৫০০ কুমিরের নদীতেই হবে অলিম্পিকের রোয়িং

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশের সময়: বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ । ৮:১৪ অপরাহ্ণ

অস্ট্রেলিয়ার রকহ্যাম্পটনের ফিটজরয় নদীতে বাস করে প্রায় ৫০০ নোনাপানির কুমির। সেই নদীতেই ২০৩২ ব্রিসবেন অলিম্পিক ও প্যারালিম্পিকের রোয়িং ও ক্যানো স্প্রিন্ট আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

ব্রিসবেন থেকে প্রায় ৫৬৫ কিলোমিটার দূরের এই নদীকে একটি স্বাধীন কারিগরি মূল্যায়নের পর ক্যানোয়িংয়ের জন্য উপযুক্ত ঘোষণা করা হয়েছে। তবে মূল্যায়নের সময় কুমিরের উপস্থিতিকে ঝুঁকি হিসেবে বিবেচনা করা হয়নি। সেখানে মূলত গেমস চলাকালীন ও তার আগের সময়ে আবহাওয়া, পানির স্তর এবং বন্যার ঝুঁকি পর্যালোচনা করা হয়েছে।

গেমস ইনডিপেনডেন্ট ইনফ্রাস্ট্রাকচার অ্যান্ড কোঅর্ডিনেশন অথরিটির তথ্য অনুযায়ী, ফিটজরয় নদীর ফ্ল্যাটওয়াটার ফ্যাসিলিটি আগে থেকেই বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় ব্যবহৃত হয়ে আসছে। এখানে স্কুল পর্যায়ের প্রতিযোগিতা, স্থানীয় রেগাটা এবং জাতীয় দলের প্রশিক্ষণ ক্যাম্প নিয়মিত আয়োজন করা হয়।

স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নদীতে কুমিরের উপস্থিতি নতুন কোনো বিষয় নয়। তাই কুমির দেখা দিলে অ্যাথলেট ও অন্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নির্দিষ্ট জরুরি পরিকল্পনাও রয়েছে। অলিম্পিক কর্মকর্তাদের আগেই এ বিষয়ে নিরাপত্তার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

আন্তর্জাতিক সংস্থার সবুজ সংকেত

রোয়িংয়ের আন্তর্জাতিক সংস্থা ওয়ার্ল্ড রোয়িং এবং ক্যানো স্প্রিন্টের আন্তর্জাতিক সংস্থা প্যাডেল ওয়ার্ল্ডওয়াইড—দুই সংস্থাই ফিটজরয় নদীকে প্রতিযোগিতার জন্য উপযুক্ত বলে অনুমোদন দিয়েছে।

ওয়ার্ল্ড রোয়িংয়ের সভাপতি জিন-ক্রিস্টোফ রোল্যান্ড বলেন, বিস্তারিত বিশ্লেষণের পর তাঁরা নিশ্চিত হয়েছেন যে ফিটজরয় নদী অলিম্পিক ও প্যারালিম্পিক রোয়িংয়ের নিয়ম অনুযায়ী প্রতিযোগিতা আয়োজনের উপযুক্ত।

প্যাডেল ওয়ার্ল্ডওয়াইডের সভাপতি টমাস কোনিয়েটজকোও ভেন্যুটিকে ক্যানো স্প্রিন্টের জন্য উপযোগী বলে মন্তব্য করেছেন। তাঁর মতে, কারিগরি মূল্যায়নের পর অ্যাথলেটদের আত্মবিশ্বাস বেড়েছে।

‘সমুদ্রে হাঙরও থাকে’

ফিটজরয় নদীতে কুমিরের উপস্থিতি নিয়ে এর আগেও প্রশ্ন উঠেছিল। তবে ব্রিসবেন ২০৩২-এর সভাপতি অ্যান্ড্রু লিভারিস গত বছর বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগকে গুরুত্ব না দিয়ে বলেছিলেন, সমুদ্রে হাঙর থাকে বলে যেমন সার্ফিং বন্ধ করা হয় না, তেমনি কুমির আছে বলে রোয়িংও বন্ধ করার প্রয়োজন নেই।

ভেন্যু চূড়ান্ত হওয়ার পর তিনি বলেন, এই স্বীকৃতি অলিম্পিক আয়োজনের পরিকল্পনাকে আরও এক ধাপ এগিয়ে দিয়েছে।

ফিটজরয় নদীর নোনাপানির কুমিরগুলো স্থানীয়ভাবে ‘সল্টি’ নামে পরিচিত। এরা স্বাদু ও লোনা—দুই ধরনের পানিতেই চলাচল করতে পারে। পূর্ণবয়স্ক কিছু কুমিরের দৈর্ঘ্য ছয় মিটারেরও বেশি হতে পারে।

ফলে ২০৩২ সালের অলিম্পিকে ফিটজরয় নদীতে রোয়িং ও ক্যানো স্প্রিন্টের সময় অ্যাথলেটদের প্রতিযোগিতার পাশাপাশি কুমিরের উপস্থিতিও যে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থার বিষয় হয়ে থাকবে, তা নিশ্চিতভাবেই বলা যায়।

সূত্রঃবিবিসি

কালের আলো/এসএ

প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক: মো: শামসুল আলম খান | ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: এম. আব্দুল্লাহ আল মামুন খান | কপিরাইট © কালের আলো সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন