বিশ্বের সেরা শহরের তালিকায় নিউইয়র্ক শীর্ষে

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশের সময়: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ । ৫:৩২ অপরাহ্ণ

আলো, গতি, অর্থনীতি ও সম্ভাবনার শহরগুলোর প্রতিযোগিতায় আবারও শীর্ষস্থান দখল করেছে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক। বিশ্বের এক হাজার শহরকে পেছনে ফেলে সেরা শহরের তালিকায় প্রথম হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের এই মহানগর। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে যুক্তরাজ্যের লন্ডন এবং তৃতীয় ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিস।

অক্সফোর্ড ইকোনমিকসের ২০২৬ সালের ‘গ্লোবাল সিটিজ ইনডেক্সে’ বিশ্বের শহরগুলোর অবস্থানের এই চিত্র উঠে এসেছে। বুধবার (২৪ সেপ্টেম্বর) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে বিবিসি নিউজ।

শহরগুলোর অবস্থান নির্ধারণে পাঁচটি প্রধান বিষয় বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। এগুলো হলো—শাসনব্যবস্থা, অর্থনীতি, মানবসম্পদ, পরিবেশ এবং জীবনযাত্রার মান। এসব সূচকের বিভিন্ন দিক বিশ্লেষণ করে বিশ্বের এক হাজার শহরের অবস্থান নির্ধারণ করা হয়েছে।

সূচকের শীর্ষ ১০ শহরের তালিকায় নিউইয়র্ক, লন্ডন ও প্যারিসের পর রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সিয়াটল ও সান ফ্রান্সিসকো। ষষ্ঠ অবস্থানে রয়েছে আয়ারল্যান্ডের রাজধানী ডাবলিন। এরপর যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টন সপ্তম, সান হোসে অষ্টম, জাপানের টোকিও নবম এবং সুইজারল্যান্ডের জুরিখ দশম অবস্থানে রয়েছে।

দক্ষ মানবসম্পদে লন্ডন এগিয়ে

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্বের শীর্ষ শহরগুলোর অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো বিভিন্ন দেশ থেকে দক্ষ ও শিক্ষিত মানুষকে আকৃষ্ট করার সক্ষমতা। এর ফলে এসব শহরের অর্থনীতি ও সংস্কৃতিতে বৈচিত্র্য তৈরি হওয়ার পাশাপাশি জীবনযাত্রাতেও বিভিন্ন দেশের প্রভাব দেখা যায়।

মানবসম্পদের দিক থেকে সূচকে সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছে লন্ডন। শহরটির প্রায় ৪০ শতাংশ বাসিন্দা বিদেশে জন্মগ্রহণকারী। বিভিন্ন দেশ থেকে আসা দক্ষ ও শিক্ষিত মানুষের উপস্থিতি লন্ডনের অর্থনীতি ও সংস্কৃতিকে বৈচিত্র্যময় করেছে।

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টন বিশ্বের খ্যাতনামা বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের উপস্থিতির কারণে মানবসম্পদের দিক থেকে শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে। উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার সুযোগ শহরটির দক্ষ জনশক্তি তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

সংস্কৃতি ও জীবনযাত্রায় প্যারিস

সংস্কৃতি ও জীবনযাত্রার মানের ক্ষেত্রে প্যারিসের অবস্থানও উল্লেখযোগ্য। শহরটিতে প্রায় ১৩০টি জাদুঘর রয়েছে। ঐতিহাসিক স্থাপনা, শিল্পকলা, সংস্কৃতি ও বিনোদনের নানা সুযোগ প্যারিসকে বৈশ্বিক শহরগুলোর মধ্যে আলাদা অবস্থান দিয়েছে।

সিয়াটলও শিল্প ও সংস্কৃতির পাশাপাশি জীবনযাত্রার মানের জন্য ভালো অবস্থানে রয়েছে। প্রযুক্তি ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি শহরটির পরিবেশ ও বসবাসের সুযোগও সূচকে বিবেচনায় এসেছে।

পরিবেশবান্ধব নগর ব্যবস্থাপনা

শীর্ষ শহরগুলো পরিবেশগত বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় নানা উদ্যোগ নিচ্ছে। লন্ডনের কনজেশন চার্জ এবং আল্ট্রা-লো এমিশন জোন শহরের যানজট ও বায়ুদূষণ কমাতে ভূমিকা রাখছে।

সান ফ্রান্সিসকোর উন্নত গণপরিবহন ব্যবস্থা ব্যক্তিগত গাড়ির ওপর মানুষের নির্ভরতা কমাতে সহায়তা করছে। ফলে পরিবেশগত সূচকেও শহরটি ভালো অবস্থান ধরে রেখেছে।

আয়ারল্যান্ডের রাজধানী ডাবলিনও পরিবেশ ও জলবায়ু নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা করছে। ২০৩০ সালের মধ্যে জলবায়ু-নিরপেক্ষ শহরে পরিণত হওয়ার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে শহরটি।

প্রযুক্তিতে এগিয়ে সান হোসে

শহরগুলোর অবস্থান নির্ধারণে প্রযুক্তিগত সক্ষমতাও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। যুক্তরাষ্ট্রের সান হোসে সিলিকন ভ্যালির বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর উপস্থিতির কারণে মাথাপিছু জিডিপির দিক থেকে সূচকে সর্বোচ্চ অবস্থানে রয়েছে।

সান ফ্রান্সিসকোতেও প্রযুক্তির ব্যবহার নগরজীবনে দ্রুত বিস্তৃত হচ্ছে। শহরটিতে চালকবিহীন গাড়ির ব্যবহারও এখন নগর পরিবহনের একটি অংশ হয়ে উঠেছে।

প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহারেও কিছু শহর দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে। এস্তোনিয়ার রাজধানী তাল্লিনকে এ ক্ষেত্রে সম্ভাবনাময় শহর হিসেবে ‘সিটিজ টু ওয়াচ’ তালিকায় রাখা হয়েছে। প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহারে দ্রুত অগ্রসর হওয়ায় শহরটির প্রতি বিশেষ নজর দেওয়ার কথা জানিয়েছে সূচকটি।

অক্সফোর্ড ইকোনমিকসের এই সূচক দেখিয়েছে, একটি শহরকে বৈশ্বিকভাবে সফল হতে শুধু শক্তিশালী অর্থনীতি থাকলেই হয় না। দক্ষ মানবসম্পদ, কার্যকর শাসনব্যবস্থা, পরিবেশগত উদ্যোগ এবং মানুষের জীবনযাত্রার মানও শহরের সামগ্রিক অবস্থান নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

সূত্র: বিবিসি

কালের আলো/এসএ

প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক: মো: শামসুল আলম খান | ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: এম. আব্দুল্লাহ আল মামুন খান | কপিরাইট © কালের আলো সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন