সরকারের ‘কোর টিমে’ তিন মন্ত্রীর দৃশ্যমানতা

মো.শামসুল আলম খান, কালের আলো:
প্রকাশের সময়: শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ । ১২:০৫ পূর্বাহ্ণ

জাতীয় সংসদের অধিবেশন চলাকালীন সরকারের গুরুত্বপূর্ণ তিন মন্ত্রী—স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ ও সমাজকল্যাণমন্ত্রী ডা.আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেনের দায়িত্ব আরও বিস্তৃত করেছে সরকার। নতুন এই দায়িত্ব বণ্টনে সরকারের নীতিনির্ধারণী ও সংসদীয় কার্যক্রমে তাদের ওপর সরাসরি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আস্থার বিষয়টি স্পষ্ট হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের এক প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, পরবর্তী আদেশ না দেওয়া পর্যন্ত জাতীয় সংসদের অধিবেশন চলাকালে রাষ্ট্রপতির কার্যালয় এবং প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্বাধীন মন্ত্রণালয়-বিভাগসহ যেসব মন্ত্রণালয় ও বিভাগে মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রী নিয়োগপ্রাপ্ত নেই, সেসব মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সংসদীয় কার্যাবলি নির্ধারিত বিকল্প মন্ত্রীরা পরিচালনা করবেন।

রাষ্ট্রপতি ও নির্বাচন কমিশনের সংসদীয় দায়িত্বে ড.মঈন খান
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খানকে দেওয়া হয়েছে রাষ্ট্রপতির কার্যালয়, নির্বাচন কমিশন সচিবালয় এবং জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সংসদীয় কার্যাবলি পরিচালনার দায়িত্ব। সংসদীয় গণতন্ত্রের প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত তিনটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব একসঙ্গে পাওয়ার বিষয়টি তাৎপর্যপূর্ণ। রাষ্ট্রপতির কার্যালয় ও নির্বাচন কমিশনের মতো সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি সংসদ সচিবালয়ের দায়িত্বও তার ওপর ন্যস্ত হওয়ায় সংসদীয় কার্যক্রমে মঈন খানের ভূমিকা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তার অনুপস্থিতিতে এ দায়িত্ব পালন করবেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।

সালাহউদ্দিনের হাতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও প্রতিরক্ষা
নতুন দায়িত্ব বণ্টনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে রয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এবং সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের সংসদীয় কার্যাবলি পালনের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে তাকে। রাষ্ট্র পরিচালনার দিক থেকে এই চারটি ক্ষেত্রই অত্যন্ত স্পর্শকাতর ও কৌশলগত। বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও প্রতিরক্ষা-সংশ্লিষ্ট কার্যক্রমে দায়িত্ব পাওয়া সরকারের অভ্যন্তরে সালাহউদ্দিন আহমদের ওপর আস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে। তার অনুপস্থিতিতে এসব দায়িত্ব পালন করবেন সমাজকল্যাণমন্ত্রী ডা. আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন এবং বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।

জাহিদের ভূমিকাও হচ্ছে আরও গুরুত্বপূর্ণ
নতুন দায়িত্ব বণ্টনে সমাজকল্যাণমন্ত্রী ডা. আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেনও বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ও সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের সংসদীয় কার্যক্রমে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের অনুপস্থিতিতে বিকল্প দায়িত্ব তার ওপর দেওয়া হয়েছে। এর ফলে সামাজিক সুরক্ষা ও কল্যাণমূলক নীতির দায়িত্বের পাশাপাশি রাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় প্রশাসন ও গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা-সংশ্লিষ্ট কার্যক্রমের সংসদীয় ব্যবস্থাপনাতেও জাহিদের ভূমিকা থাকছে।রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক দৃষ্টিকোণ থেকে এটি তার ওপর সরকারপ্রধান তারেক রহমানের গভীর আস্থার একটি ইতিবাচক বার্তা হিসেবেই দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও প্রতিরক্ষা-সংশ্লিষ্ট কার্যক্রমে বিকল্প দায়িত্বের তালিকায় তার অবস্থান তাকে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ সমন্বয়কারীদের একজন হিসেবে সামনে এনেছে।

দুই সপ্তাহের ব্যবধানে আবারও দায়িত্ব পুনর্বিন্যাস
এর আগে ২৪ আগস্ট মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সংসদীয় কার্যক্রম নির্বিঘ্ন রাখতে বিকল্প দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীদের তালিকা প্রকাশ করা হয়েছিল। মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির সই করা ওই প্রজ্ঞাপন পরে বাংলাদেশ গেজেটে প্রকাশিত হয়।সেই তালিকার ধারাবাহিকতায় এবার কিছু গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব নতুনভাবে নির্দিষ্ট করে দেওয়া হলো। এর মাধ্যমে সংসদ অধিবেশন চলাকালে কোনো মন্ত্রী অনুপস্থিত থাকলেও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় বা বিভাগের সংসদীয় কার্যক্রম যাতে থেমে না থাকে, সে ব্যবস্থাই নিশ্চিত করছে সরকার।

সরকারে তিন মন্ত্রীর অবস্থানের গুরুত্ব
সামগ্রিকভাবে নতুন দায়িত্ব বণ্টনকে শুধু প্রশাসনিক রুটিন হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, প্রতিরক্ষা, মন্ত্রিপরিষদ, রাষ্ট্রপতির কার্যালয়, নির্বাচন কমিশন ও সংসদ সচিবালয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের সংসদীয় কার্যক্রম পরিচালনায় মঈন খান, সালাহউদ্দিন আহমদ ও ডা.আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেনের ভূমিকা নির্ধারণ সরকারের ভেতরে তাদের অবস্থানের গুরুত্বই তুলে ধরে।

ড. মঈন খান দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা নিয়ে প্রাতিষ্ঠানিক ও সংসদীয় কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন। সালাহউদ্দিন আহমদ দায়িত্ব পেয়েছেন সরকারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক কাঠামোর একটি বড় অংশের। আর ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেনের ওপর অর্পিত বিকল্প দায়িত্ব তাকে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত ও সমন্বয় কাঠামোর আরও কাছাকাছি নিয়ে এসেছে। অর্থাৎ নতুন দায়িত্ব বণ্টনে শুধু দায়িত্বের পরিধিই বাড়েনি; সরকারের গুরুত্বপূর্ণ নীতি ও সংসদীয় কার্যক্রমে এই তিন মন্ত্রীর আস্থা, গ্রহণযোগ্যতা ও কার্যকর ভূমিকার পরিসরও আরও দৃশ্যমান হয়েছে। সংসদ অধিবেশন চলাকালে তাদের এই বর্ধিত দায়িত্ব সরকারের সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও প্রশাসনিক ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।

কালের আলো/এম/এএইচ

প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক: মো: শামসুল আলম খান | ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: এম. আব্দুল্লাহ আল মামুন খান | কপিরাইট © কালের আলো সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন