ভ্রমণের সময় শহরের এক দর্শনীয় স্থান থেকে আরেকটিতে যেতে সবসময় অটোরিকশা, ট্যাক্সি কিংবা মেট্রোর ওপর নির্ভর করতে হয় না। বিশ্বের অনেক শহরেই গুরুত্বপূর্ণ দর্শনীয় স্থানগুলো কাছাকাছি হওয়ায় হেঁটেই ঘুরে দেখা সম্ভব। সম্প্রতি ভ্রমণ বুকিং প্ল্যাটফর্ম স্কাইস্ক্যানার হেঁটে ঘোরার জন্য বিশ্বের সেরা ১০টি শহরের তালিকা প্রকাশ করেছে। তালিকায় ইউরোপের সাতটি শহর রয়েছে।
স্কাইস্ক্যানার যুক্তরাষ্ট্রের বাইরের বিভিন্ন শহর নিয়ে এই সূচক তৈরি করেছে। প্রধান আকর্ষণগুলোর মধ্যকার দূরত্ব, হাঁটার পথের সংখ্যা, গড় উচ্চতা, বায়ুর মান ও নিরাপত্তাসহ মোট ১৪টি বিষয় বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি জনঘনত্ব, দর্শনীয় স্থানের সংখ্যা এবং সেগুলো ঘুরে দেখতে প্রয়োজনীয় সময় ও আনুমানিক পদক্ষেপও সূচকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
হেঁটে ঘোরার জন্য সেরা ১০ শহর
১. কর্দোভা, স্পেন
২. নাগাসাকি, জাপান
৩. হিরোশিমা, জাপান
৪. রেজিও কালাব্রিয়া, ইতালি
৫. মন্টে কার্লো, মোনাকো
৬. তার্তু, এস্তোনিয়া
৭. বুরসা, তুরস্ক
৮. বোলজানো, ইতালি
৯. সারায়েভো, বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা
১০. ভিক্টোরিয়া, ব্রিটিশ কলাম্বিয়া, কানাডা
শীর্ষে কর্দোভা
তালিকার প্রথম স্থান দখল করেছে স্পেনের কর্দোভা। আন্দালুসিয়ার ঐতিহাসিক এই শহর একসময় গুরুত্বপূর্ণ রোমান নগরী এবং পরে ইসলামী বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে পরিচিতি লাভ করে।
শহরের সবচেয়ে বিখ্যাত স্থাপনা মসজিদ-গির্জা লা মেস্কিতা। এর পাশাপাশি কর্দোভার পুরোনো শহর, ভিয়ানা প্রাসাদ, লা হুদেইরিয়া এবং আলকাজার দে লস রেয়েস ক্রিস্তিয়ানোসও পায়ে হেঁটে ঘুরে দেখা যায়। স্কাইস্ক্যানারের তথ্য অনুযায়ী, শহরের প্রধান দর্শনীয় স্থানগুলো হেঁটে ঘুরতে সময় লাগে মাত্র ২৬ মিনিট। শহর ও আশপাশে হাঁটার জন্য রয়েছে ২৯টি পথ।
দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থানে জাপানের দুই শহর
দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে জাপানের নাগাসাকি। পাহাড়, সমুদ্র ও ঐতিহাসিক স্থাপনার সমন্বয়ে গড়ে ওঠা শহরটি পর্যটকদের কাছে বেশ আকর্ষণীয়।
তৃতীয় স্থানে রয়েছে জাপানের আরেক শহর হিরোশিমা। শহরটির শান্তি উদ্যান ও বিভিন্ন ঐতিহাসিক স্থান পর্যটকদের অন্যতম আকর্ষণ। তুলনামূলকভাবে সহজে হাঁটা যায় এমন নগরপরিবেশও শহরটিকে তালিকায় জায়গা করে দিয়েছে।
চতুর্থ রেজিও কালাব্রিয়া
ইতালির রেজিও কালাব্রিয়া রয়েছে চতুর্থ স্থানে। দেশটির পরিচিত পর্যটনকেন্দ্রগুলোর তুলনায় শহরটি কিছুটা কম পরিচিত হলেও হেঁটে ঘোরার জন্য এটি বেশ উপযোগী।
মেসিনা প্রণালির ওপারে সিসিলি দ্বীপের দৃশ্য, সমুদ্রসৈকত এবং মাউন্ট এটনার মনোরম দৃশ্য এখানকার অন্যতম আকর্ষণ। শহরের প্রধান দর্শনীয় স্থানগুলো হেঁটে ঘুরতে সময় লাগে প্রায় ২৫ মিনিট বা ২ হাজার ৩২১ পদক্ষেপ।
খাড়া রাস্তা থাকলেও হাঁটার উপযোগী মন্টে কার্লো
পঞ্চম স্থানে থাকা মোনাকোর মন্টে কার্লো বিলাসবহুল গাড়ি, অভিজাত দোকান ও সুপারইয়াটের জন্য বিশ্বজুড়ে পরিচিত। তবে শহরটি পায়ে হেঁটেও সহজে ঘোরা যায়। এর আয়তন এক বর্গকিলোমিটারেরও কম। যদিও কিছু রাস্তা বেশ খাড়া হওয়ায় হাঁটার সময় কিছুটা পরিশ্রম করতে হতে পারে।
ষষ্ঠ স্থানে তার্তু
এস্তোনিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর তার্তু রয়েছে ষষ্ঠ স্থানে। ২০২৪ সালে ইউরোপীয় সংস্কৃতির রাজধানী হওয়া শহরটি এখনও অনেক পর্যটকের কাছে তুলনামূলকভাবে অপরিচিত।
তার্তুর পুরোনো শহর, কাঠের বাড়ি, পার্ক, নদীর তীরের হাঁটার পথ এবং স্ট্রিট আর্ট পর্যটকদের আকর্ষণ করে। তালিকায় থাকা শহরগুলোর মধ্যে তার্তুর বায়ুর মান সবচেয়ে ভালো বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।
উসমানীয় ইতিহাসের শহর বুরসা
সপ্তম স্থানে রয়েছে তুরস্কের বুরসা। উসমানীয় সাম্রাজ্যের প্রথম রাজধানী হিসেবে শহরটির ঐতিহাসিক গুরুত্ব রয়েছে।
ব্যস্ত বাজার, উসমান গাজির সমাধি, বুরসা গ্র্যান্ড মসজিদ এবং কোজাহান সিল্ক মার্কেটসহ নানা ঐতিহাসিক স্থাপনা ও বাজার এখানে রয়েছে। শহরের প্রধান আকর্ষণগুলো হেঁটে ঘুরে দেখতে প্রায় এক ঘণ্টা সময় লাগে।
ডোলোমাইটসের প্রবেশদ্বার বোলজানো
ইতালির বোলজানো রয়েছে অষ্টম স্থানে। ডোলোমাইটস পর্বতমালার প্রবেশদ্বার হিসেবে পরিচিত হলেও শহরটির নিজস্ব আকর্ষণও কম নয়।
পিয়াজা ওয়ালথার, ভিয়া দেই পোর্তিচি এবং সাউথ টাইরল প্রত্নতাত্ত্বিক জাদুঘর হেঁটে ঘুরে দেখা যায়। শহর ও আশপাশে হাঁটার জন্য রয়েছে ৫০৫টি পথ। তালিকার শহরগুলোর মধ্যে বোলজানোকে সবচেয়ে নিরাপদ শহর হিসেবেও উল্লেখ করা হয়েছে।
নবম স্থানে সারায়েভো
বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার রাজধানী সারায়েভো রয়েছে নবম স্থানে। ছোট ও তুলনামূলক সহজে হাঁটা যায় এমন শহরটির পাশ দিয়ে বয়ে গেছে মিলিয়াচকা নদী। কাছেই রয়েছে দিনারিক আল্পস।
শহরের পুরোনো পাথুরে রাস্তা ও বৈচিত্র্যময় স্থাপত্য পর্যটকদের আকর্ষণ করে। মানবতাবিরোধী অপরাধ ও গণহত্যা জাদুঘর, ওয়ার চাইল্ডহুড মিউজিয়াম, সিটি হল, বাসচারশিয়া বাজার ও লাতিন ব্রিজ শহরের উল্লেখযোগ্য দর্শনীয় স্থান।
তালিকার দশম ভিক্টোরিয়া
কানাডার ব্রিটিশ কলাম্বিয়া প্রদেশের ভিক্টোরিয়া রয়েছে দশম স্থানে। প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, হাঁটার উপযোগী রাস্তা এবং কাছাকাছি থাকা বিভিন্ন দর্শনীয় স্থান শহরটিকে পায়ে হেঁটে ভ্রমণের জন্য আকর্ষণীয় করে তুলেছে।
স্কাইস্ক্যানারের এই তালিকা দেখাচ্ছে, শহর ভ্রমণে সবসময় গাড়ি বা গণপরিবহনের প্রয়োজন হয় না। সঠিক গন্তব্য বেছে নিলে হাঁটতে হাঁটতেই ইতিহাস, সংস্কৃতি, স্থাপত্য ও প্রকৃতির অনেকটা কাছ থেকে উপভোগ করা সম্ভব।
সূত্র: স্কাইস্ক্যানার
কালের আলো/এসএ