ফিড-বাচ্চা-ওষুধের বাড়তি দামে সংকটে পোলট্রি শিল্প

মতলব (চাঁদপুর) সংবাদদাতা
প্রকাশের সময়: মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ । ১০:৩৭ পূর্বাহ্ণ

মুরগির খাদ্য, ওষুধ ও বাচ্চার দাম বাড়ায় চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার পোলট্রি খামারিরা চরম সংকটে পড়েছেন। উৎপাদন খরচ বাড়লেও সে তুলনায় ডিমের ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় লোকসান গুনছেন তারা। ইতোমধ্যে লোকসানের কারণে কয়েকটি খামার বন্ধ হয়ে গেছে। এমন পরিস্থিতিতে পোলট্রি শিল্প টিকিয়ে রাখতে লেয়ার বাচ্চা, ফিড ও ওষুধের দাম নিয়ন্ত্রণে সরকারের হস্তক্ষেপ চেয়েছেন খামারিরা।

খামারিদের অভিযোগ, মুরগির খাবার, ওষুধ, বিদ্যুৎ ও পরিবহন ব্যয় বেড়েছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য। ফলে বাজারে ডিমের দাম বাড়লেও সেই অনুপাতে খামারিদের আয় বাড়ছে না। উৎপাদন খরচ মেটাতে গিয়ে অনেকে ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়েছেন।

উপজেলার ইসলামাবাদ এলাকার খামারি জাহিদ হোসেন বলেন, কোম্পানিভেদে পরিবহনসহ ৫০ কেজির এক বস্তা মুরগির খাবারের দাম ২ হাজার ৫০০ থেকে ২ হাজার ৯০০ টাকা। এর সঙ্গে বেড়েছে ওষুধ ও বাচ্চার দাম। উৎপাদিত ডিম বিক্রি করে অনেক সময় খাবারের খরচও ওঠে না। ফলে কেউ কেউ খামার বন্ধ করে দিয়েছেন।

লুধুয়া এলাকার খামারি মইন উদ্দিন বলেন, গত ছয় মাসে প্রতি বস্তা খাদ্যের দাম প্রায় ৪৯৫ টাকা বেড়েছে। প্রতিদিন প্রায় ৫ হাজার টাকা খরচ হলেও সেই টাকা তুলতে পারছেন না তারা। প্রয়োজনীয় ভ্যাকসিন প্রাণিসম্পদ দপ্তর থেকে সব সময় পাওয়া যায় না বলেও অভিযোগ করেন তিনি। কোম্পানি থেকে কিনতে গেলে বেশি দাম দিতে হয়।

আরেক খামারি মতিন বলেন, একটি লেয়ার মুরগিকে ডিম দেওয়ার উপযোগী করতে খাবার, ওষুধ ও পরিচর্যাসহ অন্তত ৭০০ টাকা খরচ হয়। ডিম দেওয়া শুরু করার পরও প্রতিদিন একটি মুরগির পেছনে প্রায় ৮ টাকা খাদ্য ব্যয় হয়। অথচ প্রতিটি মুরগি প্রতিদিন ডিম দেয় না। এর মধ্যে রোগে মুরগি মারা গেলে খামারিদের বড় ধরনের লোকসান গুনতে হয়।

মতলব উত্তর পোলট্রি অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি রাসেল দেওয়ান বলেন, মুরগির বাচ্চা ও খাদ্য প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণের কারণে প্রান্তিক খামারিরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। নিম্নমানের খাদ্য ও বাচ্চা সরবরাহের অভিযোগও রয়েছে। সরকারি নজরদারি বাড়ানো না হলে উপজেলার পোলট্রি শিল্প আরও সংকটে পড়বে।

মতলব উত্তর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. শ্যামল চন্দ্র দাস বলেন, বাচ্চা, খাদ্য ও কাঁচামালের ক্রমাগত মূল্যবৃদ্ধিই বর্তমানে প্রান্তিক খামারিদের লোকসানের অন্যতম কারণ। এসব পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণ করা গেলে খামারিরা লাভবান হতে পারবেন। সরকারি ব্যবস্থাপনায় যে ভ্যাকসিন আসে, তা সরকারি মূল্যে খামারিদের কাছে বিক্রি করা হয় বলেও জানান তিনি।

খামারিরা বলছেন, দ্রুত খাদ্য, ওষুধ ও বাচ্চার দাম নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া না হলে মতলব উত্তরের শত শত পোলট্রি খামার বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঝুঁকিতে পড়বে।

কালের আলো/এমএসআইপি 

প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক: মো: শামসুল আলম খান | ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: এম. আব্দুল্লাহ আল মামুন খান | কপিরাইট © কালের আলো সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন