একসময় জায়গাটি ছিল প্রায় অনুর্বর। ঘাস আর পাথর ছাড়া তেমন কিছুই ছিল না। কিন্তু সেখানে ১২ হাজার টন কমলার খোসা ও পাল্প ফেলে রাখার ১৬ বছর পর দৃশ্যপট পুরোপুরি বদলে যায়। গবেষকেরা গিয়ে দেখেন, অনুর্বর সেই জমি পরিণত হয়েছে ঘন সবুজ বনে।
ঘটনাটি মধ্য আমেরিকার দেশ কোস্টারিকার গুয়ানাকাস্তে সংরক্ষিত বনাঞ্চলের।
১৯৯৭ সালে কমলার জুস উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ডেল অরো প্রায় ১২ হাজার মেট্রিক টন কমলার খোসা ও পাল্প ওই অনুর্বর জমিতে ফেলে দেয়। উদ্দেশ্য ছিল, এসব জৈব বর্জ্য পচে মাটির সঙ্গে মিশে জমির উর্বরতা বাড়াবে।
কিন্তু এর পরপরই শুরু হয় আইনি জটিলতা। প্রতিদ্বন্দ্বী প্রতিষ্ঠান টিকোফ্রুট অভিযোগ করে, জাতীয় উদ্যানে বিপুল পরিমাণ বর্জ্য ফেলে পরিবেশ নষ্ট করা হয়েছে। মামলা গড়ায় কোস্টারিকার সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত। আদালতের রায়ের পর জায়গাটির বিষয়টি প্রায় ১৫ বছর আড়ালেই থেকে যায়।
২০১৩ সালে প্রিন্সটন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক টিমোথি ট্রয় পুরোনো ঘটনাটির কথা জানতে পারেন। সেখানে গিয়ে তিনি অবাক হয়ে দেখেন, কমলার বর্জ্য ফেলা জায়গাটি ঘন গাছপালা ও লতাগুল্মে এমনভাবে ঢেকে গেছে যে রাস্তার পাশের প্রায় সাত ফুট লম্বা হলুদ সাইনবোর্ডটিও আর দেখা যায় না।
এরপর গবেষকেরা কমলার খোসা ফেলা জমির সঙ্গে রাস্তার অপর পাশের একই ধরনের জমির তুলনা করেন। তাঁরা গাছের সংখ্যা, আকার ও প্রজাতি এবং মাটির গুণমান পরীক্ষা করেন।
ফলাফল ছিল চমকপ্রদ। কমলার বর্জ্য ফেলা এলাকায় গাছের বায়োমাস বেড়েছিল ১৭৬ শতাংশ। একই সঙ্গে সেখানে মাটি ছিল বেশি পুষ্টিসমৃদ্ধ, গাছের প্রজাতির বৈচিত্র্য বেশি এবং বনের সবুজ ছাউনিও ছিল তুলনামূলক ঘন।
অর্থাৎ যে জৈব বর্জ্য একসময় ‘ফেলনা’ হিসেবে বিবেচিত হয়েছিল, সেটিই ধীরে ধীরে অনুর্বর জমিকে আবার সবুজ করে তুলেছিল।
গবেষণাটি প্রকাশিত হয় Restoration Ecology সাময়িকীতে। গবেষকদের মতে, কৃষি ও খাদ্যশিল্পের বর্জ্য সঠিকভাবে ব্যবহার করা গেলে তা বন পুনরুদ্ধারেও ভূমিকা রাখতে পারে।এই ঘটনাটি দেখায়, মানুষের কাছে অপ্রয়োজনীয় কোনো জিনিস প্রকৃতির কাছে কখনো কখনো মূল্যবান সম্পদ হয়ে উঠতে পারে।
কালের আলো/এসএ

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশের সময়: সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ । ১:০৭ অপরাহ্ণ