ভারতে পুতিনের ‘ফ্লাইং ক্রেমলিন’, ভেতরে কী আছে?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশের সময়: শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ । ১:৪৬ অপরাহ্ণ

ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দিতে ভারতে এসেছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। তার এই সফরে বিশেষভাবে আলোচনায় এসেছে প্রেসিডেন্টের জন্য তৈরি অত্যাধুনিক নিরাপত্তাব্যবস্থার বিমান—যেটি পরিচিত ‘ফ্লাইং ক্রেমলিন’ বা ‘ডুমসডে প্লেন’ নামে।

শুক্রবার নয়াদিল্লিতে পৌঁছান পুতিন। ভারত সফরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও জ্বালানি সহযোগিতাসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করবেন তিনি।

একসঙ্গে উড়েছে দুটি বিমান

পুতিন সাধারণত ইলিউশিন আইএল-৯৬-৩০০পিইউ মডেলের বিশেষভাবে পরিবর্তিত বিমান ব্যবহার করেন। এবারের ভারত সফরেও একই ধরনের দুটি বিমান একসঙ্গে উড়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এর একটি ছিল রুশ প্রেসিডেন্টের মূল বিমান। অন্যটি ছিল ডিকয় বা বিভ্রান্তিমূলক বিমান। একই ধরনের দুটি বিমান একসঙ্গে ওড়ানোর ফলে কোনটিতে পুতিন রয়েছেন, তা শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ে।

উড়ন্ত কমান্ড সেন্টার

‘ফ্লাইং ক্রেমলিন’ নামে পরিচিত বিমানটি কেবল প্রেসিডেন্টের যাতায়াতের জন্য ব্যবহৃত একটি বিলাসবহুল উড়োজাহাজ নয়। এটি অনেকটা উড়ন্ত কমান্ড সেন্টারের মতো করে তৈরি।

বিমানটিতে রয়েছে নিরাপদ ও এনক্রিপ্টেড যোগাযোগব্যবস্থা। এর মাধ্যমে সামরিক, গোয়েন্দা ও সরকারি নেটওয়ার্কের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব। জরুরি পরিস্থিতিতে আকাশ থেকেই এটি রুশ প্রেসিডেন্টের মোবাইল কমান্ড সেন্টার হিসেবে কাজ করতে পারে।

এ ছাড়া বিমানটিতে রাডার জ্যামিং প্রযুক্তি, উন্নত প্রতিরক্ষাব্যবস্থা, স্যাটেলাইট যোগাযোগ এবং সুরক্ষিত রেডিও ও ডাটা চ্যানেল রয়েছে।

একবারে উড়তে পারে প্রায় ১১ হাজার কিলোমিটার

আইএল-৯৬-৩০০পিইউতে রয়েছে চারটি ইঞ্জিন। একবারে এটি প্রায় ১১ হাজার কিলোমিটার পর্যন্ত উড়তে পারে।

বিমানটির দৈর্ঘ্য ৫৫ দশমিক ৩৫ মিটার এবং ডানার বিস্তার ৬০ দশমিক ১২ মিটার। বিশেষ নিরাপত্তা ও যোগাযোগব্যবস্থার কারণে সাধারণ যাত্রীবাহী উড়োজাহাজের তুলনায় এর প্রযুক্তিগত সক্ষমতা অনেক বেশি।

নিরাপত্তার পাশাপাশি বিলাসিতাও

শুধু নিরাপত্তা ও প্রযুক্তি নয়, প্রেসিডেন্টের আরামের জন্যও বিমানে রয়েছে নানা বিলাসবহুল ব্যবস্থা।

পুতিনের জন্য রয়েছে আলাদা স্যুট, শোবার ঘর, বিলাসবহুল বাথরুম, ব্যক্তিগত রান্নাঘর ও খাবারের জায়গা। এ ছাড়া রয়েছে বড় সম্মেলনকক্ষ, যেখানে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকও করা সম্ভব।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, বিমানের অভ্যন্তরে সোনার প্রলেপ দেওয়া বিভিন্ন সরঞ্জাম, উন্নত কাঠের কাজ এবং দামি চামড়ার আসবাব ব্যবহার করা হয়েছে।

সব মিলিয়ে রুশ প্রেসিডেন্টের এই বিশেষ বিমানটি একই সঙ্গে একটি নিরাপদ আকাশযান, যোগাযোগকেন্দ্র, মোবাইল কমান্ড সেন্টার এবং বিলাসবহুল প্রেসিডেন্টসিয়াল স্যুট—যে কারণেই এটি ‘ফ্লাইং ক্রেমলিন’ নামে পরিচিত।

সূত্র: এনডিটিভি

কালের আলো/এসএ

প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক: মো: শামসুল আলম খান | ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: এম. আব্দুল্লাহ আল মামুন খান | কপিরাইট © কালের আলো সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন