দুধকুমারের ভাঙনে বিলীন বাড়িঘর-ফসলি জমি, হুমকিতে আরও ৫০ পরিবার

কুড়িগ্রাম সংবাদদাতা
প্রকাশের সময়: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ । ১:১৩ অপরাহ্ণ

কুড়িগ্রামে দুধকুমার নদের তীব্র ভাঙনে বিস্তীর্ণ এলাকা বিলীন হয়ে যাচ্ছে। ভাঙনের কবলে পড়েছে বাড়িঘর, বসতভিটা, গাছপালা ও ফসলি জমি। বারবার নদীভাঙনে সর্বস্বান্ত হয়ে পড়ছেন নদীতীরবর্তী এলাকার মানুষ।

জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, কুড়িগ্রামের ছোট-বড় ১৬টি নদ-নদীর ৭০টি অরক্ষিত পয়েন্টে ভাঙন চলছে। এর মধ্যে সদর উপজেলার যাত্রাপুর ইউনিয়নের বাণিয়াপাড়া গ্রামে গত এক বছরে নদীভাঙনে তিন শতাধিক বাড়িঘর ও ফসলি জমি বিলীন হয়েছে। গত ১৫ দিনেই নদীগর্ভে চলে গেছে আরও সাতটি বাড়ি। বর্তমানে নদীতীরের প্রায় ৫০টি বাড়ি ভাঙন আতঙ্কে রয়েছে।

বারবার সরাতে হচ্ছে ঘর

ভুক্তভোগীরা জানান, সময়-অসময়ে নদীর পাড় ধসে বাড়িঘর ও বসতভিটা ভেঙে পড়ছে। স্থানীয়দের সহযোগিতা নিয়ে বারবার বাড়িঘর অন্যত্র সরিয়ে নিতে হচ্ছে। ভাঙন অব্যাহত থাকলে আরও প্রায় শতাধিক বাড়িঘর বিলীন হওয়ার আশঙ্কা করছেন তারা।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহ আলম বলেন, কয়েকবার তার বাড়িঘর নদীতে ভেঙে গেছে। পরিবার নিয়ে এখনো স্থায়ী মাথা গোঁজার ঠাঁই পাননি। দেনা করে বাড়িঘর অন্যত্র সরিয়ে বর্তমানে প্রতিবেশীর জায়গায় ঘর করে বসবাস করছেন।

জিও ব্যাগেও থামছে না ভাঙন

ভাঙন ঠেকাতে জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের পক্ষ থেকে জিও ব্যাগ ফেলা হলেও তা কাজে আসছে না বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। তাদের দাবি, দ্রুত স্থায়ী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নেওয়া না হলে আরও অনেক পরিবার বসতভিটা হারাবে।

যাত্রাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আব্দুল গফুর বলেন, ভাঙনকবলিত এলাকার মানুষ বারবার বাড়িঘর হারিয়ে নিঃস্ব হচ্ছেন। নতুন জায়গা কেনা, বাড়িঘর নির্মাণ, নলকূপ ও ল্যাট্রিন স্থাপনে তাদের অতিরিক্ত ব্যয় হচ্ছে। কিন্তু হতদরিদ্র পরিবারগুলো সরকারি বা বেসরকারিভাবে তেমন কোনো আর্থিক সহায়তা পাচ্ছে না।

কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান বলেন, ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করা হয়েছে। সেখানে জরুরি প্রতিরক্ষামূলক কাজ চলমান রয়েছে। স্থায়ী প্রতিরক্ষার জন্য ডিপিপি প্রণয়নের প্রক্রিয়া চলছে। স্বল্প সময়ের মধ্যে সংস্কারকৃত ডিপিপির কাজ বাস্তবায়ন হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

কালের আলো/এমএসআইপি 

প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক: মো: শামসুল আলম খান | ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: এম. আব্দুল্লাহ আল মামুন খান | কপিরাইট © কালের আলো সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন