কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে পদ্মার পানি কমতে শুরু করলেও বন্যাদুর্গত মানুষের দুর্ভোগ কাটেনি। বরং পানি কমার সঙ্গে সঙ্গে দেখা দিয়েছে সুপেয় পানির সংকট। পাশাপাশি পানিবাহিত রোগ, সাপ ও পোকামাকড়ের উপদ্রব বেড়ে যাওয়ায় নতুন করে স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়েছেন দুর্গত এলাকার বাসিন্দারা।
কুষ্টিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) তথ্য অনুযায়ী, গত তিন দিনে পদ্মার পানি প্রায় ১৫ সেন্টিমিটার কমেছে। এতে বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হলেও উপজেলার চিলমারী ও রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের দুর্গম চরাঞ্চলের মানুষের দুর্ভোগ এখনও অব্যাহত রয়েছে।
রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের বকমারি গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল মজিদ বলেন, পানি কিছুটা কমলেও তাদের কষ্ট কমেনি। ঘরের ভেতরে-বাইরে সাপ ও পোকামাকড়ের উপদ্রব বেড়েছে। আশপাশের গ্রাম ডুবে থাকায় অনেক দূর থেকে খাবার পানি সংগ্রহ করতে হচ্ছে। তিনি শুকনো খাবার, বিশুদ্ধ পানি ও চিকিৎসাসেবার দাবি জানান।
চিলমারী ইউনিয়নের উদয়নগর গ্রামের রহিমা খাতুন বলেন, পানি নেমে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বিভিন্ন বাড়িতে ডায়রিয়া, আমাশয় ও চর্মরোগ দেখা দিচ্ছে। সন্তানদের নিয়ে তারা উদ্বিগ্ন। দুর্গত এলাকায় স্বাস্থ্যক্যাম্প স্থাপন ও খাদ্য সহায়তার দাবি জানান তিনি।
সাম্প্রতিক বন্যায় দৌলতপুরের পদ্মাতীরের বিস্তীর্ণ নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়। এতে এক হাজার হেক্টরের বেশি জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। চিলমারী ও রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের প্রায় ৫০ হাজার মানুষ এখনও পানিবন্দি রয়েছেন। দুর্গতদের অভিযোগ, অনেক এলাকায় এখনও পর্যাপ্ত চিকিৎসাসেবা ও সরকারি ত্রাণ পৌঁছেনি।
দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. তৌহিদুল হাসান তুহিন বলেন, বন্যার পানি নামার সঙ্গে সঙ্গে পানিবাহিত রোগ ও পোকামাকড়ের আক্রমণ বাড়ে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্থানীয় স্বাস্থ্যকর্মীদের পাশাপাশি দুটি ভ্রাম্যমাণ মেডিকেল টিম কাজ করছে। সাপের কামড়ের চিকিৎসার জন্য পর্যাপ্ত অ্যান্টিভেনম মজুত রাখা হয়েছে। পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট, স্যালাইন ও প্রয়োজনীয় ওষুধ বিতরণও জোরদার করা হচ্ছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অনিন্দ্য গুহ বলেন, পদ্মার পানি কমতে শুরু করায় বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে। তবে স্বাস্থ্যঝুঁকি ও দুর্গত মানুষের দুর্ভোগ মোকাবিলায় প্রশাসন সতর্ক রয়েছে। চিলমারী, রামকৃষ্ণপুরসহ দুর্গম চরাঞ্চলের ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের কাছে ত্রাণ পৌঁছে দেওয়ার কাজ চলছে। পাশাপাশি স্যানিটেশন, বিশুদ্ধ পানি ও গোখাদ্য সরবরাহেও সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো কাজ করছে।
বিজিবির খাদ্য সহায়তা
বন্যাদুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। বুধবার বেলা ১১টার দিকে চিলমারী ইউনিয়নের বাংলাবাজার-উদয়নগর ও ভাগজত এলাকায় কুষ্টিয়া ব্যাটালিয়নের (৪৭ বিজিবি) উদ্যোগে ৫০০ ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মধ্যে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়। এসব খাদ্যসামগ্রীর মধ্যে ছিল চাল, ডাল, তেল, আটা ও লবণ।
খাদ্যসামগ্রী বিতরণের সময় উপস্থিত ছিলেন বিজিবি দক্ষিণ-পশ্চিম রিজিয়নের কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাহমুদুল হাসান, কুষ্টিয়া সেক্টর কমান্ডার কর্নেল মোহাম্মদ ইফতেখার হোসেন এবং ৪৭ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল রাশেদ কামাল রনি।
ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাহমুদুল হাসান বলেন, সীমান্ত রক্ষার পাশাপাশি প্রাকৃতিক দুর্যোগে সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ানো বিজিবির দায়িত্বের অংশ। বন্যা পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত মানবিক সহায়তা অব্যাহত থাকবে।
কালের আলো/এমএসআইপি/এসকে

দৌলতপুর (কুষ্টিয়া) সংবাদদাতা
প্রকাশের সময়: বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ । ৭:২৭ অপরাহ্ণ