১৫ বছর পর ডিএনএ পরীক্ষায় জানা গেল, প্রিয় বন্ধু আসলে সহোদর বোন!

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশের সময়: সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ । ১:৪১ অপরাহ্ণ

নেদারল্যান্ডসের মিনা গেলটিঙ্ক ও মিনাল টিসেনের বন্ধুত্বের গল্পে ছিল অদ্ভুত এক মিল। কিশোরী বয়সে প্রথম পরিচয়ের পর থেকেই দুজনের চেহারা ও অঙ্গভঙ্গিতে মিল দেখে অবাক হয়েছিলেন তাঁরা। দীর্ঘদিন বন্ধুত্বের পর একসময় যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। প্রায় ১৫ বছর পর আবার যোগাযোগের সূত্র ধরে ডিএনএ পরীক্ষায় জানা গেল, তাঁরা আসলে দুই বোন।

মিনা ও মিনাল দুজনেরই জন্ম ভারতের মুম্বাইয়ে, ১৯৮০-এর দশকে। কয়েক মাস বয়সে তাঁদের মুম্বাইয়ের দুটি আলাদা এতিমখানা থেকে নেদারল্যান্ডসের দুটি পরিবার দত্তক নেয়।

কৈশোরে এক অনুষ্ঠানে তাঁদের প্রথম দেখা। তখনই দুজনের মধ্যে অদ্ভুত এক মিল চোখে পড়ে। মিনা বলেন, বন্ধুরা তাঁদের আয়নায় নিজেদের দেখতে বলেছিলেন। আয়নায় তাকিয়ে তিনি বুঝতে পারেন, তাঁদের নাক ও হাসিতেও আশ্চর্যজনক মিল রয়েছে।

দুজনের বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে। তাঁরা ফোন নম্বর ও ঠিকানা বিনিময় করেন এবং দীর্ঘদিন চিঠির মাধ্যমে যোগাযোগ রাখেন। তবে সময়ের সঙ্গে ব্যস্ততা বাড়তে থাকায় একপর্যায়ে যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। মিনাল পরে নেদারল্যান্ডস ছেড়ে ফ্রান্সে চলে যান।

২০১৭ সালে ভারত থেকে দত্তক নেওয়া ব্যক্তিদের একটি অনুষ্ঠানে ডিএনএ পরীক্ষা সম্পর্কে জানতে পারেন মিনা। তিনি নিজের ডিএনএ পরীক্ষা করালেও তখন কোনো আত্মীয়ের সঙ্গে মিল পাননি। পরে ফোনের জায়গা খালি করতে ডিএনএ শনাক্তের অ্যাপটিও মুছে ফেলেন।

এরপর গত ২০ মে মিনার ফেসবুকে বার্তা পাঠান মিনাল—‘আমাকে মনে আছে?’ সেই বার্তায় পুরোনো স্মৃতি ফিরে আসে মিনার। তিনি আবার ডিএনএ শনাক্তের অ্যাপটি ইনস্টল করেন। তবে ফলাফল দেখার সময় তিনি এতটাই নার্ভাস ছিলেন যে ১০ বার ভুল পাসওয়ার্ড দেন।

অবশেষে অ্যাপটি খুলে যে তথ্য দেখলেন, তা ছিল অবিশ্বাস্য। ডিএনএ পরীক্ষায় তাঁর সঙ্গে ১০০ শতাংশ মিল পাওয়া গেছে ৪৪ বছর বয়সী মিনালের। তখনই পরিষ্কার হয়ে যায়, কৈশোরে যাঁকে তাঁরা প্রিয় বন্ধু হিসেবে পেয়েছিলেন, তিনি আসলে তাঁরই সহোদর বোন।

গত আগস্টে বহু বছর পর তাঁদের দেখা হয়—এবার আর শুধু বন্ধু হিসেবে নয়, দুই বোন হিসেবে। দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বের আড়ালে লুকিয়ে থাকা রক্তের সম্পর্কের এই সত্য তাঁদের জীবনের গল্পকে যেন সিনেমার চেয়েও বিস্ময়কর করে তুলেছে।

কালের আলো/এসএ

প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক: মো: শামসুল আলম খান | ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: এম. আব্দুল্লাহ আল মামুন খান | কপিরাইট © কালের আলো সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন