গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করাই এখন সামনের লড়াই: মির্জা ফখরুল

সিলেট সংবাদদাতা
প্রকাশের সময়: মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ । ৭:১৮ অপরাহ্ণ

দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রাম ও ত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়া এবং তা রক্ষা করাই এখন সবচেয়ে বড় কাজ বলে মন্তব্য করেছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) বিকেলে সিলেট সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে নগর ভবন প্রাঙ্গণে আয়োজিত নাগরিক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

রাষ্ট্রপতি বলেন, গণতন্ত্রের জন্য দেশের মানুষ বারবার সংগ্রাম করেছে। বিভিন্ন সময়ে সেই পথে নানা বাধাও এসেছে। এবার গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার যে সুযোগ তৈরি হয়েছে, কোনোভাবেই অবহেলার কারণে তা হারানো যাবে না।

তিনি বলেন, দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রাম, ত্যাগ-তিতিক্ষা ও প্রাণহানির পর দেশে একটি গণতান্ত্রিক পরিবেশ তৈরির সুযোগ এসেছে। এখন সরকারের বড় দায়িত্ব হচ্ছে ধ্বংসস্তূপ থেকে দেশকে আবার জাগিয়ে তোলা এবং মানুষের প্রত্যাশা পূরণ করা।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, শুধু নির্বাচন আয়োজন করলেই গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয় না। গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে কার্যকর করতে হবে। সংসদকে কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে। সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে মতপার্থক্য থাকাটাই স্বাভাবিক। তবে সেই মতপার্থক্য আলোচনা ও আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করতে হবে।

তিনি বলেন, সরকারি দল ও বিরোধী দলের প্রধান দায়িত্ব হচ্ছে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে টিকিয়ে রাখা। সংসদ যেন যথাযথভাবে কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারে, সে জন্য সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

আগামী দিনের রাজনৈতিক দায়িত্ব তুলে ধরে রাষ্ট্রপতি বলেন, অতীতে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য লড়াই করতে হয়েছে। এখন দেশের পুনর্গঠন ও গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করার জন্য নতুন লড়াই শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি বাসযোগ্য দেশ গড়ে তুলতে হবে।

রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে জাতীয় স্বার্থে ঐকমত্যের ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, দেশে সরকার ও বিরোধী দল থাকবে, বিভিন্ন বিষয়ে মতপার্থক্যও থাকবে। তবে জাতীয় স্বার্থের বিষয়গুলোতে সবাইকে ঐকমত্যে পৌঁছে সামনে এগিয়ে যেতে হবে।

সিলেটের মানুষের প্রশংসা করে রাষ্ট্রপতি বলেন, এ অঞ্চলের মানুষ যেমন অতিথিপরায়ণ ও শান্তিপ্রিয়, তেমনি অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করারও ঐতিহ্য রয়েছে। গণতন্ত্রের জন্য সিলেটের মানুষ অতীতেও অনেক ত্যাগ স্বীকার করেছেন।
সিলেটের উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এ অঞ্চলের সমস্যা ও সম্ভাবনা নিয়ে স্থানীয় মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যরা কাজ করছেন। ইতোমধ্যে বেশ কিছু বড় প্রকল্প সামনে এসেছে। এসব প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে সিলেটবাসীর দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণ হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

রাষ্ট্রপতি বলেন, নিজেদের পায়ে দাঁড়াতে না পারলে এবং নিজেদের দাবি নিজেরা আদায় করে নিতে না পারলে কেউ এসে দেশের জন্য কাজ করে দিয়ে যাবে না।
অনুষ্ঠানে সাবেক অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী এম সাইফুর রহমান, হাছন রাজা, রাধারমণ দত্ত, সুফি সাধক শাহ আবদুল করিম, হেমাঙ্গ বিশ্বাস ও সৈয়দ মুজতবা আলীর মতো কৃতি ব্যক্তিদের স্মরণ করেন রাষ্ট্রপতি।

নাগরিক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, শ্রম ও প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, জাতীয় সংসদের হুইপ জিকে গউছসহ অনেকে বক্তব্য দেন।

কালের আলো/এমএসআইপি 

প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক: মো: শামসুল আলম খান | ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: এম. আব্দুল্লাহ আল মামুন খান | কপিরাইট © কালের আলো সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন