৩৬ কিলোমিটার সড়কে গর্ত-ফাটল, ঝুঁকি নিয়ে চলাচল

ঝিনাইদহ সংবাদদাতা
প্রকাশের সময়: বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ । ৭:৩৭ অপরাহ্ণ

দীর্ঘদিন সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে ঝিনাইদহের আমতলা-তৈলটুপি-আলমডাঙ্গা (জেড-৭৪০৪) জেলা সড়কটি এখন বেহাল অবস্থায় রয়েছে। ৩৬ দশমিক ২৫ কিলোমিটার দীর্ঘ সড়কটির বিভিন্ন স্থানে তৈরি হয়েছে অসংখ্য ফাটল ও ছোট-বড় গর্ত। কোথাও কোথাও উঠে গেছে সড়কের পিচ। এতে প্রতিদিন চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী, কৃষকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।

সড়কটি ঝিনাইদহ-কুষ্টিয়া মহাসড়কের আমতলা বাজার থেকে শুরু হয়ে হরিণাকুন্ডু উপজেলার চাঁদপুর, ফলসী, রঘুনাথপুর, জোড়াদহ ও ভায়না ইউনিয়নের ওপর দিয়ে কুষ্টিয়া সদর উপজেলার ঝাউদিয়া হয়ে চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করেছে। কৃষিপণ্য পরিবহন ও স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ এ সড়কটি।

সরেজমিনে দেখা যায়, আমতলা বাজার, মকিমপুর, ছোট ভাদড়া, কন্যাদহ, জিন্দারের মোড়, দরিবিন্নি ও সড়াবাড়িয়াসহ বিভিন্ন স্থানে সড়কের অবস্থা অত্যন্ত নাজুক। কোথাও পিচ উঠে বড় গর্ত তৈরি হয়েছে, আবার কোথাও দেখা দিয়েছে দীর্ঘ ফাটল। বর্ষায় এসব গর্তে পানি জমে পরিস্থিতি আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে। ফলে মোটরসাইকেল, ইজিবাইক, ভ্যানসহ ছোট যানবাহনের চালকদের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, মাঝে মধ্যে সড়কের কিছু অংশে ইট, বালু ও মাটি ফেলে সাময়িক মেরামত করা হলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই অপ্রতুল। কিছুদিন পরই সংস্কার করা অংশে আবারও গর্ত ও ভাঙন দেখা দেয়। তাদের দাবি, টেকসই ও পূর্ণাঙ্গ সংস্কারের মাধ্যমে সড়কটি দ্রুত চলাচলের উপযোগী করা হোক।

সড়ক ও জনপথ (সওজ) ঝিনাইদহের তথ্যমতে, এলজিইডি থেকে সওজে হস্তান্তর করা ৩৬ দশমিক ২৫ কিলোমিটার সড়কের মাত্র ১৩ কিলোমিটার অংশ মোটামুটি চলাচলের উপযোগী রয়েছে। আমতলা বাজার থেকে ০-৪, ৫-১৩ এবং ২৫-৩৪ কিলোমিটার অংশের অবস্থা সবচেয়ে খারাপ।

সওজ সূত্র জানায়, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ৩ কোটি ১০ লাখ টাকা ব্যয়ে চারটি টেন্ডারের মাধ্যমে ৩ হাজার ৩৫০ মিটার সড়ক সংস্কার করা হয়। তবে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে সড়কটিতে কোনো সংস্কারকাজ হয়নি।

সওজ ঝিনাইদহের নির্বাহী প্রকৌশলী তুহিন আল মামুন বলেন, সড়কটির সংস্কারে বরাদ্দের অপ্রতুলতা রয়েছে। বরাদ্দ পাওয়া সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় সংস্কারকাজ করা হবে। সড়কটি নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে, তবে সেটি বাস্তবায়নে সময় লাগবে।

কালের আলো/এমএসআইপি 

প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক: মো: শামসুল আলম খান | ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: এম. আব্দুল্লাহ আল মামুন খান | কপিরাইট © কালের আলো সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন