অন্তর্ভুক্তিমূলক বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন ব্রিকস জোটের নেতারা। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা কমিয়ে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার ওপরও গুরুত্ব দিয়েছেন তাঁরা।
ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে দুই দিনব্যাপী ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলন রোববার শেষ হয়েছে। এতে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন, চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানসহ জোটের সদস্য ও অংশীদার দেশগুলোর নেতারা অংশ নেন।
সমাপনী দিনে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেন, ব্রিকস বিশ্বের প্রায় অর্ধেক জনসংখ্যা, বৈশ্বিক জিডিপির প্রায় ৪০ শতাংশ এবং বিশ্ববাণিজ্যের এক-চতুর্থাংশের বেশি প্রতিনিধিত্ব করে। তিনি বলেন, বিভিন্ন দেশের বাস্তবতা ও স্বার্থ ভিন্ন হলেও সহযোগিতার মাধ্যমে সম্মিলিতভাবে এগিয়ে যাওয়া সম্ভব।
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বলেন, ব্রিকস একটি আরও ন্যায্য ও বহুমেরুকেন্দ্রিক বিশ্বব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্যে কাজ করছে। চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং বলেন, আন্তর্জাতিক ব্যবস্থায় নিয়ম ও শৃঙ্খলা না থাকলে পরিস্থিতি এমন এক মোড়ের মতো হয়ে যায়, যেখানে ট্রাফিক সিগন্যাল নেই—ফলে বিশৃঙ্খলা ও নৈরাজ্যের ঝুঁকি বাড়ে।
সম্মেলনের প্রথম দিন মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত নিয়ে আলোচনা বিশেষ গুরুত্ব পায়। এর আগে গত মে মাসে নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত ব্রিকস পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকে এ বিষয়ে যৌথ বিবৃতিতে ঐকমত্যে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। তবে এবার ভারতের কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় জোটের নেতারা মধ্যপ্রাচ্য ও পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি নিয়ে যৌথ ঘোষণায় একমত হয়েছেন।
ঘোষণায় অঞ্চলটিতে অব্যাহত উত্তেজনা বৃদ্ধিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয় এবং সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে সর্বোচ্চ সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানানো হয়।
শীর্ষ সম্মেলনের প্রথম দিন ব্রিকস নেতারা সর্বসম্মতিক্রমে ‘নয়াদিল্লি ঘোষণা’ গ্রহণ করেন। এতে ব্রিকস সহযোগিতায় অংশীদার দেশগুলোর অবদানকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি অংশীদার দেশগুলোর সঙ্গে অন্তর্ভুক্তিমূলক ও উন্নয়নমুখী অংশীদারত্ব বজায় রাখার অঙ্গীকারও পুনর্ব্যক্ত করা হয়।
কালের আলো/এসএ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশের সময়: সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ । ১১:৪৩ পূর্বাহ্ণ