ডিসেম্বরেই সংবিধান সংশোধনের রিপোর্ট সংসদে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশের সময়: রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ । ৬:৫১ অপরাহ্ণ

আগামী ডিসেম্বরের মধ্যেই সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত বিশেষ কমিটির চূড়ান্ত রিপোর্ট জাতীয় সংসদে উত্থাপন করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও সংবিধান সংশোধনের বিশেষ কমিটির সভাপতি সালাহউদ্দিন আহমদ। এরপর আলোচনা-পর্যালোচনার ভিত্তিতে সংবিধানের ১৮তম সংশোধনী বিল সংসদে আনা হবে বলে জানান তিনি।

রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদের মিডিয়া সেন্টারে কমিটির দ্বিতীয় বৈঠক শেষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন সালাহউদ্দিন আহমদ।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সংবিধান সংশোধনের কাজ দ্রুত এগিয়ে নিতে প্রতি সপ্তাহে একটি করে বৈঠক করা হবে। ডিসেম্বরের শেষ নাগাদ আলোচনা শেষ করে রিপোর্ট প্রণয়নের কাজ চূড়ান্ত করা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

তিনি জানান, কমিটির চূড়ান্ত রিপোর্টের ভিত্তিতে আইন ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে সংবিধান সংশোধনী বিল সংসদে উপস্থাপন করা হবে।

২৬ দলের মধ্যে ১৫ দলের অংশগ্রহণ

কমিটির বৈঠকে রাজনৈতিক দলগুলোর অংশগ্রহণ প্রসঙ্গে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘জুলাই জাতীয় সনদে’ স্বাক্ষরকারী ২৬টি রাজনৈতিক দলকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। এর মধ্যে ১৫টি দল তাদের প্রতিনিধির মাধ্যমে সরাসরি বৈঠকে অংশ নিয়েছে। এবি পার্টি লিখিত বক্তব্য দিয়েছে।

জাতীয় গণফ্রন্টের নেতারা পারিবারিক অসুস্থতার কারণে শেষ মুহূর্তে বৈঠকে অংশ নিতে না পারলেও টেলিফোনে সমর্থন জানিয়েছেন। তবে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপি এখনো কমিটিতে অংশ নেয়নি বলে জানান তিনি।

অর্থবছর ও দ্বিকক্ষ সংসদ নিয়ে আলোচনা

সংবিধানের কাঠামোগত পরিবর্তনের বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিদ্যমান শাসনব্যবস্থা, নির্বাচন, বিচার, জনপ্রশাসন ও পুলিশ ব্যবস্থায় সংস্কারের বিষয়ে সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ।

অর্থবছর পরিবর্তনের বিষয়টিও সংবিধান সংশোধনের আলোচনায় রয়েছে বলে জানান তিনি। উন্নয়ন প্রকল্প সুচারুভাবে বাস্তবায়ন ও অপচয় রোধে জুলাই-জুনের পরিবর্তে ১ এপ্রিল থেকে ৩১ মার্চ পর্যন্ত অর্থবছর নির্ধারণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এটি বাস্তবায়নে সংবিধানে পরিবর্তন প্রয়োজন হবে বলেও জানান তিনি।

এ ছাড়া ১০০ সদস্য নিয়ে দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদের উচ্চকক্ষ গঠনের একটি রূপরেখার কথা তুলে ধরেন সালাহউদ্দিন আহমদ। তার ভাষ্য অনুযায়ী, উচ্চকক্ষের সদস্যরা সরাসরি জনপ্রতিনিধি হিসেবে নির্বাচিত হবেন না; বরং সংসদে পাওয়া আসনের আনুপাতিক হারে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিশিষ্টজনদের নিয়ে উচ্চকক্ষ গঠনের বিষয়ে অনেক দল একমত হয়েছে। তবে উচ্চকক্ষের সংবিধান সংশোধনের ক্ষমতা থাকবে না।

‘নোট অব ডিসেন্ট’ প্রসঙ্গ

জুলাই সনদে বিভিন্ন দলের দেওয়া ‘নোট অব ডিসেন্ট’ প্রসঙ্গে কমিটির সভাপতি বলেন, যেসব বিষয়ে ভিন্নমত ছিল, সেগুলো নির্বাচনী ইশতেহারে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করে জনগণের ম্যান্ডেট নেওয়া হয়েছে। জনগণের ম্যান্ডেট ও প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী এসব বিষয় বাস্তবায়ন করা হবে বলে জানান তিনি।

সংস্কার নিয়ে বিএনপি সংখ্যাগরিষ্ঠতার কারণে আগ্রহী নয়—এমন প্রচারকে অসত্য বলে মন্তব্য করেন সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, জুলাই জাতীয় সনদ যেভাবে স্বাক্ষরিত হয়েছে, সেটি সেভাবেই বাস্তবায়ন করা হবে।

ভবিষ্যতে সংশোধনী বাতিলের শঙ্কা নেই

সংবিধানের প্রস্তাবিত সংশোধনী ভবিষ্যতে আদালতে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সংবিধান কোনো চিরস্থায়ী অপরিবর্তনীয় গ্রন্থ নয়; সমাজের প্রয়োজন অনুযায়ী এতে পরিবর্তন আনা হয়।

তিনি বলেন, কোনো রাজনৈতিক দল জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে সরকার গঠন করে এবং সংসদে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করলে জনগণের চাহিদা অনুযায়ী সংবিধানের বিধান পরিবর্তন করতে পারে।

বিরোধী দলগুলো সংসদে না থাকলেও সংবিধান সংশোধনী বিল উত্থাপনের সময় তারা সংসদে অংশ নেবে বলে আশা প্রকাশ করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

কালের আলো/এমএসআইপি 

প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক: মো: শামসুল আলম খান | ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: এম. আব্দুল্লাহ আল মামুন খান | কপিরাইট © কালের আলো সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন