বৃষ্টির ফোঁটা থেকেও তৈরি হবে বিদ্যুৎ, নতুন প্রযুক্তি স্পেনের গবেষকদের

তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক
প্রকাশের সময়: শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ । ৬:২৮ অপরাহ্ণ

সূর্যের আলো ও বাতাসের পাশাপাশি এবার বৃষ্টির ফোঁটা থেকেও বিদ্যুৎ উৎপাদনের নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। স্পেনের গবেষকেরা এমন একটি স্বচ্ছ আবরণ তৈরি করেছেন, যা সোলার প্যানেলের ওপর প্রয়োগ করলে বৃষ্টির পানির ফোঁটা গড়িয়ে যাওয়ার সময় বৈদ্যুতিক চার্জ তৈরি করতে পারে।

সেভিলের একটি গবেষণাগারে তৈরি করা এই বিশেষ আবরণটির পুরুত্ব মাত্র প্রায় ১০০ ন্যানোমিটার। পরীক্ষায় দেখা গেছে, আবরণের ওপর দিয়ে একটি পানির ফোঁটা গড়িয়ে যাওয়ার সময় সর্বোচ্চ প্রায় ১১০ ভোল্টের পিক ভোল্টেজ তৈরি হতে পারে।

পানির ফোঁটা থেকে কীভাবে বিদ্যুৎ?

এই প্রযুক্তির মূল ভিত্তি হলো ট্রাইবোইলেকট্রিক প্রভাব। দুটি ভিন্ন পদার্থ পরস্পরের সংস্পর্শে এসে আবার আলাদা হলে তাদের মধ্যে বৈদ্যুতিক চার্জের আদান-প্রদান ঘটে। একইভাবে, পানির ফোঁটা ফ্লোরিনযুক্ত বিশেষ পৃষ্ঠের ওপর দিয়ে গড়িয়ে যাওয়ার সময় পানি ও আবরণের মধ্যে বৈদ্যুতিক চার্জের পার্থক্য তৈরি হয়।

এই চার্জকে উপযুক্ত বৈদ্যুতিক সার্কিটের মাধ্যমে সংগ্রহ করলে কারেন্ট প্রবাহিত করা সম্ভব। তবে শুধু প্যানেলের ওপর পানি জমে থাকলেই বিদ্যুৎ তৈরি হবে না; পানির ফোঁটাকে পৃষ্ঠের ওপর দিয়ে গড়িয়ে বা সরে যেতে হবে।

সৌরবিদ্যুতের পাশাপাশি বৃষ্টির শক্তি

গবেষকদের তৈরি আবরণটি ৯০ শতাংশের বেশি স্বচ্ছ। ফলে এটি সোলার প্যানেলে সূর্যের আলো পৌঁছাতে বড় বাধা সৃষ্টি করে না। অর্থাৎ বৃষ্টি না থাকলে প্যানেল স্বাভাবিকভাবেই সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন করতে পারবে। আর বৃষ্টির সময় পানির ফোঁটার চলাচল থেকে অতিরিক্ত বৈদ্যুতিক শক্তি সংগ্রহের সুযোগ তৈরি হবে।

পেরোভস্কাইট সোলার সেলের ক্ষেত্রেও প্রযুক্তিটি বিশেষভাবে সম্ভাবনাময় বলে মনে করছেন গবেষকেরা। এই ধরনের সেল তুলনামূলক কম খরচে তৈরি করা সম্ভব এবং উচ্চ শক্তি-রূপান্তর দক্ষতার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে আর্দ্রতার প্রতি সংবেদনশীলতা পেরোভস্কাইট সেলের বড় সমস্যা। নতুন আবরণটি একই সঙ্গে সেলকে পানি ও আর্দ্রতা থেকে সুরক্ষা দিতে এবং বৃষ্টির ফোঁটা থেকে চার্জ সংগ্রহ করতে পারে।

এখনো গবেষণাগারেই সীমাবদ্ধ

তবে প্রযুক্তিটি এখনো গবেষণার পর্যায়েই রয়েছে। বাস্তব পরিবেশে দীর্ঘ সময় ব্যবহারের ক্ষেত্রে আবরণটির স্থায়িত্ব, কার্যকারিতা এবং বিভিন্ন আবহাওয়ায় পারফরম্যান্স কেমন হবে, তা এখনো পরীক্ষা করা হয়নি।

এ ছাড়া একটি বড় সীমাবদ্ধতা হলো, বৃষ্টির ফোঁটা থেকে উৎপন্ন মোট শক্তির পরিমাণ তুলনামূলকভাবে কম। ফলে এই প্রযুক্তি দিয়ে একটি বাড়ির সব বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম চালানো সম্ভব হবে না। তবে কম বিদ্যুৎপ্রয়োজনীয় ওয়্যারলেস সেন্সর, আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা, হাইওয়ে সাইনেজ বা ছোট আলো চালানোর ক্ষেত্রে ভবিষ্যতে এটি কাজে লাগতে পারে।

অর্থাৎ, প্রচলিত সৌরবিদ্যুতের বিকল্প তৈরি করাই এই প্রযুক্তির লক্ষ্য নয়। বরং একই সোলার প্যানেলকে সূর্যের আলো ও বৃষ্টির পানি—দুই প্রাকৃতিক উৎস থেকেই শক্তি সংগ্রহে সক্ষম করে তোলাই এর মূল উদ্দেশ্য। বাস্তব পরিবেশে পরীক্ষার ফলাফল পাওয়া গেলে বোঝা যাবে, প্রযুক্তিটি বাণিজ্যিকভাবে কতটা কার্যকর ও টেকসই হতে পারে।

কালের আলো/এসএ

প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক: মো: শামসুল আলম খান | ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: এম. আব্দুল্লাহ আল মামুন খান | কপিরাইট © কালের আলো সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন