বেড়িবাঁধে ভয়াবহ ভাঙন, প্লাবনের শঙ্কায় ১০-১২ গ্রাম

সাতক্ষীরা সংবাদদাতা
প্রকাশের সময়: মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ । ১০:০২ পূর্বাহ্ণ

সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার প্রতাপনগর ইউনিয়নের শ্রীপুর-কুড়িকাহুনিয়া এলাকায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বেড়িবাঁধে ভয়াবহ ভাঙন দেখা দিয়েছে। সোমবার ভোর থেকে শুরু হওয়া ভাঙনে প্রায় ৫০ মিটার বাঁধ নদী-খালের দিকে ধসে পড়েছে। একই সঙ্গে ওয়াপদা সড়কের একটি অংশও ভেঙে যাওয়ায় ওই পথে চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে।

স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত ভাঙন রোধ করা না গেলে প্রতাপনগর ও পার্শ্ববর্তী আনুলিয়া ইউনিয়নের ১০ থেকে ১২টি গ্রাম প্লাবিত হতে পারে। এতে বসতবাড়ি, ফসলি জমি ও হাজার হাজার মৎস্যঘের পানিতে তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন তারা।

স্থানীয়দের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার ভোর ৩টার দিকে কুড়িকাহুনিয়া লঞ্চঘাটের দক্ষিণ পাশে বেড়িবাঁধে ভাঙনের সূত্রপাত হয়। সকাল ৭টার দিকে ভাঙন বড় আকার ধারণ করে। একপর্যায়ে বাঁধের প্রায় ৫০ মিটার অংশ ধসে নদী-খালের দিকে চলে যায়। বাঁধের আরও কিছু অংশও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে।

ভাঙনের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয় বাসিন্দারা ঘটনাস্থলে জড়ো হয়ে স্বেচ্ছাশ্রমে বালি ও মাটি ফেলে ভাঙন ঠেকানোর চেষ্টা শুরু করেন। বাঁধের দুর্বল অংশে বস্তা ফেলা ও মাটি দিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলার কাজ চলছে।

স্থানীয় বাসিন্দা রবিউল ইসলাম বলেন, সারা বছরই তাদের নদীর সঙ্গে লড়াই করে বসবাস করতে হয়। বাঁধ ভেঙে পানি ঢুকলে ঘরবাড়ির পাশাপাশি ফসল ও মৎস্যঘেরের ব্যাপক ক্ষতি হবে।

আরেক বাসিন্দা নূরে আলম সিদ্দিকী বলেন, সকাল থেকে স্থানীয়রা স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভাঙন মোকাবিলায় কাজ করছেন। দ্রুত বালি ভরাট করে ভাঙনস্থল মেরামত না করা হলে ভাঙন আরও বিস্তৃত হতে পারে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলোতে আগে থেকে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হলে এমন পরিস্থিতি তৈরি হতো না। তাদের দাবি, সাময়িকভাবে মাটি ও বালি ফেলার পাশাপাশি ঝুঁকিপূর্ণ পুরো অংশ পরীক্ষা করে স্থায়ী প্রতিরোধকাজ করতে হবে।

এদিকে ভাঙনস্থলের পাশ দিয়ে যাওয়া ওয়াপদা সড়কের একটি অংশও ধসে পড়েছে। ফলে যানবাহন ও সাধারণ মানুষের চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। ভাঙন বাড়লে সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে।

আশাশুনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শ্যামানন্দ কুণ্ডু বলেন, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে স্থানীয় চেয়ারম্যানকে প্রাথমিকভাবে কাজ শুরু করতে বলা হয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডকেও বিষয়টি জানানো হয়েছে।

সাতক্ষীরা পানি উন্নয়ন বিভাগ-২-এর নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুর রহমান তাযকিয়া বলেন, প্রায় ৫০ মিটার বেড়িবাঁধে ভাঙন দেখা দিয়েছে। ঘটনাস্থল পরিদর্শনের জন্য কর্মকর্তারা রওনা হয়েছেন এবং দ্রুত কাজ শুরু করা হবে।

তবে স্থানীয়দের আশঙ্কা, সাময়িকভাবে বালি ও মাটি ফেলে ভাঙন ঠেকানো হলেও স্থায়ী ব্যবস্থা না নিলে জোয়ারের পানির চাপে বাঁধের দুর্বল অংশ আবারও ধসে পড়তে পারে। দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়া হলে বড় ধরনের জনপদ ও সম্পদহানির আশঙ্কা করছেন তারা।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি 

প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক: মো: শামসুল আলম খান | ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: এম. আব্দুল্লাহ আল মামুন খান | কপিরাইট © কালের আলো সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন