অভাবের সংসার পেরিয়ে তিন বিসিএসে ক্যাডার নজরুল

কিশোরগঞ্জ সংবাদদাতা
প্রকাশের সময়: সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ । ৪:০৭ অপরাহ্ণ

কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলার নিয়ামতপুর গ্রামের ভয়রাপাড়ার নজরুল ইসলাম (২৭)। অভাবের সংসারে কুপি ও হারিকেনের আলোয় রাত জেগে পড়েছেন। কখনো বাবার কৃষিকাজে সহযোগিতা করেছেন, আবার কখনো রাতে ওষুধের দোকানে কাজ করেছেন। সেই নজরুলই এখন বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত।

নজরুল ইসলাম ৪৫তম ও ৪৯তম বিসিএসে শিক্ষা ক্যাডার এবং ৪৬তম বিসিএসে প্রশাসন ক্যাডারে সুপারিশ পেয়েছেন। ৪৯তম বিসিএসের মৌখিক পরীক্ষা আগে হওয়ায় প্রথমে সেখানে শিক্ষা ক্যাডারে সুপারিশ পান তিনি। পরে ৪৬তম বিসিএসে নিজের পছন্দের প্রশাসন ক্যাডারে সুপারিশ পেয়ে এখন চাকরিতে যোগ দেওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন।

কুপি-হারিকেনের আলোয় পড়াশোনা

নজরুলের বাবা জালাল উদ্দিন কৃষক। কৃষিকাজের পাশাপাশি ঝালমুড়ি বিক্রি করেও সংসার চালিয়েছেন তিনি। চার ছেলে ও এক মেয়ের মধ্যে নজরুল দ্বিতীয়। সীমিত আয়ের সংসারে সন্তানদের পড়াশোনা চালিয়ে নেওয়া ছিল কঠিন।

আলিম পড়ার সময়ও তাঁদের বাড়িতে বিদ্যুৎ ছিল না। কুপি ও হারিকেনের আলোয় রাত জেগে পড়াশোনা করেছেন নজরুল। বাবার কৃষিকাজেও সহযোগিতা করতেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির আগে কিছুদিন রাতে স্থানীয় একটি ওষুধের দোকানে কাজ করেন। পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় নিজের খরচ চালাতে প্রাইভেট পড়িয়েছেন।

মেধার স্বাক্ষর

নিয়ামতপুর সিনিয়র আলিম মাদ্রাসা থেকে দাখিল ও আলিম পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পান নজরুল। ২০১৬ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘খ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় মেধাতালিকায় ৩২০তম এবং জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় ২০২তম স্থান অর্জন করেন। পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে ভর্তি হয়ে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন।

মা-বাবার কষ্ট দূর করতে একদিন বিসিএস ক্যাডার হওয়ার প্রতিজ্ঞা করেছিলেন নজরুল। নিজের সাফল্যের জন্য মা-বাবা ও শিক্ষকদের দোয়া এবং আল্লাহর রহমতের কথা উল্লেখ করেছেন তিনি।

নজরুল বলেন, মা-বাবা ও শিক্ষকদের দোয়ায় এবং আল্লাহর রহমতে তিনি কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে পেরেছেন। সততা ও কর্মনিষ্ঠা বজায় রেখে দেশের সেবা করতে এবং সুনামের সঙ্গে চাকরিজীবন কাটাতে সবার কাছে দোয়া চেয়েছেন তিনি।

ছেলের সাফল্যে আবেগাপ্লুত বাবা জালাল উদ্দিন। তিনি বলেন, ছেলের মনের আকাঙ্ক্ষা ও স্বপ্ন পূরণ হওয়ায় তাঁর জীবনের সব কষ্ট দূর হয়ে গেছে।

প্রায় এক দশক আগে, ২০১৬ সালের ২ অক্টোবর নজরুলকে নিয়ে প্রথম আলোয় ‘দুই বিশ্ববিদ্যালয়ে মেধাতালিকায়, তবু পড়া নিয়ে শঙ্কা!’ শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছিল। তখন অর্থের অভাবে তাঁর উচ্চশিক্ষা চালিয়ে যাওয়া নিয়ে শঙ্কা ছিল। সেই শঙ্কা পেরিয়ে এবার নিজের কাঙ্ক্ষিত প্রশাসন ক্যাডারে সুপারিশ পেয়েছেন তিনি।

কালের আলো/এমএসআইপি 

প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক: মো: শামসুল আলম খান | ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: এম. আব্দুল্লাহ আল মামুন খান | কপিরাইট © কালের আলো সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন