স্থাপনাটি তৈরি করেছেন ডিজাইনার ক্লেয়ার রেনার ও জঁ-সেবাস্তিয়াঁ ব্ল্যাঁ। এটি ফেস্টিভ্যাল দ্যু মঁদ ও প্যারিস ডিজাইন উইকের সহযোগিতায় এবং বস্ত্র পুনর্ব্যবহারকারী সংস্থা রিফ্যাশনের অংশীদারত্বে আয়োজন করা হয়েছে।
বাস্তিল চত্বরে ৯ থেকে ২০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত স্থাপনাটি দেখা যাবে। ১৯৫টি সদস্য ও পর্যবেক্ষক রাষ্ট্রের পতাকার পাশাপাশি রয়েছে একটি সাদা পতাকা। সেটিকে বিশ্বজাতির শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান ও ঐক্যের প্রতীক হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে।
ফেলে দেওয়া পোশাক থেকে জাতীয় পতাকা
এই প্রকল্পের অন্যতম আকর্ষণ হলো পতাকাগুলোর কাঁচামাল। বিভিন্ন সংগ্রহ নেটওয়ার্কের মাধ্যমে সংগৃহীত ব্যবহৃত পোশাক থেকে কাপড় বাছাই করে পতাকাগুলো তৈরি করা হয়েছে। পুরোনো পোশাকের বিভিন্ন টুকরা, রং ও স্মৃতিকে একত্র করে তৈরি হয়েছে প্রতিটি দেশের পতাকা।
ফলে একটি পতাকা এখানে শুধু জাতীয় পরিচয়ের প্রতীক নয়, একই সঙ্গে পুনর্ব্যবহার ও টেকসই নকশারও বার্তা বহন করছে।
আয়োজকদের ভাবনায়, একসময় যে পোশাক আর ব্যবহারের উপযোগী ছিল না, সেটিই নতুন রূপে শিল্পকর্ম হয়ে আবার মানুষের সামনে হাজির হয়েছে। অর্থাৎ ফেলে দেওয়া বস্ত্রও নতুন অর্থ ও মূল্য তৈরি করতে পারে।
প্রদর্শনীর পরও থাকবে নতুন জীবন
স্থাপনাটি শেষ হওয়ার পরও পতাকাগুলোর ব্যবহার থেমে যাবে না। প্রতিটি পতাকা অনলাইনে নিলামের মাধ্যমে বিক্রি করা হবে। নিলাম থেকে পাওয়া অর্থ টেকসই বস্ত্রশিল্প ও ভবিষ্যৎ পুনর্ব্যবহারমূলক উদ্যোগে ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে।
টেকসই ফ্যাশনের বার্তা
প্যারিসের মতো বিশ্ব ফ্যাশনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শহরে এমন আয়োজনের মাধ্যমে পুরোনো পোশাক পুনর্ব্যবহারের গুরুত্ব তুলে ধরা হচ্ছে। এর বার্তা পরিষ্কার—ব্যবহৃত বা পুরোনো পোশাক মানেই ফেলনা নয়; সৃজনশীলতা ও নকশার মাধ্যমে সেটিকে নতুন মূল্য দেওয়া সম্ভব।
বাস্তিলের মতো ঐতিহাসিক স্থানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের পতাকাকে পুনর্ব্যবহৃত কাপড় দিয়ে তৈরি করার মধ্য দিয়ে স্বাধীনতা, সহাবস্থান ও টেকসই ভবিষ্যতের ভাবনাকে একসঙ্গে সামনে আনা হয়েছে।
এই বৈশ্বিক আয়োজনের অংশ হিসেবে বাংলাদেশের লাল-সবুজ পতাকার উপস্থিতিও তাই আলাদা তাৎপর্য বহন করছে। দেশের জাতীয় পরিচয়ের প্রতীক এই পতাকা একই সঙ্গে টেকসই জীবনযাপন ও পুনর্ব্যবহারের বৈশ্বিক বার্তার অংশ হয়ে উঠেছে।
কালের আলো/এসএ

সাহিত্য ডেস্ক
প্রকাশের সময়: বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ । ৬:২৮ অপরাহ্ণ