দেড় কোটি টাকা রাজস্ব, শালবাহান হাটে নেই স্যানিটেশন-বর্জ্য ব্যবস্থাপনা

তেঁতুলিয়া (পঞ্চগড়)সংবাদদাতা
প্রকাশের সময়: রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ । ১০:০০ পূর্বাহ্ণ

পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ার ঐতিহ্যবাহী শালবাহান হাটে কোটি টাকার বাণিজ্য ও বিপুল রাজস্ব আদায় হলেও সেখানে নেই ন্যূনতম নাগরিক সুবিধা। পর্যাপ্ত টয়লেট, বিশুদ্ধ পানি, বিশ্রামাগার ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনার অভাবে প্রতি হাটবারে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন ক্রেতা-বিক্রেতা ও পাইকাররা। দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনায় হাটের বিভিন্ন স্থান ময়লা-আবর্জনার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে।

উত্তরাঞ্চলের অন্যতম প্রাচীন ও বড় এ হাটটি প্রতি শনিবার ও বুধবার বসে। সকাল থেকেই গরু-ছাগল, ধান-পাটসহ বিভিন্ন কৃষিপণ্য নিয়ে এখানে জড়ো হন ব্যবসায়ী ও বিক্রেতারা। পঞ্চগড় ছাড়াও দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে হাজারো ক্রেতা-বিক্রেতা ও পাইকারের সমাগম হয়। প্রতি হাটবারে এখানে কোটি টাকার বেশি বাণিজ্য হয় বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, ট্যাক্স, ভ্যাট ও ইজারাসহ শালবাহান হাট থেকে প্রতিবছর উল্লেখযোগ্য পরিমাণ রাজস্ব আদায় হয়। সম্প্রতি হাটটি থেকে প্রায় দেড় কোটি টাকা রাজস্ব আয় হয়েছে। তবে বিপুল রাজস্ব আয়ের তুলনায় হাটের অবকাঠামো ও নাগরিক সুবিধার তেমন উন্নতি হয়নি।

হাটে মাত্র দুটি টয়লেট থাকলেও দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনায় সেগুলো প্রায় ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। ফলে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ছেন নারী ও দূরদূরান্ত থেকে আসা ক্রেতা-বিক্রেতারা। নেই পর্যাপ্ত বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা ও বিশ্রামের জায়গাও।

এ ছাড়া নির্দিষ্ট স্থানে বর্জ্য ফেলার ব্যবস্থা না থাকায় হাটের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে ময়লা-আবর্জনা। এতে দুর্গন্ধের পাশাপাশি বাড়ছে স্বাস্থ্যঝুঁকি।

হাটের ইজারাদার রফিকুল ইসলাম বলেন, ময়লা-আবর্জনার বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে একাধিকবার জানানো হয়েছে। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার জন্য দুটি গাড়ি চাওয়া হলেও তা পাওয়া যায়নি। স্ব-উদ্যোগে অনেকবার হাট পরিষ্কার করেছেন। দুটি ভ্যান পাওয়া গেলে পরিচ্ছন্নতার কাজ সহজ হতো।

স্থানীয় ব্যবসায়ী শরিফুল ইসলাম ও হামিদুর রহমান বলেন, শালবাহান হাট বর্তমানে নোংরা-আবর্জনার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। মানুষজনের চলাচলও কঠিন হয়ে পড়েছে। প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা না থাকায় দূরদূরান্তের অনেক পাইকার হাটে আসতে আগ্রহ হারাচ্ছেন।

শালবাহান বাজার সভাপতি ও ৪ নম্বর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আশরাফুল ইসলাম জানান, গত দুই অর্থবছরে হাট-বাজার উন্নয়নের জন্য প্রায় ৬০ থেকে ৭০ লাখ টাকা বরাদ্দ পড়ে আছে। কিন্তু কেন উন্নয়নকাজে এসব অর্থ ব্যয় করা হচ্ছে না, তা তিনি জানেন না। নতুন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে উন্নয়নের বরাদ্দ চেয়ে একাধিকবার চিঠি দেওয়া হয়েছে।

হাটের ইজারাদার ও ২ নম্বর তিরনইহাট ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলামও দ্রুত বর্জ্য অপসারণ ও পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।

হাটের অব্যবস্থাপনার বিষয়টি স্বীকার করে সমস্যা সমাধানে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। তেঁতুলিয়ার উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) এস এম আকাশ ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন।

স্থানীয়দের দাবি, প্রতিবছর বিপুল পরিমাণ রাজস্ব আদায় হলেও শালবাহান হাটে ন্যূনতম নাগরিক সুবিধা না থাকা দুঃখজনক। দ্রুত অবকাঠামো উন্নয়ন, নিরাপদ পানি, স্যানিটেশন ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা হলে ক্রেতা-বিক্রেতাদের দুর্ভোগ কমার পাশাপাশি হাটটির ব্যবসায়িক কার্যক্রমও আরও সম্প্রসারিত হবে।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি 

প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক: মো: শামসুল আলম খান | ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: এম. আব্দুল্লাহ আল মামুন খান | কপিরাইট © কালের আলো সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন