এআইয়ে সিনেমার খরচ কমছে ৩০ শতাংশ, বদলে যাচ্ছে ভারতের চলচ্চিত্র নির্মাণ

বিনোদন প্রতিবেদক
প্রকাশের সময়: বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ । ৮:৫৮ অপরাহ্ণ

কানাডার তুষারঢাকা বিশাল পর্বতমালা কিংবা ১৯৩০ সালের বুদাপেস্টের ব্যস্ত সড়ক—চিত্রনাট্যে এমন দৃশ্য থাকলেও এখন আর সেসব জায়গায় গিয়ে শুটিং করতেই হবে, এমন নয়। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইয়ের সাহায্যে স্টুডিওতে বসেই বদলে ফেলা যাচ্ছে শুটিংয়ের দৃশ্যপট। এতে ভারতে চলচ্চিত্র নির্মাণের খরচ কমছে, একই সঙ্গে বেঁচে যাচ্ছে শুটিংয়ের সময়ও।

আরব নিউজের এক প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে প্রথম আলো জানিয়েছে, চলচ্চিত্র নির্মাণে এআই ব্যবহারের ফলে ভারতে কিছু ক্ষেত্রে ব্যয় অন্তত ৩০ শতাংশ পর্যন্ত কমে আসছে।

সম্প্রতি মুম্বাইয়ের একটি স্টুডিওতে বসেই প্রযোজক আরফি লাম্বা এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে ইতালির আল্পস পর্বতমালার একটি সাধারণ দৃশ্যকে কানাডার তুষারাবৃত পাহাড়ি অঞ্চলের দৃশ্যে রূপান্তর করেছেন।

লাম্বার দাবি, বুদাপেস্টের একটি সেটকে ১৯৩০-এর দশকের আবহ দিতে প্রচলিত ভিএফএক্স পদ্ধতিতে কাজ করালে খরচ হতে পারত ১৫ হাজার থেকে ৪০ হাজার ইউরো। সেখানে এআই ব্যবহার করে একই ধরনের কাজ প্রায় ১ হাজার ৫০০ ইউরোর মধ্যে করা সম্ভব হয়েছে।

শুধু দৃশ্যপট নয়, পুরো নির্মাণপ্রক্রিয়ায় এআই

চলচ্চিত্রে এআইয়ের ব্যবহার এখন শুধু দৃশ্যপট বদলে দেওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। চিত্রনাট্যের ভুলত্রুটি শনাক্ত করা, ডাবিং, সম্পাদনা এবং কালার গ্রেডিংয়ের মতো কাজেও বিভিন্ন এআই টুল ব্যবহার করা হচ্ছে।

ভারতের বিনোদনশিল্পের বড় প্রতিষ্ঠানগুলোও এই প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করছে। ইরোস ইন্টারন্যাশনাল ও জিও স্টুডিওস দীর্ঘদিন ধরে চলচ্চিত্র নির্মাণে এআইয়ের সম্ভাবনা নিয়ে গবেষণা করছে। ইরোস ইন্টারন্যাশনাল পুরোপুরি এআইনির্ভর চলচ্চিত্র নির্মাণপ্রক্রিয়ার দিকেও এগোচ্ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

হাইপারকগ টেকনোলজিসের প্রতিষ্ঠাতা রঞ্জিত কুমারের মতে, সিনেমায় এআইয়ের সম্ভাবনার খুব সামান্য অংশই এখন ব্যবহার করা হচ্ছে। তাঁর ধারণা, আগামী পাঁচ থেকে ১০ বছরে প্রযুক্তিটির আরও বিকাশ ঘটলে চলচ্চিত্র নির্মাণের প্রচলিত পদ্ধতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে।

কাজ হারানোর শঙ্কা

তবে এআইয়ের দ্রুত ব্যবহার নিয়ে চলচ্চিত্রশিল্পে উদ্বেগও তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে ভিএফএক্সশিল্পী, সম্পাদক এবং সহকারী পরিচালকদের মতো পেশায় কাজের সুযোগ কমে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

এআই যেসব কাজ দ্রুত ও তুলনামূলক কম খরচে করতে পারছে, সেগুলোর কিছু অংশ আগে বিপুলসংখ্যক কলাকুশলীকে দিয়ে করানো হতো। ফলে প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে চলচ্চিত্রশিল্পের কর্মসংস্থানে এর প্রভাব নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।

মানুষের সৃজনশীলতার বিকল্প কি এআই?

প্রযুক্তির দ্রুত অগ্রগতির মধ্যেও নির্মাতা ও চিত্রনাট্যকারদের একটি অংশ মনে করছেন, চলচ্চিত্রের মৌলিক সৃজনশীলতা ও মানবিক আবেগের জায়গা পুরোপুরি এআই দখল করতে পারবে না।

চিত্রনাট্যকার সুধাকর একলব্যের মতে, এআই দিয়ে সাধারণ বা ভালো মানের চিত্রনাট্য তৈরি করা সম্ভব হলেও মানুষের তৈরি অনবদ্য ও কালজয়ী গল্প তৈরির সক্ষমতা এআইয়ের নেই।

প্রযোজকদের কেউ কেউ আরও মনে করেন, শুধু এআই-নির্ভর চরিত্র ও গল্প দিয়ে তৈরি সিনেমা মানবিক অনুভূতি ও বৈচিত্র্যের অভাবে দর্শকের কাছে দ্রুত একঘেয়ে হয়ে উঠতে পারে।

ফলে চলচ্চিত্রে এআই একদিকে যেমন নির্মাণের খরচ ও সময় কমানোর নতুন সুযোগ তৈরি করছে, অন্যদিকে তেমনি শিল্পীদের কর্মসংস্থান এবং মানুষের সৃজনশীলতার ভবিষ্যৎ নিয়েও নতুন বিতর্ক তৈরি করছে।

সূত্র: আরব নিউজ অবলম্বনে

কালের আলো/এসএ

প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক: মো: শামসুল আলম খান | ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: এম. আব্দুল্লাহ আল মামুন খান | কপিরাইট © কালের আলো সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন