ছয় বছরেও শেষ হয়নি সেতুর কাজ, দুর্ভোগে মির্জাপুরের মানুষ

মির্জাপুর (টাঙ্গাইল) সংবাদদাতা
প্রকাশের সময়: বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ । ১১:০৩ পূর্বাহ্ণ

টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে কামারপাড়া নদীর ওপর নির্মিত সেতু থাকলেও সংযোগ সড়ক না থাকায় দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয়রা। প্রায় দুই বছর আগে সেতুর মূল কাঠামোর নির্মাণ শেষ হলেও এখনও পুরোপুরি চালু হয়নি। ফলে বাঁশের সাঁকো বেয়ে সেতুতে উঠে ঝুঁকি নিয়ে নদী পারাপার করতে হচ্ছে এলাকাবাসীকে। অনেকে বাধ্য হয়ে পাশের খেয়া নৌকায় নদী পার হচ্ছেন।

জানা গেছে, ২০২০-২১ অর্থবছরে উপজেলার ভাওড়া ইউনিয়নের কামারপাড়া নদীর ওপর ৯০ মিটার দীর্ঘ সেতুটির নির্মাণকাজ শুরু করে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)। এতে ব্যয় ধরা হয় ১০ কোটি ৬০ লাখ টাকা। ২০২৪ সালের মধ্যে সেতুর মূল কাঠামোর নির্মাণ শেষ হলেও এখনও রেলিংয়ের কিছু কাজ বাকি রয়েছে।

ভূমি জটিলতায় আটকে সংযোগ সড়ক

সেতুর দুই পাশে সংযোগ সড়ক নির্মাণের জন্য ২০২৫ সালের জুনে কাজ শুরু হয়। এ কাজে ব্যয় ধরা হয়েছে তিন কোটি ৫০ লাখ টাকা। তবে ১৫ মাসেও কাজ অর্ধেক শেষ হয়নি। ভূমি-সংক্রান্ত জটিলতার কারণে দীর্ঘ সময় কাজ বন্ধ ছিল বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

সেতুর উত্তর পাশে কিছু মাটি ফেলে সংযোগ সড়কের কাজ চলছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, এক দিন কাজ হলে পরবর্তী কয়েক দিন কাজ বন্ধ থাকে। দক্ষিণ পাশের কাঁচা রাস্তা থেকে সেতু পর্যন্ত প্রায় ৫০ ফুট আঁকাবাঁকা ও ঢালু পথের ওপর বাঁশের সাঁকো তৈরি করা হয়েছে। সেটি দিয়েই স্থানীয়রা ঝুঁকি নিয়ে সেতুতে উঠছেন।

দীর্ঘদিনের অপেক্ষা

কামারপাড়া গ্রামের আবজাল হোসেন বলেন, মির্জাপুর-ধানতারা ভায়া কামারপাড়া আঞ্চলিক সড়কটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সেতুটি চালু হলে মির্জাপুরের সঙ্গে ধামরাই ও মানিকগঞ্জের যোগাযোগ সহজ হবে। পাশাপাশি ঢাকায় যাতায়াতের জন্য এটি একটি বিকল্প পথ হিসেবে ব্যবহার করা যাবে।

স্থানীয় মজিবর রহমান বলেন, তাঁর বয়স প্রায় ৭০ বছর। সেতুর কাজ যেভাবে এগোচ্ছে, জীবদ্দশায় সেতু দিয়ে হেঁটে বাজারে যেতে পারবেন কি না, তা নিয়েই তিনি শঙ্কিত।

দ্রুত কাজ শেষের আশ্বাস

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ইউনুস অ্যান্ড ব্রাদার্সের অংশীদার মো. ইসলাম বলেন, সংযোগ সড়কের কাজ কিছুটা জটিল। জায়গা নিয়ে সমস্যাও ছিল। পরে সেই সমস্যা সমাধান হয়েছে। দীর্ঘদিন বৃষ্টির কারণে কাজ ব্যাহত হয়েছে। আগামী জুন পর্যন্ত কাজ শেষ করার সময় রয়েছে এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই কাজ শেষ করা সম্ভব হবে বলে তিনি দাবি করেন।

ভাওড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাসুদুর রহমান বলেন, সেতুর নির্মাণে অনেক সময় লেগেছে। এরপর সংযোগ সড়ক নির্মাণে ভূমি-সংক্রান্ত জটিলতায় দীর্ঘদিন কাজ বন্ধ ছিল। বিষয়টি মামলা পর্যন্ত গড়ায়। পরে স্থানীয়দের ও ঠিকাদারের সঙ্গে একাধিক বৈঠক করে সমস্যার সমাধান করা হয়েছে। এখন কাজ চলছে, তবে কাজের গতি আরও বাড়ানো প্রয়োজন।

উপজেলা প্রকৌশলী জালাল উদ্দিন বলেন, তিনি মির্জাপুরে নতুন যোগ দিয়েছেন। যোগদানের পর গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলোর বিষয়ে নজর দিয়েছেন। কামারপাড়া সেতু ও সংযোগ সড়কের কাজ দ্রুত শেষ করতে সংশ্লিষ্টদের চিঠি দেওয়া হয়েছে। সব জটিলতা নিরসন হয়েছে। দ্রুত কাজটি শেষ হবে বলে আশা করছেন তিনি।

কালের আলো/এমএসআইপি 

প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক: মো: শামসুল আলম খান | ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: এম. আব্দুল্লাহ আল মামুন খান | কপিরাইট © কালের আলো সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন