২৫ বছরে চয়নিকা, একই দিনে চার নাটক

বিনোদন প্রতিবেদক
প্রকাশের সময়: শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ । ১:৩০ অপরাহ্ণ

২০০১ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর ‘শেষ বেলায়’ নাটকের শুটিং দিয়ে নির্মাতা হিসেবে যাত্রা শুরু করেছিলেন চয়নিকা চৌধুরী। দেখতে দেখতে পেরিয়ে গেছে ২৫ বছর। এই সময়ে চার শতাধিক নাটক নির্মাণের পাশাপাশি ‘বিশ্বসুন্দরী’ ও ‘প্রহেলিকা’ নামে দুটি চলচ্চিত্রও নির্মাণ করেছেন তিনি। তবে চলচ্চিত্রে কাজ করলেও টেলিভিশন নাটক থেকে কখনো দূরে সরে যাননি।

নির্মাণজীবনের ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে এবারও নতুন কাজ নিয়েই দর্শকের সামনে থাকছেন চয়নিকা। শুক্রবার একই দিনে চারটি টেলিভিশন চ্যানেলে প্রচারিত হচ্ছে তাঁর চারটি নতুন নাটক।

চয়নিকার ভাষায়, ২৫ বছর পেরিয়েও নতুন কাজের শুটিং শুরুর সময় প্রথম দিনের সেই দুরুদুরু অনুভূতি ফিরে আসে। কারণ, তাঁর বিশ্বাস, এখনো নিজের সেরা কাজটি দেওয়া হয়নি। সামনে আরও ভালো কাজ করার আকাঙ্ক্ষাই তাঁকে নিয়মিত নতুন কাজে ফিরিয়ে আনে।

একই দিনে চার নাটক

২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে নির্মিত চার নাটকের একটি ‘সময় একটু থামো’। ইফফাত আরেফিন তন্বীর লেখা নাটকটি প্রচারিত হবে চ্যানেল আইয়ে। এতে অভিনয় করেছেন আফজাল হোসেন, জাকিয়া বারী মম, রোজী সিদ্দিকী ও ফারজানা ছবিসহ অনেকে। পরে নাটকটি গানচিলের ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশিত হবে।

এটিএন বাংলায় প্রচারিত হবে ‘বিষণ্ন মেঘ’। চয়নিকা চৌধুরীর দেখা একটি সত্য ঘটনা অবলম্বনে ইফফাত আরেফিন তন্বী নাটকটি লিখেছেন। অভিনয়ে রয়েছেন ইরফান সাজ্জাদ, জাকিয়া বারী মম, সাদিয়া আয়মান ও ডলি জহুর। প্রচারের পর নাটকটি দেখা যাবে লেজার ভিশনের ইউটিউব চ্যানেলে।

বৈশাখী টেলিভিশনে প্রচারিত হবে শফিকুর রহমান শান্তনুর লেখা ‘জোছনায় ফেরা’। এতে অভিনয় করেছেন ইরফান সাজ্জাদ, আইশা খান ও দীপা খন্দকার। নাটকটি পরে লেজার ভিশনের ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশিত হবে।

মাছরাঙা টেলিভিশনে দেখা যাবে আহমেদ তৌকীরের লেখা ‘প্রথম দেখার পর’। এতে অভিনয় করেছেন ইরফান সাজ্জাদ, তানজিন তিশা, আবুল হায়াত ও ডলি জহুর। টেলিভিশন প্রচারের পর নাটকটি প্রকাশিত হবে জি সিরিজের ইউটিউব চ্যানেলে।

শুরুটা যেভাবে

‘শেষ বেলায়’ দিয়ে নির্মাণযাত্রা শুরু হলেও সেটিই চয়নিকার প্রথম প্রচারিত নাটক নয়। তাঁর নির্মিত প্রথম প্রচারিত নাটক ‘এক জীবনে’। অ্যাড মিডিয়া প্রযোজিত নাটকটি ২০০১ সালের ২৮ অক্টোবর বাংলাদেশ টেলিভিশনে প্রচারিত হয়।

নির্মাতা হিসেবে প্রথম সুযোগ পাওয়ার পেছনে লাইট অ্যান্ড শেডের মুজিবুর রহমান এবং অ্যাড মিডিয়ার জায়েদান রাব্বী ও তমালিকার অবদানের কথা স্মরণ করেন চয়নিকা। তাঁর মতে, যোগ্যতা থাকলেও তা প্রকাশের জন্য একটি সুযোগ প্রয়োজন।

এরও আগে ১৯৯৮ সালে ‘বোধ’ নাটকের মাধ্যমে চিত্রনাট্যকার হিসেবে তাঁর যাত্রা শুরু হয়। লেখালেখি থেকেই পরে তিনি নির্মাণে আসেন।

শুরুর দিকে ইমদাদুল হক মিলন, মাহফুজ আহমেদ, অপি করিম, শ্রাবন্তী, শাহেদ, ঈশিতা ও জয়া আহসানের মতো অভিনয়শিল্পীরা তাঁর নাটকে কাজ করেছেন। দীর্ঘ পথচলায় তারিন জাহান, জিয়াউল ফারুক অপূর্ব, আবুল হায়াত, প্রয়াত শর্মিলী আহমেদ ও ডলি জহুরের সঙ্গেও উল্লেখযোগ্যসংখ্যক কাজ করেছেন তিনি।

গান থেকে নির্মাণে

ছোটবেলায় চয়নিকার স্বপ্ন ছিল রবীন্দ্রসংগীতশিল্পী হওয়ার। মিতা হক, রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যা ও সন্‌জীদা খাতুন ছিলেন তাঁর অনুপ্রেরণা। গান শেখার জন্য শান্তিনিকেতনেও গিয়েছিলেন। পরে সংসার ও পারিবারিক দায়িত্বের কারণে সেই পথে আর এগোনো হয়নি।

তবে শিল্পচর্চা থেমে থাকেনি। লেখালেখির পর নির্মাণে এসে মানুষের সম্পর্ক, পরিবার, ভালোবাসা ও আবেগকে নিজের গল্পের কেন্দ্রে রেখেছেন তিনি। তাঁর মতে, সময় বদলালেও মানুষের মৌলিক অনুভূতিগুলো বদলায় না।

দুই ধরনের সিনেমা থেকে শিক্ষা

চয়নিকার চলচ্চিত্র দেখার অভিজ্ঞতাও তৈরি হয়েছে দুই ধরনের পরিবেশে। মায়ের সঙ্গে সত্যজিৎ রায় ও মৃণাল সেনের মতো নির্মাতাদের চলচ্চিত্র দেখেছেন, আবার বাবার সঙ্গে প্রেক্ষাগৃহে বাণিজ্যিক সিনেমাও দেখেছেন। তাঁর নির্মাণভাবনায় দুই ধরনের অভিজ্ঞতারই প্রভাব রয়েছে বলে জানান তিনি।

নির্মাণের পথে অপর্ণা সেন, ঋতুপর্ণ ঘোষ, মোস্তফা কামাল সৈয়দ, হুমায়ূন আহমেদসহ অনেকের কাজ থেকে শেখার কথা বলেছেন চয়নিকা। বিশেষভাবে আফজাল হোসেনের সমর্থন ও অনুপ্রেরণার কথাও স্মরণ করেন তিনি।

নাটকেই থাকবেন

চলচ্চিত্র নির্মাণের পাশাপাশি টেলিভিশন নাটককে ছাড়তে চান না চয়নিকা। কারণ, নাটকই তাঁকে নির্মাতা হিসেবে পরিচিত করেছে এবং দর্শকের কাছে পৌঁছে দিয়েছে। ভবিষ্যতে ওটিটিতেও কাজ করতে চান তিনি। তবে মাধ্যম বদলালেও তাঁর গল্পে মানুষ, সম্পর্ক ও আবেগই গুরুত্ব পাবে বলে জানান।

২৫ বছরের নির্মাণযাত্রা পূর্ণ করেও নিজেকে গন্তব্যে পৌঁছে যাওয়া নির্মাতা মনে করেন না চয়নিকা। বরং সামনে আরও ভালো কাজ করার আকাঙ্ক্ষাই তাঁকে এগিয়ে নিচ্ছে। তাঁর কাছে নির্মাণই ভালোবাসা, আর দর্শকের জন্য নতুন কাজ করতে পারাটাই এই দীর্ঘ পথচলার বড় প্রাপ্তি।

কালের আলো/এসএ

প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক: মো: শামসুল আলম খান | ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: এম. আব্দুল্লাহ আল মামুন খান | কপিরাইট © কালের আলো সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন