হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার নোয়াপাড়া ইউনিয়ন উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র চলছে চিকিৎসক ছাড়াই। এমবিবিএস চিকিৎসকের পাশাপাশি দীর্ঘ ৬-৭ বছর ধরে নেই উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার (স্যাকমো)। ফলে প্রতিদিন শতাধিক রোগী চিকিৎসা নিতে এলেও প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
বর্তমানে উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রটিতে নাসরিন আক্তার নামে একজন ফার্মাসিস্ট ও আয়েশা আক্তার নামে একজন মিডওয়াইফ কর্মরত রয়েছেন। চিকিৎসক না থাকায় সীমিত পরিসরে রোগীদের সেবা দিতে হচ্ছে তাঁদের।
কেন্দ্রে কর্মরত মিডওয়াইফ আয়েশা আক্তার জানান, ২০২২ সালে তৎকালীন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. ইশতিয়াক মামুনের উদ্যোগে একজন এমবিবিএস চিকিৎসককে এখানে পোস্টিং দেওয়া হয়েছিল। ওই চিকিৎসক কিছুদিন কর্মস্থলে আসার পর আর আসেননি। এরপর দীর্ঘ সময় ধরে নতুন করে কোনো চিকিৎসক বা স্যাকমো পদায়ন করা হয়নি।
জানা গেছে, রোগীরা তাঁদের বিভিন্ন শারীরিক সমস্যার কথা ফার্মাসিস্টের কাছে জানালে প্রয়োজন অনুযায়ী সীমিত ওষুধ দেওয়া হচ্ছে। তবে গুরুতর ও জটিল রোগীদের চিকিৎসার জন্য উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স বা বেসরকারি চিকিৎসাকেন্দ্রে যেতে হচ্ছে।
স্থানীয়রা জানান, প্রতিদিন শতাধিক রোগী এই উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রে চিকিৎসা নিতে আসেন। বিশেষ করে দরিদ্র ও নিম্নআয়ের মানুষের কাছে এটি স্থানীয় পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবার গুরুত্বপূর্ণ একটি কেন্দ্র। কিন্তু চিকিৎসক না থাকায় দীর্ঘদিন ধরে ভোগান্তিতে পড়েছেন তাঁরা।
নোয়াপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সৈয়দ আতাউল মোস্তফা সোহেল বলেন, ‘গরিব রোগীদের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে এখানে একজন চিকিৎসক পোস্টিং দেওয়া জরুরি। প্রতিদিন অনেক রোগী আসেন। চিকিৎসক না থাকায় তাঁদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।’
এ বিষয়ে মাধবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. ইমরুল হাসান বলেন, ‘লোকবল সংকটের কারণে আপাতত কাউকে পোস্টিং দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। তবে বিষয়টি আমাদের কনসার্নে আছে।’
কালের আলো/এমএসআইপি

মাধবপুর (হবিগঞ্জ) সংবাদদাতা
প্রকাশের সময়: বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ । ১০:৩১ পূর্বাহ্ণ