বিদেশি পর্যটকে মুখর কুয়াকাটা, বাড়ছে আন্তর্জাতিক পর্যটনের সম্ভাবনা

ভ্রমণ ডেস্ক
প্রকাশের সময়: রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ । ৭:২৬ অপরাহ্ণ

সাগরের নীল জলরাশি, দিগন্তজোড়া আকাশ, সূর্যোদয়-সূর্যাস্ত ও সবুজে ঘেরা উপকূলীয় প্রকৃতির টানে পটুয়াখালীর কুয়াকাটায় বাড়ছে বিদেশি পর্যটকদের আনাগোনা। শুধু সমুদ্রসৈকত নয়, স্থানীয় সংস্কৃতি, বন, নদী, চরাঞ্চল ও মানুষের জীবনযাত্রা দেখতে কুয়াকাটার বিভিন্ন প্রত্যন্ত এলাকাতেও ঘুরছেন বিদেশিরা।

শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) ও শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) কুয়াকাটা সৈকত, মিনি সুইজারল্যান্ড, রাখাইন পল্লী ও লেম্বুর বন এলাকায় বিভিন্ন দেশের পর্যটকদের ঘুরতে দেখা যায়। কেউ সমুদ্রের ঢেউ উপভোগ করছেন, কেউ নৌপথে ঘুরছেন। আবার কেউ ম্যানগ্রোভ বন, চরাঞ্চল ও উপকূলীয় মানুষের জীবনযাত্রা কাছ থেকে দেখছেন।

স্থানীয় পর্যটনসংশ্লিষ্টদের তথ্যমতে, রাশিয়া, সুইজারল্যান্ড, নাইজেরিয়া, ভারত, নেপাল ও আর্জেন্টিনাসহ বিভিন্ন দেশের পর্যটক কুয়াকাটায় আসছেন। তাদের অনেকেই কুয়াকাটার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও স্থানীয় মানুষের আতিথেয়তায় মুগ্ধ হয়ে আবারও এখানে আসছেন বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

কুয়াকাটা ট্যুর গাইড ও বাইক রাইডার আবু সালেহ বলেন, প্রায় পাঁচ বছর ধরে তিনি বিদেশি পর্যটকদের বিভিন্ন পর্যটন স্পটে নিয়ে যাচ্ছেন। বিদেশি পর্যটকদের মধ্যে মিনি সুইজারল্যান্ড ও লেম্বুর বন ঘুরে দেখার আগ্রহ বেশি। অনেক পর্যটক কয়েক মাস পরপর আবারও কুয়াকাটায় আসেন বলেও জানান তিনি।

মিনি সুইজারল্যান্ড এলাকার ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী তারিকুল ইসলাম বলেন, বিদেশি পর্যটকরা ওই এলাকার প্রাকৃতিক পরিবেশে বেশ মুগ্ধ হন। অনেকে দীর্ঘ সময় অবস্থান করে খাল ও আশপাশের সৌন্দর্য উপভোগ করেন এবং স্থানীয়দের কাছ থেকে বিভিন্ন খাবারও কেনেন।

হোটেল খান প্যালেসের অপারেশন ম্যানেজার মো. মনিরুজ্জামান সাকুর জানান, তাদের হোটেলে দেশি অতিথিদের পাশাপাশি নিয়মিত বিদেশি পর্যটকরাও থাকেন। বিশেষ করে ১৮ ও ১৯ সেপ্টেম্বর রাশিয়ান পর্যটকদের উপস্থিতি ছিল। হোটেলের সুইমিং পুল ও খাবার বিদেশি অতিথিদের কাছে জনপ্রিয় বলেও জানান তিনি।

কুয়াকাটা ট্যুর গাইড অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি কেএম বাচ্চু বলেন, কুয়াকাটার আকর্ষণ শুধু সমুদ্রসৈকতে সীমাবদ্ধ নয়। সাগর, নদী, বন, চর, জেলে পল্লী, রাখাইন সংস্কৃতি ও গ্রামীণ জীবনযাত্রার বৈচিত্র্য বিদেশি পর্যটকদের আকৃষ্ট করছে। সুযোগ-সুবিধা আরও বাড়ানো গেলে আন্তর্জাতিক পর্যটকের সংখ্যা বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

এদিকে বিদেশি পর্যটকদের নিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখছে টুরিস্ট পুলিশ। কুয়াকাটা জোনের ইনচার্জ মো. নাজমুল হাসান বলেন, বিদেশি পর্যটকরা যে হোটেলে অবস্থান করেন, সেখান থেকে ই-মেইলের মাধ্যমে পুলিশকে জানানো হয়। এরপর তাদের নিরাপত্তা ও প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেওয়া হয়। বিভিন্ন দর্শনীয় স্থান ঘুরে দেখার ক্ষেত্রে প্রশিক্ষিত ও শিক্ষিত গাইড নেওয়ার পরামর্শও দেওয়া হয়।

পর্যটনসংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিদেশি পর্যটকদের আগমনকে কাজে লাগিয়ে আন্তর্জাতিক মানের যোগাযোগব্যবস্থা, তথ্যসেবা, নিরাপত্তা, আবাসন ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা গেলে কুয়াকাটা দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক পর্যটন গন্তব্য হয়ে উঠতে পারে।

কালের আলো/এসএ

প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক: মো: শামসুল আলম খান | ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: এম. আব্দুল্লাহ আল মামুন খান | কপিরাইট © কালের আলো সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন