সূর্যের আলো ছাড়াই বেঁচে থাকে ‘ডেভিল ফ্লাওয়ার’

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশের সময়: মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ । ৪:০৩ অপরাহ্ণ

বেশির ভাগ উদ্ভিদই বেঁচে থাকার জন্য সূর্যের আলোর ওপর নির্ভরশীল। সালোকসংশ্লেষণের মাধ্যমে আলো ব্যবহার করে নিজেদের খাদ্য তৈরি করে তারা। তবে প্রকৃতির এই চিরচেনা নিয়মের ব্যতিক্রমও রয়েছে। থাইল্যান্ডের একটি ছায়াঘেরা পাহাড়ি বনাঞ্চলে সন্ধান মিলেছে এমন এক অদ্ভুত উদ্ভিদের, যা সূর্যের আলো ছাড়াই বেঁচে থাকে।

উদ্ভিদটির বৈজ্ঞানিক নাম থিসমিয়া ডেমোনা (Thismia demona)। এর অদ্ভুত ও কিছুটা ভয়ংকর আকৃতির কারণে এটি ‘ডেভিল ফ্লাওয়ার’ বা ‘ডেভিলের ফুল’ নামে পরিচিত। গত বছরের মে মাসে থাইল্যান্ডের চুলালংকর্ন ইউনিভার্সিটি ও প্রিন্স অব সংক্লা ইউনিভার্সিটির বিজ্ঞানীরা যৌথভাবে উদ্ভিদটির সন্ধান পান।

ডেভিল ফ্লাওয়ারের মাথায় রয়েছে তিনটি লম্বা শিংয়ের মতো অংশ। লালচে-কমলা রঙের ফুলের অংশগুলো দেখতে অনেকটা জ্বলন্ত চোখের মতো। সবচেয়ে বিস্ময়কর বিষয় হলো, উদ্ভিদটিতে কোনো ক্লোরোফিল নেই। ফলে সাধারণ উদ্ভিদের মতো সালোকসংশ্লেষণের মাধ্যমে সূর্যের আলো ব্যবহার করে খাদ্য তৈরি করতে পারে না।

ছত্রাকের ওপরই নির্ভরশীল

সূর্যের আলো থেকে খাদ্য তৈরি করতে না পারলেও বেঁচে থাকার জন্য ডেভিল ফ্লাওয়ারের রয়েছে ভিন্ন কৌশল। উদ্ভিদটি মাটির নিচে থাকা ছত্রাকের ওপর সম্পূর্ণ নির্ভরশীল।

বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, মাইকোহেটারোট্রফি নামের একটি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে উদ্ভিদটি মাটির নিচের ছত্রাকের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করে। সেই ছত্রাক নেটওয়ার্কের মাধ্যমে মাটি থেকে কার্বন ও প্রয়োজনীয় পুষ্টি সংগ্রহ করে এটি বেঁচে থাকে।

এই কারণেই জীবনের বেশির ভাগ সময় উদ্ভিদটি পাতার স্তূপের নিচে লুকিয়ে থাকে। কেবল ফুল ও ফল উৎপাদনের সময় অল্প সময়ের জন্য মাটির ওপরে দেখা দেয়।

পাহাড়ি বনেই দেখা মিলেছে

বিজ্ঞানীদের তথ্যমতে, থাইল্যান্ডের পশ্চিমাঞ্চলের পাহাড়ি বনাঞ্চলে প্রথম ডেভিল ফ্লাওয়ারের সন্ধান পাওয়া যায়। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৯৩০ থেকে ৯৭০ মিটার উচ্চতায় উদ্ভিদটি জন্মে।

সাধারণত আর্দ্র রেইনফরেস্টে এই গণের উদ্ভিদ দেখা গেলেও পাহাড়ি অঞ্চলে থিসমিয়া ডেমোনার উপস্থিতি বিজ্ঞানীদের বিস্মিত করেছে।

প্রিন্স অব সংক্লা ইউনিভার্সিটির উদ্ভিদবিদ সাহুত চান্তানওররাপিন্টের মতে, উদ্ভিদটির আবিষ্কার ছিল বড় ধরনের বিস্ময়। ফুলসহ এর উচ্চতা প্রায় সাড়ে ১২ সেন্টিমিটার পর্যন্ত হতে পারে। এর শিকড় লোমশ এবং অনেকটা প্রবালের মতো দেখতে।

ডেভিল ফ্লাওয়ারের ফুলের রং প্রায় কালো। এর ভেতরে রয়েছে আধা-স্বচ্ছ নীল পুংকেশর, যা উদ্ভিদটির অদ্ভুত সৌন্দর্যকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

প্রকৃতির আরেক বিস্ময়

থিসমিয়া গণের উদ্ভিদকে অনেক সময় ‘ফেইরি ল্যান্টার্ন’ বা ‘পরির লণ্ঠন’ নামেও ডাকা হয়। বিশ্বজুড়ে এই গণের প্রায় ১২০টি প্রজাতি রয়েছে।

সূর্যের আলো ছাড়াই ছত্রাকের ওপর নির্ভর করে বেঁচে থাকা এবং বছরের বেশির ভাগ সময় মাটির নিচে লুকিয়ে থাকার কারণে থিসমিয়া ডেমোনা উদ্ভিদবিজ্ঞানীদের কাছে প্রকৃতির এক অসাধারণ বিস্ময় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

সূত্র: সায়েন্স অ্যালার্ট

কালের আলো/এসএ

প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক: মো: শামসুল আলম খান | ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: এম. আব্দুল্লাহ আল মামুন খান | কপিরাইট © কালের আলো সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন