শতবর্ষের আটঘর হাটে নৌকার জমজমাট কেনাবেচা

ঝালকাঠি(বরিশাল) সংবাদদাতা
প্রকাশের সময়: রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ । ১০:৪৪ পূর্বাহ্ণ

শরৎকালেও ঝালকাঠির সীমান্তবর্তী এলাকার ঐতিহ্যবাহী আটঘর হাটে জমে উঠেছে কাঠের নৌকার কেনাবেচা। শত বছরের পুরোনো এ হাটে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা ব্যবসায়ী, ক্রেতা ও দর্শনার্থীদের পদচারণায় মুখর হয়ে উঠেছে পুরো এলাকা। বর্ষাকেন্দ্রিক এ হাটে প্রতিদিনই কয়েক লাখ টাকার নৌকা ও বৈঠা কেনাবেচা হচ্ছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, হাটজুড়ে সারি সারি কাঠের নৌকা সাজিয়ে রাখা হয়েছে। দূর-দূরান্ত থেকে আসা কারিগর ও ব্যবসায়ীরা পাইকারি ও খুচরা—দুইভাবেই নৌকা বিক্রি করছেন। ছোট ডিঙি নৌকা থেকে শুরু করে বড় আকৃতির মালবাহী নৌকাও রয়েছে এ হাটে।

ব্যবসায়ীরা জানান, কাঠের মান, নকশা ও আকারের ওপর নির্ভর করে নৌকার দাম নির্ধারণ করা হয়। সাধারণ মানের নৌকার দাম তুলনামূলক কম হলেও উন্নতমানের কাঠে তৈরি নৌকার দাম বেশি। এখানে প্রতিটি নৌকা ৩ হাজার থেকে ১৫ হাজার টাকা পর্যন্ত দামে বিক্রি হচ্ছে। আর মানভেদে প্রতিটি বৈঠার দাম ১৫০ থেকে ৫০০ টাকা।

স্থানীয় কৃষকদের কাছে এসব নৌকার গুরুত্বও অনেক। পেয়ারা, আমড়া, শাকসবজি ও অন্যান্য কৃষিপণ্য পরিবহনে বর্ষাকালে নৌকাই হয়ে ওঠে অন্যতম প্রধান মাধ্যম। বিস্তীর্ণ এলাকা পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় কৃষিকাজ ও দৈনন্দিন যোগাযোগেও নৌকার ওপর নির্ভর করতে হয় তাদের।

বরিশালের বাকেরগঞ্জ থেকে আসা এক ক্রেতা জানান, বর্ষার সময় মাঠে গবাদিপশু নামানো সম্ভব হয় না। তখন জমি থেকে ঘাস কেটে নৌকায় করে বাড়িতে নিয়ে যেতে হয়। বছরের প্রায় ছয় মাস কৃষিকাজে নৌকার প্রয়োজন হয় বলেও জানান তিনি।

আটঘর হাটের ইজারাদার মো. ইকবাল হাওলাদার জানান, বর্ষা মৌসুমে এ হাটে প্রায় ৩ থেকে ৪ হাজার নৌকা কেনাবেচা হয়। এ হাট থেকে প্রতিবছর সরকার কয়েক লাখ টাকা রাজস্ব পেয়ে থাকে।

নেছারাবাদ উপজেলার বলদিয়া ইউনিয়নের চামি গ্রামের নৌকা ব্যবসায়ী মোহাম্মদ আলাউদ্দিন, মো. কবির, আব্দুর রহিম, মো. কাইয়ুম, মো. মালেক ও মো. শাহাবুদ্দিন জানান, বংশপরম্পরায় তারা নৌকা তৈরির সঙ্গে যুক্ত। পরিবারের সদস্যদের সহযোগিতায় কম খরচে নৌকা তৈরি করে তুলনামূলক কম দামে ক্রেতাদের কাছে বিক্রি করেন তারা।

ব্যবসায়ীরা বলেন, বর্ষা মৌসুমকে কেন্দ্র করেই তাদের ব্যবসার মূল সময় শুরু হয়। বছরের এ সময়ে পরিবারের সবাই মিলে নৌকা তৈরির কাজে ব্যস্ত থাকেন।

স্থানীয়দের ভাষ্য, শত বছরের ঐতিহ্য বহনকারী আটঘর হাট শুধু নৌকা কেনাবেচার স্থান নয়, এটি এ অঞ্চলের সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও জীবনযাত্রারও অবিচ্ছেদ্য অংশ। আধুনিক প্রযুক্তির প্রসার ঘটলেও গ্রামীণ মানুষের কাছে কাঠের নৌকার প্রয়োজনীয়তা ও আবেদন কমেনি। বর্ষা এলেই তাই পুরোনো ঐতিহ্যে আবারও প্রাণ ফিরে পায় আটঘর হাট।

কালের আলো/এমএসআইপি/এসকে 

প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক: মো: শামসুল আলম খান | ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: এম. আব্দুল্লাহ আল মামুন খান | কপিরাইট © কালের আলো সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন