সিইসি জ্ঞানেশ কুমার পদত্যাগ না করলে ২ অক্টোবর থেকে আন্দোলন, ঘোষণা সিজেপির

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশের সময়: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ । ৬:৫৬ অপরাহ্ণ

ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমার পদত্যাগ না করলে আগামী ২ অক্টোবর থেকে দেশজুড়ে আন্দোলনে নামার ঘোষণা দিয়েছে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। দলটির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিত দিপকে শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানান, গান্ধীজয়ন্তীর দিন মুম্বাই থেকে এই আন্দোলন শুরু হবে। পরে তা ভারতের বিভিন্ন শহরে ছড়িয়ে দেওয়া হবে।

এর আগে বৃহস্পতিবার নয়াদিল্লিতে সংবাদ সম্মেলন করে সিইসি জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ দাবি করে সিজেপি। তাঁকে ৪৮ ঘণ্টার সময়সীমা বেঁধে দিয়ে দলটি জানায়, এই সময়ের মধ্যে পদত্যাগ না করলে দেশব্যাপী আন্দোলন শুরু করা হবে। একই সঙ্গে দলটি ‘Election Commission Thik Karo’ নামে একটি প্রচারাভিযানও শুরু করেছে।

শুক্রবারের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টে অভিজিত দিপকে বলেন, শনিবারের মধ্যে জ্ঞানেশ কুমার পদত্যাগ না করলে ২ অক্টোবর মুম্বাই থেকে সিজেপির দেশব্যাপী আন্দোলন শুরু হবে। পরে তা ভারতের বিভিন্ন শহরে ছড়িয়ে দেওয়া হবে। গান্ধীজয়ন্তীতে ‘গণতন্ত্র রক্ষার শপথ’ নেওয়ার আহ্বানও জানান তিনি।

সিজেপির এই অবস্থানের পেছনে মূলত নির্বাচন কমিশনের ভোটার তালিকা সংশোধনের বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর (Special Intensive Revision) প্রক্রিয়া নিয়ে বিতর্ককে সামনে আনা হয়েছে। দলটির অভিযোগ, এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ভোটারদের অধিকার ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তবে এসব অভিযোগ সিজেপির বক্তব্য; এগুলো স্বাধীনভাবে প্রমাণিত তথ্য হিসেবে প্রতিষ্ঠিত নয়।

বৃহস্পতিবারের সংবাদ সম্মেলনে অভিজিত দিপকে সিইসি জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে তীব্র অভিযোগ তোলেন। তিনি তাঁকে দেশের ‘সবচেয়ে বড় দেশদ্রোহী’ এবং গণতন্ত্রের জন্য ‘সবচেয়ে বড় হুমকি’ বলে মন্তব্য করেন। এ ধরনের বক্তব্য তাঁর রাজনৈতিক অভিযোগ ও অবস্থানের অংশ।

সিজেপির এই কর্মসূচির সঙ্গে নির্বাচন কমিশনের অভ্যন্তরীণ মতপার্থক্য নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনও আলোচনায় এসেছে। দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-এর এক প্রতিবেদনে ভোটার তালিকার সংশোধন নিয়ে নির্বাচন কমিশনের ভেতরে প্রশ্ন ও আপত্তির কথা তুলে ধরা হয়। ওই প্রতিবেদনকে ভিত্তি করেই সিজেপি তাদের অভিযোগ ও আন্দোলনের কর্মসূচি সামনে এনেছে।

অভিজিত দিপকে একই সঙ্গে বিরোধী দলগুলোর ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁর বক্তব্য, বিরোধী দলগুলো যদি নির্বাচন প্রক্রিয়ায় কারচুপি বা ভোট চুরির অভিযোগ করে, তাহলে একই ব্যবস্থার নির্বাচনে অংশ নেওয়ার বিষয়টি নিয়ে তাদের অবস্থান স্পষ্ট করা প্রয়োজন। এমনকি নির্বাচন বর্জনের কথাও তিনি পরোক্ষভাবে বলেছেন।

এদিকে নির্বাচন কমিশনকে ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্কের মধ্যে ক্ষমতাসীন বিজেপি কমিশনের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। তবে বিজেপির শরিক দল লোক জনশক্তি পার্টির নেতা ও কেন্দ্রীয় মন্ত্রী চিরাগ পাসোয়ান নির্বাচন কমিশনের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে মানুষের মধ্যে যেন সংশয় তৈরি না হয়, সে বিষয়টি নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন।

চিরাগ পাসোয়ানের বক্তব্য অনুযায়ী, নির্বাচন কমিশন একটি স্বাধীন সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান। তাই কমিশনের কাজকর্ম নিয়ে মানুষের মনে সন্দেহ তৈরি হলে সেটি দূর করার দায়িত্ব কমিশনেরই। তিনি সিইসি জ্ঞানেশ কুমারের কাছে জনসমক্ষে কমিশনের অবস্থান স্পষ্ট করার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছেন।

চিরাগ অবশ্য সিইসির পদত্যাগ দাবি করেননি। বরং তিনি বলেন, বিরোধী দলগুলোর অভিযোগ রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের অংশ; কিন্তু নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব হলো জনগণের কাছে নিজেদের নিরপেক্ষতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা স্পষ্ট করা।

এদিকে সিজেপির ঘোষণায় বলা হয়েছে, ২৬ সেপ্টেম্বরের মধ্যে জ্ঞানেশ কুমার পদত্যাগ না করলে ২ অক্টোবর মুম্বাই থেকে আন্দোলন শুরু হবে। এরপর কর্মসূচি ভারতের বিভিন্ন শহরে ছড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে দলটির। ফলে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা ও ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে চলমান বিতর্কের মধ্যেই নতুন করে রাজনৈতিক কর্মসূচির ঘোষণা সামনে এলো।

কালের আলো/এসএ

প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক: মো: শামসুল আলম খান | ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: এম. আব্দুল্লাহ আল মামুন খান | কপিরাইট © কালের আলো সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন