ছয় মাসের বেশি সময় ধরে চলা ইরান যুদ্ধ দ্রুত শেষ হওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে নতুন করে সংশয় তৈরি হয়েছে। মার্কিন চাপের বিরুদ্ধে তেহরান প্রতিরোধ অব্যাহত রাখতে পারলে সংঘাত ২০২৯ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত, অর্থাৎ প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বর্তমান মেয়াদ শেষ হওয়া পর্যন্ত গড়াতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন মার্কিন প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তারা।
মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাতে দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছে, যুদ্ধের সম্ভাব্য মেয়াদ নিয়ে হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিস ও সিচুয়েশন রুমে অভ্যন্তরীণ আলোচনা হয়েছে।
দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের আশঙ্কা
প্রতিবেদন অনুযায়ী, এসব আলোচনায় মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওসহ শীর্ষ কর্মকর্তারা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাঁদের আশঙ্কা, ইরান দীর্ঘ সময় ধরে সামরিক ও অর্থনৈতিক চাপ মোকাবিলা করতে সক্ষম হলে যুদ্ধ আরও দীর্ঘায়িত হতে পারে।
এমনকি সংঘাত ২০২৯ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত চলতে পারে বলে আলোচনায় উঠে এসেছে। ওই সময় ট্রাম্পের বর্তমান মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।
হোয়াইট হাউসের এক মুখপাত্র ওয়াল স্ট্রিট জার্নালকে বলেছেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইরানের সামরিক সক্ষমতা ধ্বংস করেছেন এবং কঠোর নিষেধাজ্ঞা ও নৌ অবরোধের মাধ্যমে দেশটির অর্থনীতির ওপর ব্যাপক চাপ সৃষ্টি করছেন। তবে পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে, সে সিদ্ধান্ত একমাত্র প্রেসিডেন্টই নেবেন।
ট্রাম্পের বক্তব্যের সঙ্গে ভিন্ন মূল্যায়ন
মার্কিন কর্মকর্তাদের এই অভ্যন্তরীণ মূল্যায়ন ট্রাম্পের সাম্প্রতিক প্রকাশ্য বক্তব্যের সঙ্গে কিছুটা সাংঘর্ষিক। বুধবার ট্রাম্প দাবি করেন, নভেম্বরে মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের পরপরই যুদ্ধ শেষ হতে পারে।
তিনি বলেন, ইরান আর দীর্ঘদিন মার্কিন চাপ সামলাতে পারবে না এবং নির্বাচনের পরপরই সংঘাতের অবসান ঘটতে পারে।
ট্রাম্প অবশ্য কূটনৈতিক আলোচনার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেননি। তবে এ মুহূর্তে তিনি আলোচনাকে অগ্রাধিকার দিচ্ছেন না বলেও জানিয়েছেন।
তেলের দাম ও মূল্যস্ফীতির চাপ
দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের প্রভাব এরই মধ্যে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে পড়তে শুরু করেছে। মার্কিন পক্ষ থেকে পাঁচটি ইরানি তেলবাহী ট্যাংকার ডুবিয়ে দেওয়ার দাবি করার পর ইরান পাল্টা হরমুজ প্রণালির কাছে ১০টি জাহাজে হামলা চালিয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এর ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের ওপরে উঠে গেছে। যুক্তরাষ্ট্রেও পেট্রল ও ডিজেলের দাম বেড়েছে।
একই সময়ে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখার চাপও বাড়ছে ট্রাম্প প্রশাসনের ওপর। ফলে নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে যুদ্ধ এখন ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য বড় রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে।
যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে তেলের দাম ও মূল্যস্ফীতি আরও বাড়তে পারে, যা রিপাবলিকানদের নির্বাচনী ফলাফলেও প্রভাব ফেলতে পারে। অন্যদিকে ইরানকে নতি স্বীকারে বাধ্য করার কৌশল থেকেও সরে আসতে চাইছে না ট্রাম্প প্রশাসন।
মধ্যপ্রাচ্যে বাড়ছে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ মধ্যপ্রাচ্যে প্রায় ৫০ হাজার মার্কিন সেনার মোতায়েনের মেয়াদ ২০২৭ সাল পর্যন্ত বাড়িয়েছেন। একই সঙ্গে ওই অঞ্চলে অনির্দিষ্টকালের জন্য আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা রাখার পরিকল্পনাও করা হয়েছে।
এ অবস্থায় সংঘাত ইরাক ও আফগানিস্তানের মতো দীর্ঘস্থায়ী বা ‘অন্তহীন যুদ্ধে’ পরিণত হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকেরা।
ফলে একদিকে যুদ্ধ দ্রুত শেষ করার রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক চাপ, অন্যদিকে ইরানের ওপর সর্বোচ্চ চাপ অব্যাহত রাখার কৌশল—এই দুইয়ের মধ্যে ভারসাম্য রাখাই এখন ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।
সূত্র: রয়টার্স, টাইমস অব ইসরায়েল
সন্ধানী বার্তা/এসএ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশের সময়: শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ । ২:১০ অপরাহ্ণ