বঙ্গোপসাগরে নৌ কূটনীতির নতুন অধ্যায়, বাড়ছে সহযোগিতার পরিসর

বিশেষ সংবাদদাতা, কালের আলো:
প্রকাশের সময়: শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ । ১১:০৭ অপরাহ্ণ

বাংলাদেশে চীনের নৌবাহিনীর তিনটি যুদ্ধজাহাজের পাঁচ দিনের শুভেচ্ছা সফরকে ঘিরে দুই দেশের সামরিক সহযোগিতার বিষয়টি আবারও সামনে এসেছে। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) চীনা নৌবাহিনীর ‘থাং শান’ ও ‘দা ছিং’ জাহাজ পরিদর্শন করেছেন প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ. কে. এম. শামছুল ইসলাম এবং নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল খোন্দকার মিসবাহ উল আজীম। চট্টগ্রাম বন্দরে আয়োজিত এই পরিদর্শনে বাংলাদেশের শীর্ষ সামরিক নেতৃত্বসহ দু’দেশের সামরিক ও কূটনৈতিক কর্মকর্তাদের উপস্থিতি সফরটির গুরুত্বও বিশেষভাবে তুলে ধরেছে।

  • ‘থাং শান’ ও ‘দা ছিং’ পরিদর্শনে প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ও নৌবাহিনী প্রধান
  • প্রযুক্তি, প্রশিক্ষণ ও যৌথ মহড়ায় গুরুত্ব

প্রযুক্তি ও পেশাগত অভিজ্ঞতা বিনিময়ে জোর
জাহাজ পরিদর্শনের সময় আধুনিক নৌ সরঞ্জাম, প্রযুক্তি ও নিরাপত্তাব্যবস্থা সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ. কে. এম. শামছুল ইসলামকে অবহিত করা হয়। পরে চীনা জাহাজ দুটির কমান্ডিং অফিসার, কর্মকর্তা ও নাবিকদের সঙ্গে তাঁর মতবিনিময়ে উঠে আসে দুই দেশের নৌবাহিনীর পেশাগত সম্পর্ক, অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং সহযোগিতার বিষয়। এখানে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো—সহযোগিতাটি শুধু সৌজন্য সফরে সীমাবদ্ধ না রেখে প্রশিক্ষণ, নৌ-নিরাপত্তা এবং সামুদ্রিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার মতো বাস্তব সক্ষমতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রেও বিস্তৃত করার আলোচনা হয়েছে। আন্ত:বাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) জানায়, এছাড়াও মতবিনিময়কালে আঞ্চলিক সামুদ্রিক সহযোগিতা জোরদারের পাশাপাশি সামরিক প্রশিক্ষণ ও নৌ-সহযোগিতা বৃদ্ধির বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়।

বঙ্গোপসাগরে সহযোগিতার নতুন মাত্রা
চীনা নৌবাহিনীর ‘থাং শান’, ‘দা ছিং’ ও ‘থাই হু’ গত বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশে আসে। পাঁচ দিনের এই সফরে পেশাগত যোগাযোগের পাশাপাশি দুই দেশের নৌবাহিনীর মধ্যে ভবিষ্যৎ সহযোগিতার সুযোগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে সফর শেষে বাংলাদেশের জলসীমা ত্যাগের সময় প্যাসেক্স-এ অংশ নেওয়ার বিষয়টি তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে হচ্ছে। এই ধরনের মহড়া সাধারণত দুই নৌবাহিনীর যোগাযোগ, সমন্বয় এবং পারস্পরিক কার্যপদ্ধতি সম্পর্কে বাস্তব অভিজ্ঞতা বিনিময়ের সুযোগ তৈরি করে।

নৌ কূটনীতিতে ঢাকার বহুমাত্রিক যোগাযোগ
বাংলাদেশের জন্য বঙ্গোপসাগরকেন্দ্রিক সামুদ্রিক নিরাপত্তা, নৌ-সক্ষমতা এবং আঞ্চলিক সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। অন্যদিকে, চীনের নৌবাহিনীর এ ধরনের সফর দুই দেশের সামরিক যোগাযোগকে প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ে ধরে রাখার একটি মাধ্যম। এই সফরের তাৎপর্যকে সামরিক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখার পাশাপাশি কর্মকর্তা পর্যায়ের মতবিনিময়, প্রশিক্ষণ এবং যৌথ মহড়ার মতো কার্যক্রম নৌ কূটনীতির অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এসবের মাধ্যমে পারস্পরিক আস্থা ও যোগাযোগ বাড়ানোর সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।

এ সময় চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েনসহ বাংলাদেশ নৌবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং চীনা দূতাবাসের পদস্থ কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।।বিশ্লেষকরা বলেন, চীনা যুদ্ধজাহাজের এবারের সফর বাংলাদেশ-চীন নৌবাহিনীর মধ্যকার নিয়মিত যোগাযোগের ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছে। ভবিষ্যতে প্রশিক্ষণ, সামুদ্রিক নিরাপত্তা ও পেশাগত সহযোগিতার পরিসর আরও বিস্তারের উজ্জ্বল সম্ভাবনা তৈরি করেছে।

কালের আলো/এমএএএমকে

প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক: মো: শামসুল আলম খান | ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: এম. আব্দুল্লাহ আল মামুন খান | কপিরাইট © কালের আলো সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন