ঠাকুরগাঁওয়ে অর্গানিক চায়ে বদলাচ্ছে জীবন

ঠাকুরগাঁও সংবাদদাতা
প্রকাশের সময়: মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ । ৯:৫৪ পূর্বাহ্ণ

একসময় যে জমিগুলো পতিত পড়ে থাকত, সেসব জমিতেই এখন দুলছে চায়ের সবুজ পাতা। ভারতের সীমান্তঘেঁষা উত্তরের জেলা ঠাকুরগাঁওয়ে চা চাষ ঘিরে তৈরি হয়েছে নতুন অর্থনৈতিক সম্ভাবনা। বিশেষ করে রাসায়নিক সার ও কীটনাশক ছাড়াই অর্গানিক পদ্ধতিতে চা উৎপাদন স্থানীয় কৃষি ও অর্থনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

ঠাকুরগাঁও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মাজেদুল ইসলাম বলেন, সম্পূর্ণ জৈব পদ্ধতিতে উৎপাদিত চা জেলার চা-শিল্পে নতুন মান তৈরি করেছে। বালিয়াডাঙ্গীর ইকো সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশনের ২৫ একরের চা বাগানে শতভাগ অর্গানিক পদ্ধতিতে চা উৎপাদন হচ্ছে। পরিবেশবান্ধব এ বাগানে চা পাতার মানও ভালো।

সলিডারিডাড নেটওয়ার্ক এশিয়ার ফিল্ড অফিসার জুয়েল রানা জানান, বাগানটিতে নারী-পুরুষ মিলিয়ে প্রায় ৩০০ শ্রমিক নিয়মিত কাজ করছেন। কাজের সুযোগ পেয়ে স্থানীয় অনেক নারী শ্রমিকের জীবনযাত্রায় পরিবর্তন এসেছে।

বাগানের শ্রমিক নাজেরা বেগম, দিনোবালা ও ফাতেমা বেগম জানান, আগে কাজের সংকট থাকলেও বর্তমানে চা বাগানে কাজ করে তারা দৈনিক ১৮০ থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত আয় করছেন। এতে তারা নিজেদের সংসারে ভূমিকা রাখার পাশাপাশি স্বাবলম্বী হচ্ছেন।

চা বোর্ডের নিবন্ধিত তথ্য অনুযায়ী, ঠাকুরগাঁওয়ে বর্তমানে ৬৫৮ জন চাষি বাণিজ্যিকভাবে চা চাষের সঙ্গে যুক্ত। জেলার বালিয়াডাঙ্গী, রানীশংকৈল, পীরগঞ্জ ও হরিপুর উপজেলায় প্রায় ৫৯০ একর জমিতে চা চাষ হচ্ছে।

বালিয়াডাঙ্গীর ভান্ডারদহ গ্রামের শিক্ষক শহিদুল ইসলাম ১৬ শতক জমিতে চা চাষ করে প্রতি ৪০ দিন পরপর ২০০ কেজির বেশি চা পাতা সংগ্রহ করছেন। বছরের সাত মাসে এ জমি থেকে তার আয় হচ্ছে প্রায় ২৮ হাজার টাকা। একইভাবে মরিচপাড়া গ্রামের জগদীশ রায় ও পাটিয়াডাঙ্গী গ্রামের আহসান উল্লাহ মেহেদির মতো ক্ষুদ্র চাষিরাও চা চাষে লাভের মুখ দেখছেন।

চাষিদের ভাষ্য, আগে চা কারখানার মালিকরা ইচ্ছামতো দামে পাতা কিনলেও বর্তমানে তুলনামূলক ন্যায্যমূল্য পাওয়ায় চা চাষে আগ্রহ বাড়ছে।

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রফিকুল হক বলেন, ঠাকুরগাঁওয়ে চা চাষের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। অর্গানিক চাষ পদ্ধতি জেলার কৃষিকে আরও এগিয়ে নিতে পারে।

চা বোর্ড পঞ্চগড় আঞ্চলিক কার্যালয়ের ইনচার্জ কৃষিবিদ আমির হোসেন জানান, চা চাষের জন্য ঠাকুরগাঁওয়ের মাটি সিলেটের চেয়েও বেশি উপযোগী। এখানে দ্রুত বর্ধনশীল ভারতের বিটি-২, টিভি-২৩ ও টিভি-২৪ জাতের চা চাষ করা হয়। তবে সিলেটের মতো হাতে পাতা না তুলে কাস্তে দিয়ে পাতা সংগ্রহ করায় নতুন কুঁড়ি আসতে সময় লাগে। এতে কিছুটা উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে।

পতিত জমিতে চা চাষের বিস্তার, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং অর্গানিক উৎপাদনের মাধ্যমে ঠাকুরগাঁওয়ের সীমান্তবর্তী জনপদে কৃষির নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। চা পাতার সবুজে বদলে যাচ্ছে মানুষের জীবন-জীবিকা।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক: মো: শামসুল আলম খান | ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: এম. আব্দুল্লাহ আল মামুন খান | কপিরাইট © কালের আলো সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন