পাহাড়ি পথের দীর্ঘ যাত্রা শেষে হঠাৎ চোখের সামনে খুলে যায় মনোমুগ্ধকর এক দৃশ্য। পাহাড়ের গা বেয়ে নেমে আসা স্বচ্ছ জলধারা আর তার নিচে তৈরি হওয়া প্রাকৃতিক জলাধার ভ্রমণপ্রেমীদের মুগ্ধ করে। দুর্গম পথ পেরিয়ে থানকোয়াইন ঝরনায় পৌঁছালে এমনই নির্মল প্রকৃতির দেখা মেলে।
থানকোয়াইন ঝরনার পানি স্বচ্ছ ও শীতল। আবহাওয়া ও পানির স্রোত অনুকূলে থাকলে প্রাকৃতিক জলাধারে নেমে শরীর জুড়িয়ে নিতে পারেন ভ্রমণকারীরা। দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে আসার পর ঝরনার শীতল পানিতে কিছুটা সময় কাটানো হয়ে ওঠে পুরো অভিযাত্রার অন্যতম আকর্ষণ।
থানকোয়াইনের সৌন্দর্যের বড় বৈশিষ্ট্য এর নির্জন পরিবেশ। পর্যটনকেন্দ্রের মতো এখানে নেই অতিরিক্ত ভিড় কিংবা কোলাহল। পাহাড়, ঝিরি ও ঝরনাকে ঘিরে তৈরি হয়েছে শান্ত এক প্রাকৃতিক পরিবেশ। ঝরনার শব্দ শুনতে শুনতে কিছুক্ষণ বসে থাকা কিংবা চারপাশের সবুজ পাহাড়ের সৌন্দর্য উপভোগ করাও হতে পারে ভ্রমণের বিশেষ অভিজ্ঞতা।
তবে দুর্গম এই গন্তব্যে যাওয়ার আগে প্রয়োজন যথাযথ প্রস্তুতি। পাহাড়ি ও পিচ্ছিল পথে হাঁটার জন্য ভালো গ্রিপের জুতা সঙ্গে রাখা জরুরি। পাশাপাশি পর্যাপ্ত পানি, প্রয়োজনীয় ওষুধ, টর্চলাইট, পাওয়ার ব্যাংক ও ফার্স্ট এইড কিট রাখা ভালো। বর্ষাকালে পাহাড়ি ছড়া ও খালের পানির স্রোত বেড়ে যেতে পারে। তাই ঝরনা ও খালের কাছে অবস্থানের সময় বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।
প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগের পাশাপাশি পরিবেশ রক্ষার বিষয়টিও গুরুত্ব দিতে হবে। পাহাড়, ঝিরি কিংবা ঝরনার আশপাশে প্লাস্টিকের বোতল, প্যাকেট বা অন্য কোনো বর্জ্য ফেলা উচিত নয়। ভ্রমণের সময় তৈরি হওয়া বর্জ্য সঙ্গে করে ফিরিয়ে আনাই হতে পারে প্রকৃতির প্রতি দায়িত্বশীলতার পরিচয়।
থানকোয়াইনে যাওয়ার পথ সহজ না হলেও পাহাড়ি পথের রোমাঞ্চ, টোয়াইন খালের নৌভ্রমণ, সবুজের নিস্তব্ধতা এবং সবশেষে ঝরনার শীতল জল—সব মিলিয়ে ভ্রমণটি হয়ে উঠতে পারে ব্যতিক্রমী অভিজ্ঞতা। ভিড় এড়িয়ে পাহাড়ের আরও গভীরে গিয়ে প্রকৃতির সান্নিধ্য পেতে চান, এমন ভ্রমণপ্রেমীদের তালিকায় জায়গা করে নিতে পারে থানকোয়াইন ঝরনা।
কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি

আলীকদম (বান্দরবান)সংবাদদাতা
প্রকাশের সময়: মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ । ৯:২৬ পূর্বাহ্ণ