নিজের বিরুদ্ধে প্রকাশিত সংবাদকে ‘শতভাগ ফেক’ বললেন মতিউর

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশের সময়: সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ । ৬:৫১ অপরাহ্ণ

ঢাকা: নিজের বিরুদ্ধে প্রকাশিত বিভিন্ন সংবাদকে ‘শতভাগ ফেক’ বলে দাবি করেছেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সাবেক কর্মকর্তা মতিউর রহমান। এসব সংবাদের বিষয়ে প্রমাণ চাইলে তা দিতে পারবেন বলেও দাবি করেছেন তিনি।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা মামলায় কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হলে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন মতিউর রহমান।
এ সময় তিনি বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে যত নিউজ হয়েছে, শতভাগ ফেক। এই ফেক নিউজের রেজাল্ট কী আসে? প্রমাণ চাইলে শতভাগ প্রমাণ দিতে পারব। আমার আইনজীবীর কাছে সব প্রমাণ আছে।’
এদিন প্রায় সাড়ে ৫ কোটি টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য ছিল। তবে অভিযোগ গঠনের আদেশের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে যাওয়ার বিষয়টি আদালতকে জানানো হলে সাক্ষ্যগ্রহণ পিছিয়ে দেওয়া হয়। পরে ঢাকার বিভাগীয় স্পেশাল জজ বিএম তারিকুল কবীর আগামী ১ নভেম্বর সাক্ষ্যগ্রহণের নতুন দিন ধার্য করেন।
এর আগে গত ৫ জুলাই মামলাটির অভিযোগ গঠন বিষয়ে শুনানি শেষ হয়। পরে ৩ আগস্ট অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে মতিউর রহমানের বিরুদ্ধে বিচার শুরুর আদেশ দেন আদালত।
দুদকের দাখিল করা চার্জশিটে বলা হয়েছে, মতিউর রহমান সম্পদ বিবরণীতে ১ কোটি ২৪ লাখ ২৫ হাজার ২১১ টাকার সম্পদের তথ্য গোপন করেছেন। এছাড়া সরকারি ক্ষমতার অপব্যবহার, ঘুষ ও দুর্নীতির মাধ্যমে তিনি ৫ কোটি ৪০ লাখ ৯৭ হাজার ৬৭২ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন করেছেন।
২০২৪ সালে কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে ১৫ লাখ টাকা দিয়ে একটি ছাগল কেনার বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনায় আসে। এর পরিপ্রেক্ষিতে মুশফিকুর রহমান ইফাত নামের এক যুবক ও তার পারিবারিক পরিচয় নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হয়। ইফাতের বাবা হিসেবে মতিউর রহমানের নামও সামনে আসে।
এরপর মতিউর রহমান ও তার পরিবারের সদস্যদের সম্পদ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা আলোচনা শুরু হয়। একপর্যায়ে তাদের নামে থাকা বিপুল সম্পদের তথ্যও প্রকাশ্যে আসে।
এ ঘটনায় ২০২৪ সালের ৪ জুন মতিউর রহমান ও তার পরিবারের সদস্যদের জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদের অনুসন্ধানে নামে দুদক। অনুসন্ধানে তাদের নামে ৬৫ বিঘা জমি, আটটি ফ্ল্যাট, দুটি রিসোর্ট ও পিকনিক স্পট এবং তিনটি শিল্পপ্রতিষ্ঠানের তথ্য পাওয়ার কথা জানায় সংস্থাটি। পরে তাদের নামে থাকা ব্যাংক হিসাব, মোবাইল আর্থিক সেবার হিসাব ও শেয়ারবাজারের বিও হিসাবও ক্রোক করা হয়।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি 

প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক: মো: শামসুল আলম খান | ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: এম. আব্দুল্লাহ আল মামুন খান | কপিরাইট © কালের আলো সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন