ওপেনএআইয়ের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই এজেন্টের মাধ্যমে চ্যাটজিপিটির ব্যক্তিগত ব্যবহারকারীদের ৫৩টি ছবি অনুমতি ছাড়া বাইরের বিভিন্ন জায়গায় প্রকাশ হয়ে গেছে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। ২৫ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে রয়টার্স।
ঘটনাটি ঘটে চলতি বছরের জুলাইয়ে। ওই সময় ওপেনএআইয়ের এআই এজেন্টগুলো এআই প্রযুক্তি শেয়ার করার প্ল্যাটফর্ম হাগিং ফেসের একটি ব্যবস্থায় প্রবেশ করে। এতে প্রায় ৭০০ এআই এজেন্ট জড়িত ছিল বলে জানা গেছে।
ঘটনার পর বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শুরু করে ওপেনএআই। তদন্ত শেষে প্রতিষ্ঠানটি জানায়, ওই ঘটনায় চ্যাটজিপিটির ব্যবহারকারীদের ৫৩টি ছবি বাইরের বিভিন্ন জায়গায় প্রকাশিত হয়েছিল। তবে এসব ছবি কী ধরনের ছিল, সে বিষয়ে বিস্তারিত কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি তারা।
ফাঁস হওয়া ছবিগুলো এআই দিয়ে তৈরি ছিল, নাকি বাস্তব মানুষের এমন ছবি ছিল যেখান থেকে তাঁদের পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব—এ বিষয়েও পরিষ্কার কোনো তথ্য দেয়নি ওপেনএআই। ছবিগুলো কখন প্রকাশ করা হয়েছিল এবং ঠিক কীভাবে এআই এজেন্টগুলোর মাধ্যমে সেগুলো বাইরে চলে গেল, সেটিও এখনো স্পষ্ট নয়।
ওপেনএআই জানিয়েছে, ফাঁস হওয়া বেশির ভাগ ছবি ইতিমধ্যে সরিয়ে ফেলা হয়েছে। বাকি ছবিগুলোও সরিয়ে নিতে সংশ্লিষ্ট ওয়েবসাইটের মালিক ও ব্যক্তিদের অনুরোধ করা হচ্ছে।
ব্যক্তিগত তথ্য ব্যবহারে নতুন উদ্বেগ
রয়টার্সসহ বিভিন্ন সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, এআই মডেল প্রশিক্ষণের সময় ওপেনএআই ব্যক্তিগত ব্যবহারকারীদের এমন কিছু তথ্য ব্যবহার করে, যেগুলো থেকে সরাসরি তাঁদের পরিচয় শনাক্ত করা যায় না। কোনো ব্যবহারকারী আলাদাভাবে এই সুবিধা বন্ধ না করলে তাঁর কিছু তথ্য এআই মডেল প্রশিক্ষণের কাজে ব্যবহার করা হতে পারে।
তথ্য থেকে ব্যক্তির সরাসরি পরিচয় সরিয়ে নেওয়া হলেও এ ধরনের ব্যবস্থায় ঝুঁকি রয়েছে বলে প্রযুক্তি খাতের বিশেষজ্ঞরা দীর্ঘদিন ধরে সতর্ক করে আসছেন। তাঁদের মতে, আলাদা আলাদা তথ্য একসঙ্গে মিলিয়ে কোনো ব্যক্তির পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হতে পারে। আবার তথ্য থেকে পরিচয় মুছে ফেলার আগেই সেটি ফাঁস হয়ে যাওয়ার আশঙ্কাও থাকে।
সর্বশেষ ঘটনাটি এআই এজেন্টের কার্যক্রম কতটা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব, তা নিয়েও নতুন প্রশ্ন তৈরি করেছে। সাধারণ চ্যাটবটের তুলনায় এআই এজেন্ট অনেক বেশি কাজ করতে পারে। ব্যবহারকারীর নির্দেশ অনুযায়ী তারা বিভিন্ন অনলাইন ব্যবস্থা বা সফটওয়্যারে প্রবেশ করে নির্দিষ্ট কাজ সম্পন্ন করতে সক্ষম।
তবে এই অতিরিক্ত সক্ষমতার সঙ্গে নতুন ধরনের ঝুঁকিও তৈরি হচ্ছে। একটি এআই এজেন্ট কীভাবে কোনো নির্দেশ বাস্তবায়ন করবে কিংবা কোনো অনলাইন ব্যবস্থায় প্রবেশের পর কী ধরনের কাজ করবে, তা সব সময় আগে থেকে অনুমান করা কঠিন হতে পারে।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এবারের ঘটনাটি নিজেদের তৈরি এআই এজেন্টের আচরণ ও কার্যক্রম পুরোপুরি অনুমান বা নিয়ন্ত্রণ করা ওপেনএআইয়ের জন্যও চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে বলে দেখিয়েছে। এআই যত বেশি কাজ নিজে থেকে সম্পন্ন করতে পারছে, নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের জন্য তার কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ ও ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণ করাও তত জটিল হয়ে উঠছে।
তদন্ত নিয়ে গোপনীয়তার অভিযোগ
রয়টার্স জানিয়েছে, ওপেনএআইয়ের এআই এজেন্টদের কর্মকাণ্ড নিয়ে হওয়া তদন্ত সম্পর্কে জানেন এমন দুই ব্যক্তি বলেছেন, পুরো তদন্ত প্রক্রিয়ায় কোম্পানির আইনজীবীদের কঠোর নিয়ন্ত্রণ ও প্রভাব ছিল।
তাঁদের ভাষ্য অনুযায়ী, কোম্পানির পরিস্থিতি বিবেচনায় তদন্তটি অস্বাভাবিক মাত্রায় গোপন রাখা হয়েছিল। ফলে ৫৩টি ছবি কীভাবে বাইরে চলে গেল, কখন সেগুলো প্রকাশ হলো এবং এ ঘটনায় ঠিক কোন ধরনের নিরাপত্তা দুর্বলতা কাজ করেছে—এসব প্রশ্নের অনেকগুলোর উত্তর এখনো পরিষ্কার হয়নি।
ঘটনাটি শুধু ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তা নিয়েই নয়, এআই এজেন্টের কাজের সীমা, ব্যবহারকারীর তথ্য ব্যবহারের নিয়ম এবং এ ধরনের প্রযুক্তির ওপর নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রণ কতটা কার্যকর—এসব বিষয় নিয়েও নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে।
এআই এজেন্টকে আরও বেশি স্বয়ংক্রিয় ও সক্ষম করে তোলার সঙ্গে সঙ্গে ব্যবহারকারীর তথ্যের নিরাপত্তা এবং এজেন্টের কর্মকাণ্ডের ওপর কার্যকর নজরদারি নিশ্চিত করা প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠছে।
কালের আলো/এসএ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশের সময়: শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ । ২:০৫ অপরাহ্ণ