সংসারের প্রয়োজন মেটাতে বয়সের ভারও থামাতে পারেনি স্বপন সরদারকে। জীবনের প্রায় ৩৫ বছর ধরে মানুষের ছেঁড়া জুতা সেলাই করে জীবিকা চালিয়ে আসছেন তিনি। বয়স বেড়ে যাওয়ায় শরীর আর আগের মতো সায় দেয় না। তবুও সংসারের হাল ধরতে প্রতিদিন পুরোনো জায়গায় বসে জুতা সেলাইয়ের কাজ করেন তিনি।
বাসস্ট্যান্ড এলাকায় ছোট্ট পরিসরে বসে কাজ করেন স্বপন। সামনে থাকে জুতা সেলাইয়ের সরঞ্জাম, হাতে সুই-সুতা। কেউ ছেঁড়া জুতা নিয়ে এলে যত্ন করে তা মেরামত করেন। বিনিময়ে কখনো কয়েক দশক, কখনো বা কয়েকশ টাকা আয় হয়। এই সামান্য আয় দিয়েই চলে তার সংসার।
স্বপনের পরিবার জানায়, বয়সের কারণে এখন তার পক্ষে ভারী কোনো কাজ করা সম্ভব নয়। অথচ সংসারের প্রয়োজন মেটাতে তাকে কাজ করতেই হচ্ছে। পরিবারের একজন সন্তান বেকার থাকায় আর্থিক চাপ আরও বেড়েছে।
দোকানদার সজিব সাহা বলেন, বাসস্ট্যান্ডে এ ধরনের ছোট কাজ করে যারা জীবিকা নির্বাহ করেন, তাদের আয় খুবই কম। স্বপনের মতো একজন বয়স্ক মানুষ এত বছর ধরে কাজ করে যাচ্ছেন—বিষয়টি সত্যিই কষ্টের।
পরিবারের সদস্যদের দাবি, স্বপনকে সরকারি সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি কিংবা অন্য কোনো সহায়তার আওতায় আনা গেলে তাদের কষ্ট কিছুটা কমতে পারে।
প্রতিদিনের মতো আজও হয়তো স্বপন বসবেন তার পুরোনো জায়গায়। সামনে থাকবে জুতা সেলাইয়ের সরঞ্জাম, হাতে থাকবে সুই-সুতা। কারও ছেঁড়া জুতা জোড়া লাগাতে লাগাতে হয়তো আবারও আয় হবে সামান্য কিছু টাকা।
এভাবেই ৩৫ বছর ধরে মানুষের পায়ের জুতা ঠিক করতে করতে নিজের সংসারের ভাঙাচোরা অবস্থাও সামলানোর চেষ্টা করছেন স্বপন সরদার। বয়সের ভার, কমে যাওয়া আয় আর বেকার সন্তানের চাপ—সব মিলিয়ে তার প্রতিটি দিনই যেন নতুন এক সংগ্রামের গল্প।
কালের আলো/এমএসআইপি

বাগেরহাট সংবাদদাতা
প্রকাশের সময়: সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ । ৫:৩৭ অপরাহ্ণ